‘ই-পাসপোর্ট কর্মসূচিতে আমরা সরকারকে সহযোগিতা করছি’

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৫ মার্চ ২০২০, ২০:৪৯:৩১ | অনলাইন সংস্করণ

সিসকোর ভারত ও সার্ক অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুধীর নায়ার। ছবি: যুগান্তর

বাংলাদেশের ই-পাসপোর্ট কর্মসূচিতে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক প্রযুক্তি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সিসকো। ১৯৯৮ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ সরকারসহ বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে। বাংলাদেশে ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রসার ও এর চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে দৈনিক যুগান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন সিসকোর ভারত ও সার্ক অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুধীর নায়ার।

২৭ বছরের বেশি সময় ধরে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করা সুধীর নায়ার মনে করেন দক্ষ জনবলের অভাব ডিজিটালাইজেশনের বড় প্রতিবন্ধক। তাঁর মতে, লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি। সম্প্রতি তিনি ঢাকা সফর করেন। এ সময় তার সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন দৈনিক যুগান্তরের বিশেষ সংবাদদাতা মুজিব মাসুদ

যুগান্তর: বাংলাদেশে সিসকোর কাজ নিয়ে কিছু বলুন।

সুধীর নায়ার: ১৯৯৮ সাল থেকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করছি। এখন আমাদের ১২ হাজারেরও বেশি সিস্টেম ব্যবহার করছে কয়েক হাজার গ্রাহক। সার্ক অঞ্চলে বাংলাদেশেই বেশি বিকাশ ঘটেছে সিসকোর। যা ২০১৯ সালে ভারতের চেয়ে তিনগুণ বেশি ছিল। এখানে আমরা আমাদের জনবলও দ্বিগুণ করেছি।

যুগান্তর: বাংলাদেশে সিসকোর শীর্ষ পর্যায়ের গ্রাহক কারা?

সুধীর নায়ার: বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আমরা কাজ করি। ই-পাসপোর্ট কর্মসূচিতে আমরা সরকারকে সহযোগিতা করছি। এছাড়া ৮০ শতাংশ সরকারি কার্যালয়গুলোর ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে আমরা কাজ করি। পাশাপাশি সিসকোর টেকনোলজির আওতায় আছে দেশের অধিকাংশ ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

যুগান্তর: তথ্যের সংরক্ষণ এবং এর নিরাপত্তার বিষয় এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তথ্য প্রযুক্তি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিসকো কীভাবে গ্রাহকের তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে?

সুধীর নায়ার: প্রত্যেকটা টেকনোলজির অন্যতম বিষয় হচ্ছে ডাটা সিকিউরিটি। তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের নিজস্ব ব্যবস্থা আছে। এটা এমন না যে, আমরা পণ্য বিক্রি করলাম আর বলে দিলাম আপনি নিরাপদ। যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি আর কর্মীদের সমন্বয়ে একটি বড় ধরনের সেন্টার আমাদের রয়েছে। ওই সেন্টার তথ্যের ওপর আসা হুমকিগুলো চিহ্নিত করে। যখনই কোনো হুমকির সন্ধান মিলে, সঙ্গে সঙ্গেই আমরা আমাদের গ্রাহকের তথ্য রক্ষার জন্য কাজ শুরু করি। আমরা যখন এর সমাধান পেয়ে যাই, গ্রাহকদের এ ব্যাপারে আপডেট করে দেই। সমস্যা সমাধানে বিশ্বের সবচেয়ে সেরা বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হয় আমরা সেই ব্যবস্থাও করি।

যুগান্তর: সিসকো বাংলাদেশে দুই দশক ধরে কাজ করছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জগুলো কী?

সুধীর নায়ার: দক্ষ জনবলের অভাব। এত বছর আমরা এ অভিজ্ঞতারই সম্মুখীন হয়েছি। এটা আসলে উন্নয়নশীল দেশের প্রধান সমস্যা। আমাদের দক্ষ জনবল প্রয়োজন। আর এজন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বাস্তবসম্মত ও অভিজ্ঞতা নির্ভর করতে হবে।

যুগান্তর: সিসকো এ দিকের উন্নয়নে কি কিছু করছে?

সুধীর নায়ার: আমরা বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫টি প্রতিষ্ঠান করেছি। ৩৮ হাজার শিক্ষার্থীকে এরই মধ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সাল নাগাদ সংখ্যাটা ৫০ হাজার করতে চায় সিসকো। প্রযুক্তিখাতের প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সংক্রান্ত জ্ঞানের ব্যাপারে সাহায্য করি। তাদের কাছে প্রযুক্তি জ্ঞানটা সহজ করার চেষ্টা করি। যাতে তারা সহজে ধরতে পারে আর কাজে দক্ষ হয়ে উঠতে পারে। আপনার কাছে দক্ষ জনবল থাকলে আপনি সব করতে পারবেন।

যুগান্তর: বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে প্রসার ঘটছে। ডিজিটাল ব্যবস্থায় এ শিল্পকে কি সহযোগিতা করছেন?

সুধীর নায়ার: ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে সিসকো। যেহেতু তাদের প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন কর্মীর অভাব আছে, তাই প্রোডাক্ট ইন্সটল করা যেন সহজ হয় সে উদ্দেশ্যে আমরা কাজ করেছি এবং সামনে আরও কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

যুগান্তর: ২০২১ সালে সরকার বাংলাদেশে ফাইভ-জি চালু করতে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে আপনাদের পরিকল্পনা কী?

সুধীর নায়ার: আমরা কোর টেকনোলজি’নিয়ে কাজ করি। ফাইভ-জিপ্রোডাক্ট দেওয়ার জন্য সিসকো প্রস্তুত আছে। যে কোনো টেলিকম প্রোভাইডার আমাদের সাহায্য নিতে পারে। অনেক টেলিকম প্রতিষ্ঠান আমাদের পণ্য ব্যবহার করছে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত