করোনা মোকাবেলায় জরুরি তহবিল গঠন করুন: সরকারকে ডিসিসিআই

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৩ এপ্রিল ২০২০, ২০:৫১:১৭ | অনলাইন সংস্করণ

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। এমএসএমই ও অপ্রচলিত খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

এসব খাতের বেতনাদি পরিশোধ, সহায়তা দিতে সরকারকে জরুরি তহবিল গঠনের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে এ আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রচলিত ও অপ্রচলিত খাতে অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র এবং মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান (এমএসএমই) অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও বর্তমানে এই শ্রেণির আর্থিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। অর্থনীতির সব স্তরে এমএসএমই’র অন্তর্ভুক্ত সব খাত করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এখন অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত। অনেক এমএসএমই সীমিত বেচা-কেনা ও পুঁজি সংকটের কারণে খুব খারাপ সময় অতিবাহিত করছে। তাদের অনেকেই সময়মতো শ্রমিক এবং কর্মচারীদের বেতনাদি পরিশোধ করতে পারছে না, যা বেকারত্ব বৃদ্ধির আশংকা তৈরি করেছে।

এর প্রেক্ষিতে ১ শতাংশ সুদে ৩ বছর মেয়াদি জরুরি তহবিল গঠনের আহ্বান জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যে সব এমএসএমই’র বার্ষিক টার্নওভার ১ কোটি টাকা তাদের জন্য ১ শতাংশ এবং যে সব এমএসএমই’র বার্ষিক টার্নওভার ১ কোটি টাকার ওপর তাদের জন্য ২ শতাংশ হারে জরুরি তহবিল থেকে ঋণ প্রদান করা যেতে পারে। সারা দেশে বিসিক শিল্প নগরীর অন্তর্ভুক্ত কারখানাগুলোও এ বিশেষ জরুরি তহবিলের আওতায় আসতে পারে। আর এই ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে এমএসএমই'র জন্য ১ বছরের গ্রেস পিরিয়ড প্রদান করা যেতে পারে।

এমএসএমই খাতের ঋণের সুদ এক বছরের জন্য মওকুফের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমএসএমই খাতের জন্য অনাদায়ী দেনা আদায় হওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়বে। কেননা সব ব্যবসায়ীরাই একই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ ধরণের অনিশ্চিত সময়ে এমএসএমই’র জন্য তারল্য সংকট দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এমএসএমই’র জন্য প্রদত্ত ঋণের সুদ আগামী ১ বছরের জন্য মওকুফ করা দরকার।

পাশাপাশি এমএসএমই’র অর্থায়ন সহজলভ্য করতে স্বল্প সুদে এবং সহজতর জামানত শর্তে বিদ্যমান পুনঃঅর্থায়ন (এসএমই রিফিন্যান্সিং) তহবিলকে পূর্ব-অর্থায়ন (এসএমই প্রিফিন্যান্সিং) তহবিলে রূপান্তর করা যেতে পারে। তাছাড়া করের বোঝা লাঘব করতে চলতি অর্থবছরের আয়কর জমা স্থগিত রেখে তা আগামী তিন বছরে সমান তিনটি কিস্তিতে ভাগ করে রিটার্নের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে জরিমানা ছাড়া দেয়ার সুযোগ দেয়া যেতে পারে।

সরকারি স্থাপনা ভাড়া মওকুফের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, বেশিরভাগ এমএসএমই ভাড়া করা জায়গায় ব্যবসা পরিচালনা করে। যে সব এমএসএমই সরকারি জায়গায় যেমন বিসিক শিল্প নগরী বা ইপিজেড এলাকায় অবস্থিত, তাদের ভাড়া ছয় মাসের জন্য মওকুফ করতে হবে।

এছাড়া বাণিজ্যিক ভাড়া, বিদুৎ, গ্যাস ও পানির বিল এবং লাইসেন্স নবায়নের ওপর প্রযোজ্য ভ্যাট আগামী ছয় মাসের জন্য মওকুফ করা যেতে পারে।

এতে আরও বলা হয়, এই অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে সমুদ্র ও স্থল বন্দরগুলোতে কন্টেইনার খালাস কার্যক্রম শ্লথ হয়ে গেছে। বিলম্বে খালাসের জন্য আমদানিকারকদের অতিরিক্ত জরিমানা গুনতে হচ্ছে। বন্দরের সীমিত কার্যক্রম বিবেচনায় রফতানিমুখী ও আমদানিকারক এমএসএমই ব্যবসায়ীদের জন্য বিলম্ব জরিমানা ও ব্যাংক চার্জ মওকুফ করার জন্য বিজ্ঞপ্তিতে আহ্বান জানানো হয়।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত