প্রণোদনা না পেলে পথে বসবে আমাদের ১ লাখ ২০ হাজার পরিবার: হাব সভাপতি
jugantor
প্রণোদনা না পেলে পথে বসবে আমাদের ১ লাখ ২০ হাজার পরিবার: হাব সভাপতি

  উবায়দুল্লাহ বাদল  

১৩ এপ্রিল ২০২০, ২১:২৬:৫২  |  অনলাইন সংস্করণ

হাব সভাপতি এম. শাহাদত হোসাইন তসলিম

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে চলতি বছর হজ কার্যক্রম স্থগিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে এজেন্সী মালিকদের সংগঠন ‘হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)’। একই কারণে গত ২৬ ফেব্রয়ারি ওমরাহ বন্ধ ঘোষণা করে সৌদি সরকার।

এ অবস্থায় প্রতিক্রিয়ায় হাব সভাপতি এম. শাহাদত হোসাইন তসলিম যুগান্তরকে বলেছেন, ‘ওমরাহ বন্ধ থাকা ও আসন্ন হজ অনুষ্ঠিত না হলে ওমরাহ ও হজ এজেন্সিগুলোর সর্বসাকুল্যে বাণিজ্যিক লোকসানের পরিমাণ দাঁড়াবে ৬ হাজার ১২৫ কোটি টাকার বেশি।

পবিত্র হজ ও ওমরাহর মত স্পর্শকাতর এই খাতটি সচল রাখতে সরকারের কাছে প্রণোদনাও দাবি করেন তিনি।

তার মতে, প্রণোদনা দেয়া না হলে এ খাতে সংশ্লিষ্ট এক লাখ ২০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিবার পথে বসবে। বেকার হবেন এ খাতের এই মানুষগুলো। শনিবার হাব সভাপতি যুগান্তরের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান।

হাব সভাপতি বলেন, ‘আমাদের এ খাতে প্রতি বছর বাণিজ্যিক লেনদেন হয় ৬ হাজার ১২৫ কোটি টাকার উপরে। করোনার কারণে আমাদের এ খাতের ব্যবসা পুরোই বন্ধ। রমজান মাসে ওমরার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন সময়। ওমরাহ বন্ধ রয়েছে ফেব্রুয়ারি থেকে। আর এ বছর যদি হজ অনুষ্ঠিত না হয় তবে আমাদের নীট লোকসান হবে ২০০ কোটি টাকার বেশি। এ খাতের ব্যবসায়ীদের স্টাফ বেতন, অফিস ভাড়াসহ

আনুষাঙ্গিক খরচ হিসাব করলে আমাদের সবমিলিয়ে ৬ হাজার ১২৫ কোটি টাকার ক্ষতি হবে। এ জন্য আমরা মাননীয় অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রণোদনা দেয়ার দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছে। প্রণোদনা না পেলে এ খাত সংশ্লিষ্ট এক লাখ ২০ হাজার মানুষ বেকার হয়ে পথে বসবে।’

এম শাহাদত হোসাইন তসলিম জানান, করোনার কারণে বন্ধ হওয়া ওমরাহ এবং হজ না হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হওয়ায় এজেন্সিগুলোর হয়ে যাওয়া ক্ষতি পূরণের জন্য নগদ প্রণোদনা দেয়ার দাবি জানিয়ে গত ৯ এপ্রিল অর্থমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে হাব। চিঠিতে তাদের জন্য দেড় হাজার

কোটি টাকা সুদমুক্ত ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণের ব্যবস্থা করা, ট্রাভেল এজেন্ট ও ট্যুর অপারেটদের জন্য প্রয়োজনীয় নগদ প্রণোদনার কথাও

বলা হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ-১ এর আওতায় ট্রাভেল এজেন্ট ট্যুর অপারেটরদের জন্য ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণসহ ৪ দফার বিশেষ অর্থনৈতিক প্রণোদনা প্রস্তাব দাবি করেছেন তারা।

ওই চিঠিতে বলা হয়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সৌদি সরকার ওমরাহ বন্ধ ঘোষণার পর ১০ হাজার ওমরাহ যাত্রীর ভিসা, এয়ার টিকিটের মূল্যবাবদ ১০০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। পাশাপাশি আসন্ন রমজান মাসে ওমরাহ হজে গমনকারীদের জন্য আরো ২৫ কোটি টাকা মূল্যের

৫ বাজার এয়ার টিকিট অগ্রিম কেনা হয়। এছাড়া কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মার্চ মাসের বেতন ও অন্যান্য অফিস খরচসহ প্রায় ৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। এ বাবদ লোকসানের পরিমাণ ১৭৫ কোটি টাকা।

আগামী রমজান পর্যন্ত কমপক্ষে আরও ১ লাখ লোক ওমরাহ করানোর জন্য প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল। এক্ষেত্রে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হতো। এছাড়াও এবছর বেসরকারিভাবে ১ লাখ ২০ হাজার হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। যদি কোনো কারণে চলতি বছর তারা হজে যেতে না পারেন তাহলে এ বাবদ ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষতির পরিমাণ হবে ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। লোকসান পূরণের কোনো সম্ভাবনা থাকবে না। এ অর্থবছরের

শেষ অর্থাৎ আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত হজ ও ওমরা হজ এজেন্সিসমূহের ওভারহেড খরচ যেমন অফিস ভাড়া ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি মাসিক প্রায় ৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। ফলে অসংখ্য এজেন্সি সারা বছরের অফিস ভাড়া ও কর্মচারীদের বেতন

পরিশোধ করার সক্ষমতা হারাবে। করেনাভাইরাসের কারণে এ সেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হলে আগামীতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ১০ হাজার কর্মচারী এবং বাংলাদেশ ও সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিসহ পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় এক লাখ ব্যক্তির চাকরি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

ট্যুরিজম সেক্টরের ক্ষতি প্রসঙ্গে চিঠিতে বলা হয়, সদস্যদের সবাই ট্রাভেল এজেন্ট, অনেকেই ট্যুর অপারেটর এবং পর্যটন শিল্পের অন্যান্য সেক্টরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাদের অনেকেই অ্যাভিয়েশন, দেশি-বিদেশি ট্যুরিজম, হোটেল রিসোর্ট ব্যবসা ও টুরিস্ট ট্রান্সপোর্টেশন ইত্যাদি ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। হাবের অনেক সদস্য এখানেও ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এই সেক্টরের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

তাই হাব সদস্য, হজ, ওমরাহ ও ট্রাভেল এজেন্সির অপারেটরসহ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের বাঁচিয়ে রাখতে বিশেষ অর্থনৈতিক সুবিধা দেয়ার অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে।

প্রণোদনা না পেলে পথে বসবে আমাদের ১ লাখ ২০ হাজার পরিবার: হাব সভাপতি

 উবায়দুল্লাহ বাদল 
১৩ এপ্রিল ২০২০, ০৯:২৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
হাব সভাপতি এম. শাহাদত হোসাইন তসলিম
হাব সভাপতি এম. শাহাদত হোসাইন তসলিম। ফাইল ছবি

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে চলতি বছর হজ কার্যক্রম স্থগিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে এজেন্সী মালিকদের সংগঠন ‘হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)’। একই কারণে গত ২৬ ফেব্রয়ারি ওমরাহ বন্ধ ঘোষণা করে সৌদি সরকার।

এ অবস্থায় প্রতিক্রিয়ায় হাব সভাপতি এম. শাহাদত হোসাইন তসলিম যুগান্তরকে বলেছেন, ‘ওমরাহ বন্ধ থাকা ও আসন্ন হজ অনুষ্ঠিত না হলে ওমরাহ ও হজ এজেন্সিগুলোর সর্বসাকুল্যে বাণিজ্যিক লোকসানের পরিমাণ দাঁড়াবে ৬ হাজার ১২৫ কোটি টাকার বেশি।

পবিত্র হজ ও ওমরাহর মত স্পর্শকাতর এই খাতটি সচল রাখতে সরকারের কাছে প্রণোদনাও দাবি করেন তিনি।

তার মতে, প্রণোদনা দেয়া না হলে এ খাতে সংশ্লিষ্ট এক লাখ ২০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিবার পথে বসবে। বেকার হবেন এ খাতের এই মানুষগুলো। শনিবার হাব সভাপতি যুগান্তরের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান।

হাব সভাপতি বলেন, ‘আমাদের এ খাতে প্রতি বছর বাণিজ্যিক লেনদেন হয় ৬ হাজার ১২৫ কোটি টাকার উপরে। করোনার কারণে আমাদের এ খাতের ব্যবসা পুরোই বন্ধ। রমজান মাসে ওমরার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন সময়। ওমরাহ বন্ধ রয়েছে ফেব্রুয়ারি থেকে। আর এ বছর যদি হজ অনুষ্ঠিত না হয় তবে আমাদের নীট লোকসান হবে ২০০ কোটি টাকার বেশি। এ খাতের ব্যবসায়ীদের স্টাফ বেতন, অফিস ভাড়াসহ

আনুষাঙ্গিক খরচ হিসাব করলে আমাদের সবমিলিয়ে ৬ হাজার ১২৫ কোটি টাকার ক্ষতি হবে। এ জন্য আমরা মাননীয় অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রণোদনা দেয়ার দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছে। প্রণোদনা না পেলে এ খাত সংশ্লিষ্ট এক লাখ ২০ হাজার মানুষ বেকার হয়ে পথে বসবে।’

এম শাহাদত হোসাইন তসলিম জানান, করোনার কারণে বন্ধ হওয়া ওমরাহ এবং হজ না হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হওয়ায় এজেন্সিগুলোর হয়ে যাওয়া ক্ষতি পূরণের জন্য নগদ প্রণোদনা দেয়ার দাবি জানিয়ে গত ৯ এপ্রিল অর্থমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে হাব। চিঠিতে তাদের জন্য দেড় হাজার

কোটি টাকা সুদমুক্ত ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণের ব্যবস্থা করা, ট্রাভেল এজেন্ট ও ট্যুর অপারেটদের জন্য প্রয়োজনীয় নগদ প্রণোদনার কথাও

বলা হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ-১ এর আওতায় ট্রাভেল এজেন্ট ট্যুর অপারেটরদের জন্য ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণসহ ৪ দফার বিশেষ অর্থনৈতিক প্রণোদনা প্রস্তাব দাবি করেছেন তারা।

ওই চিঠিতে বলা হয়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সৌদি সরকার ওমরাহ বন্ধ ঘোষণার পর ১০ হাজার ওমরাহ যাত্রীর ভিসা, এয়ার টিকিটের মূল্যবাবদ ১০০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। পাশাপাশি আসন্ন রমজান মাসে ওমরাহ হজে গমনকারীদের জন্য আরো ২৫ কোটি টাকা মূল্যের

৫ বাজার এয়ার টিকিট অগ্রিম কেনা হয়। এছাড়া কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মার্চ মাসের বেতন ও অন্যান্য অফিস খরচসহ প্রায় ৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। এ বাবদ লোকসানের পরিমাণ ১৭৫ কোটি টাকা।

আগামী রমজান পর্যন্ত কমপক্ষে আরও ১ লাখ লোক ওমরাহ করানোর জন্য প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল। এক্ষেত্রে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হতো। এছাড়াও এবছর বেসরকারিভাবে ১ লাখ ২০ হাজার হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। যদি কোনো কারণে চলতি বছর তারা হজে যেতে না পারেন তাহলে এ বাবদ ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষতির পরিমাণ হবে ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। লোকসান পূরণের কোনো সম্ভাবনা থাকবে না। এ অর্থবছরের

শেষ অর্থাৎ আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত হজ ও ওমরা হজ এজেন্সিসমূহের ওভারহেড খরচ যেমন অফিস ভাড়া ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি মাসিক প্রায় ৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। ফলে অসংখ্য এজেন্সি সারা বছরের অফিস ভাড়া ও কর্মচারীদের বেতন

পরিশোধ করার সক্ষমতা হারাবে। করেনাভাইরাসের কারণে এ সেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হলে আগামীতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ১০ হাজার কর্মচারী এবং বাংলাদেশ ও সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিসহ পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় এক লাখ ব্যক্তির চাকরি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

ট্যুরিজম সেক্টরের ক্ষতি প্রসঙ্গে চিঠিতে বলা হয়, সদস্যদের সবাই ট্রাভেল এজেন্ট, অনেকেই ট্যুর অপারেটর এবং পর্যটন শিল্পের অন্যান্য সেক্টরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাদের অনেকেই অ্যাভিয়েশন, দেশি-বিদেশি ট্যুরিজম, হোটেল রিসোর্ট ব্যবসা ও টুরিস্ট ট্রান্সপোর্টেশন ইত্যাদি ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। হাবের অনেক সদস্য এখানেও ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এই সেক্টরের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

তাই হাব সদস্য, হজ, ওমরাহ ও ট্রাভেল এজেন্সির অপারেটরসহ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের বাঁচিয়ে রাখতে বিশেষ অর্থনৈতিক সুবিধা দেয়ার অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন