সোনামসজিদে রাজস্ব আয়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা

  শিবগঞ্জ প্রতিনিধি ২২ মার্চ ২০১৮, ০০:০৮ | অনলাইন সংস্করণ

বন্দর

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রার অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয় কাস্টমস অফিস।

ইতোমধ্যে প্রথম আট মাসে রাজস্ব আদায়ে ধস নেমেছে। রাজস্ব বোর্ডের বেঁধে দেয়া লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে সোনামসজিদ কাস্টমস।

সোনামসজিদ কাস্টমস সূত্র জানায়, চলতি আট মাসে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৩৫ কোটি ৯৭ লাখ ১৪ হাজার টাকা এর বিপরীতে আয় হয়েছে ২২০ কোটি ৯২ লাখ ৮ হাজার টাকা।

সে হিসেবে অর্থবছরের আট মাসের সোনামসজিদ কাস্টমসের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১৫ কোটি ৫ লাখ ৬ হাজার টাকা রাজস্ব আয় কম হয়েছে।

গত জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে রাজস্ব আয়ে বড় ধরণের ধস নেমেছে বিভিন্ন কারণে। এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার পেছনে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ- রাজস্ব আয়ের পরিমাণ বাড়াতে গিয়ে সোনামসজিদ কাস্টমস আমদানিকৃত সব ধরণের পণ্যের শুল্কমূল্য দফায় দফায় বৃদ্ধি করা হয়েছে।

পাশাপাশি নানামুখী হয়রানির ফলে আমদানিকারকেরা সোনামসজিদ বন্দর ছেড়ে অন্য স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি করছে। মূলত এসব কারণে সোনামসজিদে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা আয়ে বড় ধরণের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানি গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুর রহমান বাবু জানান, এ বন্দর দিয়ে আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আয়ে ধস নেমেছে।

তিনি আরও জানান, ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্য যথা সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ছাড়করণের বিলম্ব করে থাকে। এছাড়াও আমদানীকৃত

পণ্য ছাড়ে কাস্টমসের কড়াকড়ি, নিয়মিত পণ্য ছাড়ে বিলম্ব, সোনামসজিদ কাস্টমস কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোনো ধরণের আলোচনা না করেই আমদানিকৃত

পণ্যের শুল্কায়ন মূল্য বৃদ্ধি করে ইচ্ছামতো এইচএস কোড পরিবর্তন করায় আমদানিকারকেরা এ বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানিতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

এছাড়াও পানামা ইয়ার্ডের অভ্যন্তরে জনবল সংকট, ট্রাফিক ব্যবস্থা দুর্বল, ইয়ার্ডের ভেতরে রাস্তা খারাপ থাকায় ট্রাক লোড, অনলোডের পরে যানজোটের সৃষ্টি হয়ে থাকে।

অন্যদিকে বিভিন্ন সংগঠন ভারত বাংলা ট্রাক থেকে চাঁদা আদায় করে, এসমস্ত কারণেই সোনামসজিদ স্থলবন্দর ছেড়ে অন্য বন্দরে চলে যাচ্ছে আমদানিকারকেরা। ফলে একদিকে পণ্য আমদানী কমছে এবং সেই সাথে রাজস্ব আয় লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে।

সোনামসজিদের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র কাস্টমস অফিসের হয়রানী নয়, পানামার ভেতরেও পণ্য ছাড়ে হয়রানীর শিকার হতে হয়।

বিভিন্ন ধরনের হয়রানী ও পণ্য ছাড়ের জটিলতা ব্যাপারে সোনামসজিদে দায়িত্বরত সহকারী কাস্টমস কমিশনার সোলাইমান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বন্দরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কাস্টমসের নিয়মনীতি মোতাবেক আমদানিকৃত পণ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ছাড়করণ করা হয়।

তিনি আরও জানান, আমদানিকৃত পণ্য সোনামসজিদ পানামা ইয়ার্ডের ভেতরে প্রবেশের পর এক মাসেও কোন কোন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বিল অব এন্ট্রি দাখিল করেননা।

এছাড়া কোন কোন ব্যবসায়ী আমদানীকৃত পণ্যের রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করে। এ বিষয়গুলো বন্ধের জন্য ব্যবস্থা নেয়ার কারণেই অনেক ব্যবসায়ী কাস্টমস অফিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে থাকে।

গেল আট মাস থেকে বিভিন্ন ধরণের পণ্য আমদানী কমে যাওয়ায় রাজস্ব আয়ও কমেছে। তিনি জানিয়েছেন- আট মাসের রাজস্ব আদায় থেকে চলতি আর্র্থিক বছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি। গত আট মাস থেকে এ বন্দর দিয়ে ফল আমদানী হয়নি বললেই চলে।

সোনামসজিদ স্থলবন্দরে কাস্টমসের কড়াকড়ি ও হয়রানীর কারণে আমদানীকৃত কারকেরা অন্য বন্দর চলে যাচ্ছে। বর্তমানে এ বন্দর দিয়ে আসছে ছাই, পাথর, পেঁয়াজ ও ভুষি।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.