বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতি

৭ জানুয়ারি দুদকে হাজির হতে বাচ্চুকে নোটিশ

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৪ জানুয়ারি ২০১৮, ২১:০০ | অনলাইন সংস্করণ

বেসিক
ফাইল ছবি

বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুকে আগামী ৭ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) হাজির হতে নোটিশ দেয়া হয়েছে।

বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতির ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তৃতীয় দফায় হাজির হতে তাকে এ নোটিশ দেয়া হলো।

এর আগে ৪ ও ৬ ডিসেম্বর দুই দফায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। এর ধারাবাহিকতায় ১৭ ডিসেম্বর তাকে দুদকে হাজির হতে নোটিশ করা হলে তিনি ওই দিন হাজির না হয়ে অসুস্থ মর্মে এক মাসের সময় চেয়ে একটি আবেদন পাঠান।

সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, অসুস্থ হয়ে তিনি রাজধানীর এপোলো হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কিন্তু দুদক গোপনে অনুসন্ধান করে জানতে পারে, বাচ্চু মাত্র একদিন হাসপাতালে ভর্তি দেখিয়েছেন মাত্র। পরে অসুস্থতার মিথ্যা তথ্য দেয়ায় তার আবেদন নাকচ করে দেয় দুদক।

দুদকের গণসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য যুগান্তরকে জানান, বেসিক ব্যাংকের ঋণ অনিয়মের ঘটনায় দায়ের করা ৫৬টি মামলার মধ্যে ৯টি মামলায় বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বাকি ৪৭টি মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ জন্য নোটিশ দিয়ে তাকে আসতে বলা হয়েছে।

২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে বেসিক ব্যাংকের অর্থ লোপাটের ঘটনায় দুদক যে ৫৬টি মামলা করে সেসব মামলায় বাচ্চু ছিলেন অধরা। বাচ্চু ও পর্ষদের দায় নিরূপণে তাদের মামলার আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উচ্চ আদালত থেকে নির্দেশনা আসার পরই মূলত বেসিক ব্যাংক মামলার তদন্তের মোড় ঘুরে যায়।

দুদকের দুই দফা জিজ্ঞাসাবাদে বাচ্চু ঋণ অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, তিনি একা নন। পর্ষদেরও দায় আছে। সেই সঙ্গে তিনি ঋণ অনিয়মের সঙ্গে ব্যাংকের সাবেক এমডি কাজী ফখরুল ইসলামসহ তিনজন ডিএমডি ও তিনজন শাখা ম্যানেজারের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটকে দায়ী করেছেন। বাচ্চু ছাড়া অপর ১০ জন পর্ষদ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করেছে দুদক।

আবদুল হাই বাচ্চুকে ২০০৯ সালে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয় সরকার। ২০১২ সালে তার নিয়োগ নবায়নও হয়। কিন্তু ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠলে ২০১৪ সালে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ফখরুল ইসলামকে অপসারণ করার পর চাপের মুখে থাকা বাচ্চু পদত্যাগ করেন।

অন্যদিকে, বাচ্চু ও তার স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ১১ সদস্যের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। দুদকের উপপরিচালক সামসুল আলম অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ১১ জনের হালনাগাদ ব্যাংক হিসাব চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। দুদকের চিঠির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সব তফসিলি ব্যাংকে চিঠি পাঠিয়ে বুধবারের (৩ জানুয়ারি) মধ্যে ১১ জনের ব্যাংকিং লেনদেনের হাল নাগাদ তথ্য দিতে বলা হয়েছে। একটি তফসিলি ব্যাংক থেকে তথ্য পাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক দুদকের কাছে তা পাঠিয়ে দেবে।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.