ভুল সিদ্ধান্তে শেয়ারবাজারে ক্ষতিতে বিনিয়োগকারীরা
jugantor
বিএসইসির চেয়ারম্যান
ভুল সিদ্ধান্তে শেয়ারবাজারে ক্ষতিতে বিনিয়োগকারীরা

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

৩১ মে ২০২১, ১৯:৩৬:৫৫  |  অনলাইন সংস্করণ

শেয়ারবাজার অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এখানে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ জরুরি। কিন্তু বাজার সম্পর্কে ধারনা ছাড়া ভুল সিদ্ধান্তে বিনিয়োগ করে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর দোষ দিচ্ছে নিয়ন্ত্রণসংস্থার। এ অবস্থার উত্তরণে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই।

সোমবার এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ একাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেটসের (বিএএসএম) নতুন ক্যাম্পাস উদ্বোধন উপলক্ষ্যে রাজধানীর জীবন বীমা ভবনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, আব্দুল হালিম, বিএএসএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী, আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. কিসমাতুল আহসান এবং শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ খান প্রমুখ।

বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, দেশে আজকের যে উন্নয়ন, তার নেপথ্যে রয়েছে শিক্ষা। পাকিস্তান আমলে আমাদের শিক্ষার হার ছিল খুবই কম। কিন্তু বর্তমানে তা ৭০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এজন্যই দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। প্রয়োজনীয় শিক্ষার অভাবেই আমাদের বেকারত্ব।

তিনি বলেন, দেশের দেশে অনেক বেকার রয়েছে। কিন্তু গার্মেন্টস শিল্প ও ওষুধ শিল্পে লোক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ইঞ্জিনিয়ারিংখাতে বিদেশ থেকে লোক এনে চাকরি দিচ্ছে। এ উত্তরণে প্রয়োজনীয় শিক্ষা ব্যবস্থা জরুরি।

শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, শিক্ষার অভাবটি শেয়ারবাজারে খুব বেশি অনুভব হচ্ছে।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএসইসি বা স্টক এক্সচেঞ্জ কারও পোর্টফোলিও ম্যানেজ করে না। কে কোন শেয়ার কিনবে বা বিক্রি করবে, ব্যাক্তিগত ব্যাপার। শেয়ারবাজারে নিয়ন্ত্রক সংস্থার মনিটরিং বা সুপারভিশনে কিছু ভুল থাকতে পারে। তবে কোনো ধরনের কারসাজি বা অপরাধ সংঘটিত হলে, তার দায়িত্ব আমাদের। কিন্তু কারো ব্যক্তিগত পোর্টফোলিও ম্যানেজ করার দায়িত্ব বিএসইসির নয়।

শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম আরও বলেন, ‘আমরা চাই একজন বিনিয়োগকারী তার সঠিক জ্ঞানের মাধ্যমে বিনিয়োগ করবে। যার মাধ্যমে তিনি তার কষ্টের অর্থের ভালো রিটার্ন পাবেন। আর বিনিয়োগকারীদের এই জ্ঞান অর্জনের জন্য শেয়ারবাজার নিয়ে ট্রেনিং প্রোগ্রাম করি। এছাড়াও যারা বিনিয়োগকারীদের লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেইসব ডিলারদেরও শিক্ষার দরকার আছে।’

একটা বেকার ছেলেকে এনে ডিলার হিসেবে চাকরি দিয়ে দিলেই হবে না। তাদেরকে ট্রেনিং দিতে হবে। তা না হলে তিনি ঠিকমতো কাজ করতে পারবেন না। এছাড়া তাদের ভুলের কারণে বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি না বুঝে বিনিয়োগকারীদের এমন একটা বিষয় বললেন, যা মুহুর্তেই বাজারে আতংক তৈরি করতে পারে। তাই ডিলারদেরও প্রশিক্ষণ জরুরি। তালিকাভুক্ত কোম্পানির ব্যাপারে তিনি বলেন, মূলত তিনটি কারণে যে কোনো কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসে।

এগুলো হল- মূলধন সংগ্রহ, কর কমানোসহ আর্থিকসুবিধা এবং সম্পদের সঠিক মূল্যায়ন। এক্ষেত্রে ভালো কোম্পানি বাজারে আনতে হলে এই সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। একাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেটস প্রসঙ্গে বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, একাডেমির অফিসটি উদ্বোধন করা হলো।

এখানে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ সুবিধা থাকবে। কিছু জনবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আরও কিছু জনবল নিয়োগ চলছে। এক্ষেত্রে ভালো শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।’ এখানে স্থায়ী নিয়োগের পাশাপাশি অভিজ্ঞদের এনে ট্রেনিং দেয়া হবে।

শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, ‘প্রথম দফায় আমরা অথোরাইজড ডিলারদের ট্রেনিং দেয়ার কর্মসূচী হাতে নিয়েছি।’ ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী, দক্ষ নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই বাজারকে টেকসই করা সম্ভব। এ কারণেই আমরা প্রশিক্ষণে জোর দিয়েছি।

বিএসইসির চেয়ারম্যান

ভুল সিদ্ধান্তে শেয়ারবাজারে ক্ষতিতে বিনিয়োগকারীরা

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
৩১ মে ২০২১, ০৭:৩৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

শেয়ারবাজার অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এখানে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ জরুরি। কিন্তু বাজার সম্পর্কে ধারনা ছাড়া ভুল সিদ্ধান্তে বিনিয়োগ করে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর দোষ দিচ্ছে নিয়ন্ত্রণসংস্থার। এ অবস্থার উত্তরণে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। 

সোমবার এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম এসব কথা বলেন। 

বাংলাদেশ একাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেটসের (বিএএসএম) নতুন ক্যাম্পাস উদ্বোধন উপলক্ষ্যে রাজধানীর জীবন বীমা ভবনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।  

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, আব্দুল হালিম, বিএএসএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী, আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. কিসমাতুল আহসান এবং শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ খান প্রমুখ।  

বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, দেশে আজকের যে উন্নয়ন, তার নেপথ্যে রয়েছে শিক্ষা। পাকিস্তান আমলে আমাদের শিক্ষার হার ছিল খুবই কম। কিন্তু বর্তমানে তা ৭০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এজন্যই দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। প্রয়োজনীয় শিক্ষার অভাবেই আমাদের বেকারত্ব। 

তিনি বলেন, দেশের দেশে অনেক বেকার রয়েছে। কিন্তু গার্মেন্টস শিল্প ও ওষুধ শিল্পে লোক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ইঞ্জিনিয়ারিংখাতে বিদেশ থেকে লোক এনে চাকরি দিচ্ছে। এ উত্তরণে প্রয়োজনীয় শিক্ষা ব্যবস্থা জরুরি। 

শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, শিক্ষার অভাবটি শেয়ারবাজারে খুব বেশি অনুভব হচ্ছে।  
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএসইসি বা স্টক এক্সচেঞ্জ কারও পোর্টফোলিও ম্যানেজ করে না। কে কোন শেয়ার কিনবে বা বিক্রি করবে, ব্যাক্তিগত ব্যাপার। শেয়ারবাজারে নিয়ন্ত্রক সংস্থার মনিটরিং বা সুপারভিশনে কিছু ভুল থাকতে পারে। তবে কোনো ধরনের কারসাজি বা অপরাধ সংঘটিত হলে, তার দায়িত্ব আমাদের। কিন্তু কারো ব্যক্তিগত পোর্টফোলিও ম্যানেজ করার দায়িত্ব বিএসইসির নয়। 

শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম আরও বলেন, ‘আমরা চাই একজন বিনিয়োগকারী তার সঠিক জ্ঞানের মাধ্যমে বিনিয়োগ করবে। যার মাধ্যমে তিনি তার কষ্টের অর্থের ভালো রিটার্ন পাবেন। আর বিনিয়োগকারীদের এই জ্ঞান অর্জনের জন্য শেয়ারবাজার নিয়ে ট্রেনিং প্রোগ্রাম করি। এছাড়াও যারা বিনিয়োগকারীদের লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেইসব ডিলারদেরও শিক্ষার দরকার আছে।’ 

একটা বেকার ছেলেকে এনে ডিলার হিসেবে চাকরি দিয়ে দিলেই হবে না। তাদেরকে ট্রেনিং দিতে হবে। তা না হলে তিনি ঠিকমতো কাজ করতে পারবেন না। এছাড়া তাদের ভুলের কারণে বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। 

তিনি না বুঝে বিনিয়োগকারীদের এমন একটা বিষয় বললেন, যা মুহুর্তেই বাজারে আতংক তৈরি করতে পারে। তাই ডিলারদেরও প্রশিক্ষণ জরুরি। তালিকাভুক্ত কোম্পানির ব্যাপারে তিনি বলেন, মূলত তিনটি কারণে যে কোনো কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসে। 

এগুলো হল- মূলধন সংগ্রহ, কর কমানোসহ আর্থিকসুবিধা এবং সম্পদের সঠিক মূল্যায়ন। এক্ষেত্রে ভালো কোম্পানি বাজারে আনতে হলে এই সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। একাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেটস প্রসঙ্গে বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, একাডেমির অফিসটি উদ্বোধন করা হলো। 

এখানে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ সুবিধা থাকবে। কিছু জনবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আরও কিছু জনবল নিয়োগ চলছে। এক্ষেত্রে ভালো শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।’ এখানে স্থায়ী নিয়োগের পাশাপাশি অভিজ্ঞদের এনে ট্রেনিং দেয়া হবে।  

শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, ‘প্রথম দফায় আমরা অথোরাইজড ডিলারদের ট্রেনিং দেয়ার কর্মসূচী হাতে নিয়েছি।’ ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী, দক্ষ নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই বাজারকে টেকসই করা সম্ভব। এ কারণেই আমরা প্রশিক্ষণে জোর দিয়েছি। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন