পাঁচ বছরে ১২০০ কোটি ডলার দেবে এডিবি
jugantor
পাঁচ বছরে ১২০০ কোটি ডলার দেবে এডিবি

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:০৮:২২  |  অনলাইন সংস্করণ

আগামী ৫ বছরে ১২০০ কোটি মার্কিন ডলার (১২ বিলিয়ন) সহায়তা (ঋণ ও অনুদান) দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটি বাংলাদেশের জন্য নতুন কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্র্যাটেজি (সিপিএস) চালু করেছে এবং নতুন এই কৌশলপত্রের আওতায় এ সহায়তা দেবে এডিবি।

প্রতিযোগিতা, কর্মসংস্থান এবং বেসরকারি খাতের উন্নয়ন বৃদ্ধি, সবুজ প্রবৃদ্ধি ও জলবায়ু অভিযোজন বৃদ্ধি এবং মানব পুঁজি ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করাই নতুন এই কৌশলপত্রের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

মঙ্গলবার এডিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ২০২১ থেকে ২০২৫ মেয়াদে নতুন এ কৌশলপত্র (সিপিএস) আগামী ৫ বছর সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পূরণে সাহায্য করবে। এটি করোনা মহামারি থেকে দ্রুত আর্থ-সামাজিক পুনরুদ্ধারেও সহায়তা করবে। এ সময়ের মধ্যে এডিবি তার সহায়তা ১০ বিলিয়ন থেকে ১২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করবে, যা গত ৫ বছরে ৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার ছিল।

এডিবির দক্ষিণ এশিয়ার মহাপরিচালক কেনিচি ইয়োকোমা বলেন- টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং যথাযথ নীতি ব্যবস্থা বাংলাদেশকে উন্নয়নের ভালো ফলাফল অর্জনে সহায়তা করেছে। এগিয়ে যাচ্ছে দেশের শিল্প। তবে রপ্তানি ভিত্তিতে বৈচিত্র্যায়ন প্রয়োজন। কৃষি পণ্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, হালকা প্রকৌশল এবং ফার্মাসিউটিক্যালসের মতো উৎপাদন এবং রপ্তানি সামগ্রীতে বৈচিত্র্যায়ন প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন বাজারে প্রবেশে সহায়তা করবে। সেই সঙ্গে কোভিড-১৯ মহামারি থেকে পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখবে এবং যথেষ্ট কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিবি বাংলাদেশে তার বেসরকারি খাতের কার্যক্রম আরও প্রসারিত করবে এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে উচ্চ স্তরের ফিন্যান্সিং অব্যাহত রাখবে। ব্যাংকিং খাতের উন্নতি, ব্যবসা করার সহজাত, ব্যবসার পরিবেশ এবং বিনিয়োগ পরিবেশ বেসরকারি খাতের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকে উন্নীত করতে সহায়তা করবে।

এতে বলা হয়েছে, সিপিএস প্যারিস চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জলবায়ু পরিবর্তন এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য দেশের উচ্চ দুর্বলতা মোকাবিলায় জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন এবং প্রশমন ও দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে সমর্থন করার জন্য এডিবি অপারেশনগুলো বাড়ানোরও পরিকল্পনা করেছে। জল, নদী এবং উপক‚লীয় অঞ্চলের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলো সরাসরি মোকাবিলা করার জন্য কর্মসূচির সম্প্রসারণের সময় জলবায়ু পরিবর্তনকে সংহত করার জন্য একটি সামগ্রিক পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দারিদ্র্য কমানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। বৈষম্য ও দারিদ্র্য কমাতে সুনির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন করা। এ ছাড়া অধিকতর ন্যায়সঙ্গত গ্রামীণ ও আঞ্চলিক উন্নয়ন, স্বল্পমূল্যের আবাসন এবং মৌলিক সেবায় বিনিয়োগ-দরিদ্রদের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশের লক্ষ্য দারিদ্র্যকে ২০ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ দশমিক ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা। সেই সঙ্গে চরম দারিদ্র্য ১০ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ দশমিক ৪ শতাংশে নিয়ে আসা। এডিবি নতুন কৌশল চলমান অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নকে সমর্থন করার জন্য সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় করে তৈরি করা হয়েছে।

পাঁচ বছরে ১২০০ কোটি ডলার দেবে এডিবি

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:০৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আগামী ৫ বছরে ১২০০ কোটি মার্কিন ডলার (১২ বিলিয়ন) সহায়তা (ঋণ ও অনুদান) দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটি বাংলাদেশের জন্য নতুন কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্র্যাটেজি (সিপিএস) চালু করেছে এবং নতুন এই কৌশলপত্রের আওতায় এ সহায়তা দেবে এডিবি। 

প্রতিযোগিতা, কর্মসংস্থান এবং বেসরকারি খাতের উন্নয়ন বৃদ্ধি, সবুজ প্রবৃদ্ধি ও জলবায়ু অভিযোজন বৃদ্ধি এবং মানব পুঁজি ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করাই নতুন এই কৌশলপত্রের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। 

মঙ্গলবার এডিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়েছে। 

এতে বলা হয়, ২০২১ থেকে ২০২৫ মেয়াদে নতুন এ কৌশলপত্র (সিপিএস) আগামী ৫ বছর সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পূরণে সাহায্য করবে। এটি করোনা মহামারি থেকে দ্রুত আর্থ-সামাজিক পুনরুদ্ধারেও সহায়তা করবে। এ সময়ের মধ্যে এডিবি তার সহায়তা ১০ বিলিয়ন থেকে ১২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করবে, যা গত ৫ বছরে ৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার ছিল।

এডিবির দক্ষিণ এশিয়ার মহাপরিচালক কেনিচি ইয়োকোমা বলেন- টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং যথাযথ নীতি ব্যবস্থা বাংলাদেশকে উন্নয়নের ভালো ফলাফল অর্জনে সহায়তা করেছে। এগিয়ে যাচ্ছে দেশের শিল্প। তবে রপ্তানি ভিত্তিতে বৈচিত্র্যায়ন প্রয়োজন। কৃষি পণ্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, হালকা প্রকৌশল এবং ফার্মাসিউটিক্যালসের মতো উৎপাদন এবং রপ্তানি সামগ্রীতে বৈচিত্র্যায়ন প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন বাজারে প্রবেশে সহায়তা করবে। সেই সঙ্গে কোভিড-১৯ মহামারি থেকে পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখবে এবং যথেষ্ট কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিবি বাংলাদেশে তার বেসরকারি খাতের কার্যক্রম আরও প্রসারিত করবে এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে উচ্চ স্তরের ফিন্যান্সিং অব্যাহত রাখবে। ব্যাংকিং খাতের উন্নতি, ব্যবসা করার সহজাত, ব্যবসার পরিবেশ এবং বিনিয়োগ পরিবেশ বেসরকারি খাতের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকে উন্নীত করতে সহায়তা করবে।

এতে বলা হয়েছে, সিপিএস প্যারিস চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জলবায়ু পরিবর্তন এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য দেশের উচ্চ দুর্বলতা মোকাবিলায় জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন এবং প্রশমন ও দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে সমর্থন করার জন্য এডিবি অপারেশনগুলো বাড়ানোরও পরিকল্পনা করেছে। জল, নদী এবং উপক‚লীয় অঞ্চলের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলো সরাসরি মোকাবিলা করার জন্য কর্মসূচির সম্প্রসারণের সময় জলবায়ু পরিবর্তনকে সংহত করার জন্য একটি সামগ্রিক পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দারিদ্র্য কমানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। বৈষম্য ও দারিদ্র্য কমাতে সুনির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন করা। এ ছাড়া অধিকতর ন্যায়সঙ্গত গ্রামীণ ও আঞ্চলিক উন্নয়ন, স্বল্পমূল্যের আবাসন এবং মৌলিক সেবায় বিনিয়োগ-দরিদ্রদের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশের লক্ষ্য দারিদ্র্যকে ২০ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ দশমিক ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা। সেই সঙ্গে চরম দারিদ্র্য ১০ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ দশমিক ৪ শতাংশে নিয়ে আসা। এডিবি নতুন কৌশল চলমান অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নকে সমর্থন করার জন্য সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় করে তৈরি করা হয়েছে। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন