আইডিআরএ চেয়ারম্যানকে কেন অপসারণ করা হবে না জানতে রুল
jugantor
আইডিআরএ চেয়ারম্যানকে কেন অপসারণ করা হবে না জানতে রুল

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২০:৪৮:৪০  |  অনলাইন সংস্করণ

দেশের বীমাখাতে বহুবির্তকিত বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেনের নিয়োগ কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে কেন তাকে অপসারণ করা হবে না তাও জানাতে বলা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক বিভাগের সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিব বরাবরও বৃহস্পতিবার এই রুল ইস্যু করা হয়েছে। বিনিয়োগকারী আবু সালেহ মোহাম্মদ আমিন মেহেদীর জনস্বার্থে রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন মুস্তাফিজুর রহমান খান ও ব্যারিস্টার কারিশমা জাহান।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্যারিস্টার কারিশমা জাহান। বৃহস্পতিবার তিনি যুগান্তরকে বলেন, উচ্চ আদালত রুল জারি করেছে। তবে কতদিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে হবে, তা সার্টিফাইট কপি পেলে বলতে পারব।

এদিকে মোশাররফ হোসেনের দুর্নীতি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে রিপোর্ট প্রকাশ করে যুগান্তর। এই রিপোর্টে ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং ডেল্টা লাইফে তার দুর্নীতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

উচ্চ আদালতে বৃহস্পতিবারের রুলে বলা হয়, আইডিআরএ চেয়ারম্যান ২০১৭ সালের ৯ মে ‘লাভস অ্যান্ড লাইভ অর্গানিকস’ নামে একটি কোম্পানি আরজেএসসিতে নিবন্ধন করেন। যার পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিজে এবং স্ত্রী জান্নাতুল মাওয়াকে পরিচালক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি ‘গুলশান ভ্যালি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামে আরেকটি কোম্পানি নিবন্ধন করেন। এটারও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি নিজে এবং পরিচালক স্ত্রী জান্নাতুল মাওয়া।

কিন্তু আইডিআরএ আইন, ২০১০ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি কোনো কোম্পানির বা সংস্থার পরিচালক বা অন্যে কোনো পদে নিযুক্ত থাকলে, তিনি কর্তৃপক্ষের সদস্য হইবার বা থাকিবার যোগ্য হইবেন না। ওই আইনের ধারা ৭(৩)(খ) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি চেয়ারম্যান বা সদস্য হইবার বা থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি তিনি বীমা মধ্যস্থতাকারী বা কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন কোন সংস্থার বা উক্তরুপ নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী হন বা তিনি কোনো কোম্পানি বা সংস্থার (সরকারি বা বেসরকারি) পরিচালক বা অন্য কোনো পদে নিযুক্ত থাকেন।

এদিকে ১৪ ধারার উপ-ধারা (১) এর বিধান সাপেক্ষে, সরকার আইডিআরএর চেয়ারম্যান বা যে কোনো সদস্যকে অপসারণ করতে পারবে, যদি তিনি (গ) এই আইনের অধীন চেয়ারম্যান বা সদস্য থাকার অযোগ্য হয়ে পড়েন। (২) উপধারা (১) এ বর্ণিত কারণে চেয়ারম্যান বা কোনো সদস্যকে তার পদে বহাল থাকিবার অযোগ্য মনে করিলে, সরকার উক্ত কারণের যথার্থতা যাচাই করিবার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবে এবং তদন্ত দাখিলের সময়সীমাও নির্ধারন করে দেবে।

এই আইনের পরেও দুটি কোম্পানির পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হয়ে থাকা অবস্থায় তথ্য গোপন করে আইডিআরএ আইন ২০২০ এর ৭(৩)(খ) ধারার লঙ্ঘন করে মোশাররফ সদস্য ও চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছেন বলে রুলে জানানো হয়েছে। এছাড়া ওই দুই কোম্পানিতে এখনো নিয়োজিত বলে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ড. মোশাররফ হোসেন ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে আইডিআরএর সদস্য হিসেবে নিয়োগ পান। এরপরে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান।

আইডিআরএ চেয়ারম্যানকে কেন অপসারণ করা হবে না জানতে রুল

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৪৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দেশের বীমাখাতে বহুবির্তকিত বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেনের নিয়োগ কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে কেন তাকে অপসারণ করা হবে না তাও জানাতে বলা হয়েছে। 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক বিভাগের সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিব বরাবরও বৃহস্পতিবার এই রুল ইস্যু করা হয়েছে। বিনিয়োগকারী আবু সালেহ মোহাম্মদ আমিন মেহেদীর জনস্বার্থে রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন মুস্তাফিজুর রহমান খান ও ব্যারিস্টার কারিশমা জাহান। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্যারিস্টার কারিশমা জাহান। বৃহস্পতিবার তিনি যুগান্তরকে বলেন, উচ্চ আদালত রুল জারি করেছে। তবে কতদিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে হবে, তা সার্টিফাইট কপি পেলে বলতে পারব। 

এদিকে মোশাররফ হোসেনের দুর্নীতি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে রিপোর্ট প্রকাশ করে যুগান্তর। এই রিপোর্টে ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং ডেল্টা লাইফে তার দুর্নীতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
  
উচ্চ আদালতে বৃহস্পতিবারের রুলে বলা হয়, আইডিআরএ চেয়ারম্যান ২০১৭ সালের ৯ মে ‘লাভস অ্যান্ড লাইভ অর্গানিকস’ নামে একটি কোম্পানি আরজেএসসিতে নিবন্ধন করেন। যার পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিজে এবং স্ত্রী জান্নাতুল মাওয়াকে পরিচালক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি ‘গুলশান ভ্যালি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামে আরেকটি কোম্পানি নিবন্ধন করেন। এটারও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি নিজে এবং পরিচালক স্ত্রী জান্নাতুল মাওয়া। 

কিন্তু আইডিআরএ আইন, ২০১০ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি কোনো কোম্পানির বা সংস্থার পরিচালক বা অন্যে কোনো পদে নিযুক্ত থাকলে, তিনি কর্তৃপক্ষের সদস্য হইবার বা থাকিবার যোগ্য হইবেন না। ওই আইনের ধারা ৭(৩)(খ) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি চেয়ারম্যান বা সদস্য হইবার বা থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি তিনি বীমা মধ্যস্থতাকারী বা কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন কোন সংস্থার বা উক্তরুপ নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী হন বা তিনি কোনো কোম্পানি বা সংস্থার (সরকারি বা বেসরকারি) পরিচালক বা অন্য কোনো পদে নিযুক্ত থাকেন। 

এদিকে ১৪ ধারার উপ-ধারা (১) এর বিধান সাপেক্ষে, সরকার আইডিআরএর চেয়ারম্যান বা যে কোনো সদস্যকে অপসারণ করতে পারবে, যদি তিনি (গ) এই আইনের অধীন চেয়ারম্যান বা সদস্য থাকার অযোগ্য হয়ে পড়েন। (২) উপধারা (১) এ বর্ণিত কারণে চেয়ারম্যান বা কোনো সদস্যকে তার পদে বহাল থাকিবার অযোগ্য মনে করিলে, সরকার উক্ত কারণের যথার্থতা যাচাই করিবার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবে এবং তদন্ত দাখিলের সময়সীমাও নির্ধারন করে দেবে। 

এই আইনের পরেও দুটি কোম্পানির পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হয়ে থাকা অবস্থায় তথ্য গোপন করে আইডিআরএ আইন ২০২০ এর ৭(৩)(খ) ধারার লঙ্ঘন করে মোশাররফ সদস্য ও চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছেন বলে রুলে জানানো হয়েছে। এছাড়া ওই দুই কোম্পানিতে এখনো নিয়োজিত বলে জানানো হয়েছে।
 
উল্লেখ্য, ড. মোশাররফ হোসেন ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে আইডিআরএর সদস্য হিসেবে নিয়োগ পান। এরপরে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন