দেশে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে স্যামসাং পণ্য বিক্রি, হতাশ স্যামসাং কর্তৃপক্ষ

প্রকাশ : ২০ মে ২০১৮, ১৭:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

নিত্য নতুন ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তি পণ্যের উদ্ভাবন, উৎপাদন, বিপণন ও ইলেকট্রনিক্স ব্যাবসায় দীর্ঘমেয়াদী সফল্যের জন্য স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স কোঃ লিমিটেড সারাবিশ্বে ইন্ডাষ্ট্রি লিডার হিসেবে স্বীকৃত। 

বর্তমানে বিশ্বের সেরা দশ ব্র্যান্ডের মধ্যে একটি এবং শীর্ষস্থানীয় মোবাইল উৎপাদনকারী হিসেবে ভোক্তাদের আস্থার স্থান দখল করে নিতে সক্ষম হয়েছে স্যামসাং। 

অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও স্যামসাং আইএম (আইটি এন্ড মোবাইল) ও সিই (কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স) পণ্যের ব্যাপক চাহিদা ও জনপ্রিয়তা তৈরী হয়েছে।

স্যামসাং ব্র্যান্ডের এই খ্যাতি ও সুনামকে পুঁজি করে স্যামসাং অননুমোদিত কতিপয় অসাধু আমদানীকারক, ডিস্ট্রিবিউটর, ডিলার, সরবরাহকারী ও বিক্রেতা স্যামসাং ব্র্যান্ডের টিভি, ফ্রিজ, মনিটর, প্রিন্টার, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন ও মোবাইল সেট অবৈধভাবে আমদানী, মজুদ এবং বিক্রয় করছেন যাতে করে বিপুল পরিমানে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে জাতীয় অর্থনীতি। আসন্ন ঈদুল ফিতর এবং বিশ্বকাপ ২০১৮ উপলক্ষে অসাধু ব্যাবসায়ীদের এই দৌরাত্ব আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

উল্লেখ্য, দন্ডবিধি ১৮৬০, ট্রেড মার্কস আইন ২০০৯, আমদানী নীতি আদেশ ২০১৫-২০১৮ অনুযায়ী যেকোন ইলেকট্রনিক পণ্যের ক্ষেত্রে এবং টেলিযোগাযোগ আইন ২০০১ অনুযায়ী মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে-পণ্যের ব্র্যান্ড অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর, ডিলার, সরবরাহকারী, বিক্রেতা ও আমদানীকারক কর্তৃকপণ্যের আমদানী, সরবরাহ, প্রদর্শন বা বিক্রয় সম্পূর্ণ বে-আইনী এবং নিষিদ্ধ। 

এছাড়াও স্যামসাং কর্তৃপক্ষের দায়ের করা এক রীট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট অননুমোদিত আমদানীকারক, ডিস্ট্রিবিউটর, ডিলার, সরবরাহকারী ও বিক্রেতা কর্তৃক স্যামসাং পণ্যের আমদানী, সরবরাহ, প্রদর্শন বা বিক্রয় বন্ধে যথাযথ ব্যাবস্থা নেয়ার জন্য কাস্টমস কর্তপক্ষ, র‌্যাব, পুলিশসহ অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ প্রদান করেন। 

কিন্তু আইনী বাধা নিষেধ ও মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের আদেশ থাকা স্বত্তেও অসাধু ব্যবসায়ীদের এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ না হওয়ায় চরম হতাশা ব্যক্ত করেছেন স্যামসাং বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ।

তারা আশংকা ব্যক্ত করেন এমন অবস্থা চলতে থাকলে বিদেশী কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে অনাগ্রহী হবে, যার ফলশ্রুতিতে কর্মসংস্থান এবং সর্বোপরি জাতীয় অর্থনীতি হবে ক্ষতিগ্রস্থ।

স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স বাংলাদেশের এমডি স্যাংওয়ান ইউন বলেন, অবৈধভাবে আমদানীকৃত পণ্য একটি দেশের জন্য ক্ষতিকর। স্যামসাংয়ের পণ্য অবৈধভাবে আমদানী ও বিক্রি করে আমদানীকারকেরা একাধারে বাংলাদেশের সরকার, জনগণ এবং আমাদের ঠকাচ্ছেন।

স্যামসাং কর্তৃপক্ষ ক্রেতাদের সারাদেশে স্যামসাংয়ের অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর যেমন স্মার্ট প্লাজা, ফেয়ার ইলেকট্রনিক্স, ট্রান্সকম ডিজিটাল, ইলেক্ট্রা ও র‌্যাংগসের শোরুম থেকে স্যামসাংয়ের পণ্য ক্রয় করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। 

তারা জানিয়েছেন, অননুমোদিত স্যামসাং পণ্যে অরিজিনাল স্যামসাং গ্যারান্টি বা ওয়ারেন্টি থাকে না।