সফল হতে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই: আজম খান

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৮, ১৭:১৮ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

আজম খান

আজম খান মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে গ্রুপ চীফ কমিউনিকেশন্স অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি তার কর্মজীবন ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। 

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি সম্পন্ন ব্যাংকগুলোর মধ্যে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক অন্যতম। 

সারা দেশে আমাদের ১১৪টি শাখা, ২৫২টি এটিএম ১০টি স্মাট ব্যাংকিং সেন্টার রয়েছে। সঙ্গে ৫৩ টি এজেন্ট ব্যাংকিং সেন্টার ও রয়েছে। আমাদের রয়েছে একটি শক্তিশালি রিটেইল ব্যাংকিং ডিভিশন।

একটা মানুষের বিভিন্ন পর্যায় থাকে, ছোটবেলা থেকে বৃদ্ধ বয়স পযন্ত। আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নতুন করে ব্যাংকিং সেবা চালু করেছি। 

আমরা বিশ্বাস করি একটা জাতি যদি সঞ্চয়ী হয় সে জাতি অনেক বেশি সমৃদ্ধ হতে পারে। আমরা তাদের পরবর্তী জীবনের জন্য সঞ্চয় করাতে চেষ্টা করছি যাতে সে তার ছোটখাটো সমস্যা গুলো এই সঞ্চয় থেকেই সমাধান করতে পারে।

সব মিলিয়ে সারাদেশে আমরা প্রায় এক মিলিয়ন মানুষের মাঝে সেবা প্রদান করছি। আঠারো বছর পার হয়ে আমরা উনিশ বছর উদযাপন করতে যাচ্ছি আগামী অক্টোবর মাসে। 

আমরা বিশ্বাস করি, বিশ্বমানের ব্যাংকিং সেবা আমরা আমাদের গ্রাহকদের মাঝে দিচ্ছি।

ব্যক্তিগত বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি পড়াশোনা করেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৮৮ সালে আমি আমার পোষ্ট গ্রাজুয়েশন শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করি।

আমি প্রথমে কাজ শুরু করেছিলাম ভলান্টারি হেলথ সার্ভিস সোসাইটি (ভিএইচএসএস) এ প্রকাশনা অফিসার হিসেবে। 

আমার দায়িত্ব ছিল বিভিন্ন ধরনের হেলথ ম্যাসেজ মানুষের কাছে পৌছে দেয়া। মানুষকে স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করা।

পরবতীতে চলে আসি আন্তর্জাতিক সেচ্চাসেবি সংস্থা কারিতাস বাংলাদেশে, যেখানে জনসংযোগ কর্মকর্তা ছিলাম আমি। 

এই সংস্থাটি বাংলাদেশে দুযোর্গকবলিত মানুষদের নিয়ে অনেক ধরনের কাজ করেছে। আমাদের দেশ দুর্যোগপ্রবণ একটি দেশ। যেখানে বন্যা, সাইক্লোন ও ঘূর্ণিঝর প্রায়ই হয়ে থাকে। আমরা অসংখ্য সাইক্লোন সেন্টার করেছি।

এখানে কাজ করার পর ডেভেলপমেন্ট সেক্টর থেকে আমি ব্যাংকিং সেক্টরে চলে আসি। প্রথমে কাজ করি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে। 

সেখানে আমি পাবলিক রিলেশনস অফিসার ছিলাম। তারপর কাজ করেছি ডাচ্ বাংলা ব্যাংকে পাবলিক রিলেশন্স অফিসার হিসাবে। 

তারপর কাজ করি ঢাকা ব্যাংকে। সেখান থেকে হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট হিসাবে ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক ও সর্বশেষে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে কর্মরত আছি।

তরুণ প্রফেশনালদের উদ্দ্যশ্যে বলেন, কর্পোরেট সেক্টরে ভালো করতে হলে প্রেজেন্টেশনগুলো সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে হবে। 

আমরা প্রতিনিয়তই অসংখ্য প্রেজেন্টেশন করি, মনে রাখতে হবে আমি যা যেভাবে উপস্থাপন করব, তা দিয়ে মানুষ আমাকে আর আমার কাজকে মুল্যায়ন করবে। 

এ যেন নিজেকেই উপস্থাপন করা। আমার কাজটা অনেক ভালো মানুষকে যদি তা বোঝাতে না পারি তাহলে সেটি কোন ভালো কিছু বয়ে আনবে না। 

একটি প্রেজেন্টেশন মানেই একটি আইডিয়া সেল করা। কর্পোরেট সেক্টরে আমাদের প্রত্যেকটি কাজের জন্য জবাবদিহিতা করতে হয় আর সুন্দর করে তা উপস্থাপন করতে হয়।

বর্তমান সময়ে প্রতিযোগিতা বড় একটি বিষয়। আমাদের দেশে ৫৭টি ব্যাংক আছে। ৫৭টি ব্যাংকের সবার কাজে অনেক মিল আছে। কিন্ত তারপরো বড় একটা পার্থক্য হচ্ছে উপস্থাপনা আর সেবা ।

আমাদের দেশে সরকারি বেসরকারি অনেক ব্যাংক রয়েছে তবে জনসাধারণ বেসরকারি ব্যাংকের কাছে যেতে চায় বেশি। তারা মনে করে যে, এখানে গেলে তারা দ্রুততম সময়ে কোয়ালিটি সার্ভিসটি পাবে।

আমি সবসময় চেয়েছি ছোটবেলা থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে নামাদামি প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করার ও সেভাবে পড়েছিও। কেননা, ওই সব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাগ্রহণ করতে পারলে অনেক কিছু শিখতে পারা যায়।

আজম খান বলেন, মার্কেটিং এ যারা কাজ করছে বা কাজ করতে চায় তাদের সবচেয়ে পাওয়ারফুল জায়গা হচ্ছে নেটওয়ার্কিং। 

আইটি সেক্টরে বর্তমানে প্রচুর কাজ হচ্ছে। তরুণদের বলতে চাই সঠিকভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে হবে। 

উপস্থাপনের জন্য আমাদের অনেক তরুণ-তরুণীরাই বিভিন্ন সেক্টরে পিছিয়ে আছে। কাজকে কাজ হিসেবে না দেখে উপভোগ করতে হবে। 

কাজটা উপভোগ না করতে পারলে কাজটা করতে ভালো লাগবে না। আর সফল হতে হলে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। 

সঙ্গে সততা থাকতে হবে। চিন্তাভাবনা থাকতে হবে আমি এ কাজটা পারব এবং করব। কাজকে ভালোবাসতে হবে।