এবারের বাজেট মধু মিশ্রিত বিষ

  সংসদ রিপোর্টার ১৯ জুন ২০১৮, ২১:১৮ | অনলাইন সংস্করণ

বাজেট
ছবি: যুগান্তর

প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে ‘বিষ আর মধু’ একসঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ।

তিনি বলেছেন, বাজেটে রাজনৈতিক দর্শন নেই। তাই এ বাজেটকে ‘বাজেট’ বলা যায় না। অর্থমন্ত্রী যে দলের পক্ষ থেকে বাজেট দিয়েছেন সেই দলের নীতি-আদর্শ, দর্শনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী বাজেট দিয়েছেন। বাজেটে বিষ আর মধু একসঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু দেশের জনগণ তো বিষ আর মধু একসঙ্গে খায় না।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে কাজী ফিরোজ রশিদ এসব কথা বলেন।

তিনি অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, আপনি যদি এক বালতি দুধে এক ফোঁটা চনা (টক) দেন তাহলে সব দুধ নষ্ট হয়ে যাবে। তেমনি প্রস্তাবিত বাজেটে জনগণের টাকায় ব্যাংক লুটেরাদের ভর্তুকি দেয়ার মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী গোটা বাজেটের দর্শন নষ্ট করে দিয়েছেন। এ বাজেটে উনি ভেজাল মিশিয়েছেন।

কাজী ফিরোজ রশিদ আরও বলেন, আমরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলাম। পাকিস্তান আমলে ২২ ধনী শ্রেণির পরিবর্তে এখন ১২২ ধনী পরিবারের সৃষ্টি হয়েছে। দেশের মোট সম্পদের ৮০ ভাগ ১২২ পরিবারের হাতে জিম্মি। বাকি ২০ ভাগের মালিক অন্যরা। অর্থমন্ত্রী এ ধনী শ্রেণির জন্যই বাজেট দিয়েছেন। যারা ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে ব্যাংক খালি করে দিয়েছেন। উনি ব্যাংক ডাকাতদের সুবিধা দিয়ে বাজেট দিয়েছেন, এটা হতে পারে না। এ আমরা মানতে পারি না।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু তো কোনো দিন পাকিস্তানের ২২ পরিবারের কাছে মাথা নত করেননি। আপনি কোনো লুটেরাদের কাছে মাথা নত করবেন?

ব্যাংকে লুটপাট অর্থমন্ত্রী, মন্ত্রণালয় নীরব, বাংলাদেশ ব্যাংক নীরব, অর্থ বিভাগ নীরব। ব্যাংকের ওপর মানুষের আর কোনো আস্থা নেই। কারণ ব্যাংক এখন একটি পরিবারিক প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। পারিবারিক ব্যাংক করে অবাধে লুটপাট চলছে।

ফিরোজ রশিদ বলেন, প্রশাসনে এখন সবাই আওয়ামী লীগ হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের বাইরে প্রশাসনে কাউকে পাওয়া যাবে না।

এরা কোথায় ছিল? কে তাদের আওয়ামী লীগ বানাইল। তাদের আওয়ামী লীগটা করল কে? প্রশাসনে আওয়ামী লীগের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। কে কত বড় আওয়ামী লীগ এটার জন্য গবেষণা চলছে। কার নানার বাড়ির কাছে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি ছিল। কার চাচার সঙ্গে কার বিয়ে হয়েছিল এসব দিয়ে আওয়ামী লীগ বের করার চেষ্টা হচ্ছে।

এখন আওয়ামী লীগের বাইরে কাউকে পাওয়া যায় না। আসল আওয়ামী লীগ নকল আওয়ামী লীগ বেছে নেয়া কঠিন হয়ে গেছে। তাদের দাপট এত বেশি যে সাধারণ মানুষকে তারা তোয়াক্কা করে না। তারা ইচ্ছামতো কাজ করছে, এটা ভালো লক্ষণ নয়।

প্রশাসনে এখন আওয়ামী লীগ হওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে বলে মন্তব্য করে কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, এখন রাস্তায় হাঁটতে গেলে কারো গায়ে ধাক্কা লাগলে বলে আমি আওয়ামী লীগ করি, পার্কে হাঁটতে গেলে বলে আমি আওয়ামী লীগ করি। এটা ভালো লক্ষণ না।

ঘটনাপ্রবাহ : বাজেট ২০১৮

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter