লোকসানের কারণে ইতালিতে জনতা এক্সচেঞ্জ বন্ধের নির্দেশ

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:৪৭ | অনলাইন সংস্করণ

জনতা ব্যাংক
ছবি: সংগৃহীত

ধারাবাহিকভাবে আট বছর ধরে লোকসান হওয়ায় ইতালিতে পরিচালিত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জনতা ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান জনতা এক্সচেঞ্জ কোম্পানি এসআরএলের কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ইতালিতে কর্মরত বাংলাদেশিদের অর্থ দেশে আনার জন্য ২০০২ সালে রোম ও মিলানে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কোম্পানি ‘জনতা এক্সচেঞ্জ কোম্পানি এসআরএল’ নামে দুটি শাখা খুলে কার্যক্রম শুরু করে জনতা ব্যাংক।

জনতা ব্যাংকের পক্ষ থেকে সর্বশেষ তিন বছরে (২০১৫-১৭) লোকসান হওয়া প্রায় ১২ লাখ ইউরো পুনঃভরণের আবেদন করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতালিতে কার্যরত কোম্পানির দুটি শাখার মধ্যে বেশি লোকসানি শাখাটি বন্ধ করার নির্দেশ দেয়।

কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত লাভজনক অবস্থায় থাকলেও ২০০৯ সাল থেকে লোকসান শুরু হয়। বিভিন্ন ধরনের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০১৪ সাল পর্যন্ত লোকসান হয় ১২ লাখ ৭১ হাজার ২৭০ ইউরো।

ওই সময় জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেই অর্থ পুনঃভরণের অনুমোদন দেয়া হয়।

জনতা ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্সপ্রবাহ কমে যাওয়া ও প্রশাসনিক ব্যয় বাড়ার কারণে ২০১৫ সালে তিন লাখ ২০ হাজার ৭৪৭ ইউরো, ২০১৬ সালে তিন লাখ ৫৬ হাজার ৫৪৮ ইউরো এবং ২০১৭ সালে চার লাখ ৯৬ হাজার ৬২১ ইউরো লোকসান হয়। সেসব অর্থও পুনঃভরণের অনুমোদন দেয়া হয়।

পরে জনতা ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুছ ছালাম আজাদ এ অর্থছাড় করার জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে অনুমোদন চান।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতামত চেয়ে চিঠি দেয়। পরে এ বিষয় বিবেচনা করে সর্বশেষ তিন বছরে লোকসান হওয়া অর্থছাড়ের আবেদন নাকচ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পরে এক চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান রোম ও মিলান শাখার মধ্যে যে শাখাটির পরিচালন ব্যয় কম সেটি চালু রেখে অপর শাখাটির কার্যক্রম বন্ধের জন্য জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে পরামর্শ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

এদিকে জনতা ব্যাংক বলছে, ইতালির আইন অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠানের এক-তৃতীয়াংশের বেশি মূলধন ঘাটতি থাকলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বন্ধ করে দেয়ার জন্য দেউলিয়া ঘোষণার কার্যক্রম শুরু হয়। সে ক্ষেত্রে মূলধন ঘাটতি পূরণ না করলে জনতা এক্সচেঞ্জ কোম্পানি এসআরএল দেউলিয়া কোম্পানির তালিকায় পড়বে।

এ অবস্থায় লাভজনক করতে দুই বছরের একটি অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করেছে জনতা এক্সচেঞ্জ কোম্পানি এসআরএল। সেখানে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে ৫টি এজেন্টের মাধ্যমে এবং ২০১৯ সালে ৩৫ এজেন্টের মাধ্যমে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter