Logo
Logo
×

অর্থনীতি

টিকে থাকতে পারলে লাভবান হবে বাংলাদেশ

Icon

ফজলে শামীম

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৫, ০২:৫৯ এএম

টিকে থাকতে পারলে লাভবান হবে বাংলাদেশ

বাড়তি শুল্কের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে টিকে থাকতে পারলে বাংলাদেশ লাভবান হবে। দীর্ঘমেয়াদে চীন ও ভিয়েতনাম থেকে অর্ডার বাংলাদেশে স্থানান্তরের সম্ভাবনা আছে বলে মনে করেন নিটপণ্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান।

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র চীন ছাড়া বাংলাদেশের অন্য প্রতিযোগী দেশগুলোর জন্য প্রায় সমান হারে শুল্ক নির্ধারণ করেছে, এটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা রক্ষা পেয়েছে।

তিনি বলেন, শুল্ক কমানোয় আমরা মার্কিন প্রশাসনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই, যারা সব ধরনের অবাণিজ্যিক জটিল শর্ত এড়িয়ে একটি ন্যায্য এবং প্রায় সমতাভিত্তিক শুল্ক কাঠামো প্রণয়ন করেছেন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টার নেতৃত্বাধীন টিমের অক্লান্ত প্রচেষ্টাও প্রশংসার দাবিদার। তাদের দক্ষতা ও কূটনৈতিক প্রজ্ঞার জন্যই বাংলাদেশ অন্যান্য প্রধান পোশাক রপ্তানিকারক দেশেগুলোর সমান সুযোগ পেয়েছে। তবে এ সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য আমাদের উদ্যোক্তাদের আরও দক্ষ ও সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে পোশাকের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে মার্কিন ক্রেতাদের বোঝাতে হবে যে, আমদানি শুল্ক আমদানিকারকদের বহন করতে হয় এবং পরিশেষে এটি চূড়ান্তভাবে ভোক্তাকেই বহন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাড়তি শুল্কের কারণে পণ্যের মূল্য কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে, যা বিক্রি হ্রাসের সম্ভাবনা তৈরি করবে। এ পরিস্থিতিতে অর্ডার কিছুটা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ক্রেতারা অন্যায্যভাবে দাম কমানোর চেষ্টা করতে পারেন। তবে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর জন্যও শুল্কের হার প্রায় একই রকম বা এর চেয়ে বেশি হওয়ায় এ মুহূর্তে শক্তিশালী দরকষাকষিই একমাত্র উপায়। কারণ, ক্রেতারা অন্য যে দেশেই যাক, তাদের কমপক্ষে আমাদের সমান শুল্ক দিতেই হবে। বরং আমাদের এখানে ক্রয়াদেশ দিলে চীন বা ভারত থেকে শুল্ক বিবেচনায় সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। আমরা যদি বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে টিকে থাকতে পারি, তবে ভবিষ্যতে চীন ও ভিয়েতনাম থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অর্ডার বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

লেখক : নির্বাহী সভাপতি, বিকেএমইএ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম