গ্রাহককে মামলার জালে আটকিয়ে রাখে ব্যাংক
jugantor
গ্রাহককে মামলার জালে আটকিয়ে রাখে ব্যাংক

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৪৪:১৭  |  অনলাইন সংস্করণ

গ্রাহককে মামলার জালে আটকিয়ে রাখে ব্যাংক

ব্যাংক গ্রাহককে মামলার জালে আটকিয়ে রাখে। মামলা নিষ্পত্তি না হলে টাকা দেয় না। এতে গ্রাহকের আস্থা নষ্ট হচ্ছে- এসব কথা বলেছেন খোদ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা।

ফেরদৌসি জামান নামের এক গ্রাহকের সঞ্চয়ী হিসাব থেকে ৫ কোটি ১৬ লাখ ১০ হাজার টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটে একটি ব্যাংকে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ম্যানেজার এবং পরে ব্যাংকটির এমডির কাছে প্রতিকার চান ভুক্তভোগী ওই গ্রাহক। কিন্তু ব্যাংক টালবাহানা করতে থাকে দিনের পর দিন। পরে ওই গ্রাহক কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অভিযোগ দেন। এরপরই নড়েচড়ে বসে ওই ব্যাংক। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১৫ ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু ব্যাংক প্রতিশ্রুতির পরও প্রথমে গ্রাহকের টাকা পরিশোধ করেনি।

এদিকে ব্যাংক টাকা ফেরত না দেওয়ায় গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে গ্রাহকের অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিলে ব্যাংক টাকা দিতে বাধ্য হয়। বুধবার প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিস ডিপার্টমেন্টের বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এতে ব্যাংকিং খাতে গ্রাহকদের অভিযোগ ও নিষ্পত্তির চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তা বলেন, ব্যাংকের নিজস্ব তদন্তে ঘটনা প্রমাণিত হওয়ার পর তারা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। মামলা করেছে। তারপরও গ্রাহকের টাকা ফেরত দেয়নি। এক্ষেত্রে ব্যাংক গ্রাহককে মামলার জালে আটকিয়ে রাখে। মামলা নিষ্পত্তি না হলে টাকা দেয় না। এতে গ্রাহকের আস্থা নষ্ট হচ্ছে। এ ধরনের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংকিং খাতের নৈতিক অবক্ষয়ের একটি ঘটনা এটি। মানুষ তার শ্রমের অর্জন সঞ্চয়টুকু জমা রাখেন ব্যাংকে। ব্যাংকারদের ওপর অগাধ বিশ্বাস থেকে। সেই বিশ্বাসের খেয়ানত করা বড় অপরাধ। এগুলো যারা করে তাদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তাহলে এ ধরনের অপরাধ কমে যাবে। গ্রাহকদের আস্থা বাড়বে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিভাগটির প্রতিষ্ঠা করা হয় ২০১১ সালের ২৮ মার্চ। এরপর থেকে ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মোট ৩৪ হাজার ৬৭৮টি অভিযোগ পাওয়া যায়। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫ হাজার ৪৯৯টি অভিযোগ পড়ে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ৫ হাজার ৪৯৩টি। ৬টি অভিযোগ অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে।

২০১৪-১৫ সালে ৪ হাজার ৫৩০টি অভিযোগের মধ্যে সবগুলোই নিষ্পত্তি হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে অভিযোগ পড়ে ৩ হাজার ৫২১টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৩ হাজার ৫১৯টি। ২টি অভিযোগ অনিষ্পন্ন ছিল।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে অভিযোগ পড়ে ৬ হাজার ২০৮টি। নিষ্পত্তি হয় ৬ হাজার ২০৬টি। ২টি অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে।

২০১৫-১৬ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে অভিযোগ কমেছে ২২ দশমিক ২৭ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৭৬ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫৬ দশমিক ১৮ শতাংশ বেড়েছে। তবে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে অভিযোগের হার কমেছে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ পড়েছে সাধারণ ব্যাংকিং বিষয়ক ১ হাজার ৫৯৩টি। এছাড়া গ্রাহক সেবায় অসন্তুষ্টি ৩১৩টি, চেক জালিয়াতি ২৬টি, রেমিটেন্স সংক্রান্ত ৭১টি, এটিএম ও ক্রেডিট কার্ড বিষয়ক ৪৮৩টি, মোবাইল ব্যাংকিং ১২৩টি অভিযোগ পড়ে। বাকিগুলো অন্যান্য অভিযোগ।

গ্রাহককে মামলার জালে আটকিয়ে রাখে ব্যাংক

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১০:৪৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
গ্রাহককে মামলার জালে আটকিয়ে রাখে ব্যাংক
ফাইল ছবি

ব্যাংক গ্রাহককে মামলার জালে আটকিয়ে রাখে। মামলা নিষ্পত্তি না হলে টাকা দেয় না। এতে গ্রাহকের আস্থা নষ্ট হচ্ছে- এসব কথা বলেছেন খোদ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা।

ফেরদৌসি জামান নামের এক গ্রাহকের সঞ্চয়ী হিসাব থেকে ৫ কোটি ১৬ লাখ ১০ হাজার টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটে একটি ব্যাংকে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ম্যানেজার এবং পরে ব্যাংকটির এমডির কাছে প্রতিকার চান ভুক্তভোগী ওই গ্রাহক। কিন্তু ব্যাংক টালবাহানা করতে থাকে দিনের পর দিন। পরে ওই গ্রাহক কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অভিযোগ দেন। এরপরই নড়েচড়ে বসে ওই ব্যাংক। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১৫ ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু ব্যাংক প্রতিশ্রুতির পরও প্রথমে গ্রাহকের টাকা পরিশোধ করেনি। 

এদিকে ব্যাংক টাকা ফেরত না দেওয়ায় গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে গ্রাহকের অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিলে ব্যাংক টাকা দিতে বাধ্য হয়। বুধবার প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিস ডিপার্টমেন্টের বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এতে ব্যাংকিং খাতে গ্রাহকদের অভিযোগ ও নিষ্পত্তির চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তা বলেন, ব্যাংকের নিজস্ব তদন্তে ঘটনা প্রমাণিত হওয়ার পর তারা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। মামলা করেছে। তারপরও গ্রাহকের টাকা ফেরত দেয়নি। এক্ষেত্রে ব্যাংক গ্রাহককে মামলার জালে আটকিয়ে রাখে। মামলা নিষ্পত্তি না হলে টাকা দেয় না। এতে গ্রাহকের আস্থা নষ্ট হচ্ছে। এ ধরনের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংকিং খাতের নৈতিক অবক্ষয়ের একটি ঘটনা এটি। মানুষ তার শ্রমের অর্জন সঞ্চয়টুকু জমা রাখেন ব্যাংকে। ব্যাংকারদের ওপর অগাধ বিশ্বাস থেকে। সেই বিশ্বাসের খেয়ানত করা বড় অপরাধ। এগুলো যারা করে তাদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তাহলে এ ধরনের অপরাধ কমে যাবে। গ্রাহকদের আস্থা বাড়বে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিভাগটির প্রতিষ্ঠা করা হয় ২০১১ সালের ২৮ মার্চ। এরপর থেকে ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মোট ৩৪ হাজার ৬৭৮টি অভিযোগ পাওয়া যায়। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫ হাজার ৪৯৯টি অভিযোগ পড়ে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ৫ হাজার ৪৯৩টি। ৬টি অভিযোগ অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে। 

২০১৪-১৫ সালে ৪ হাজার ৫৩০টি অভিযোগের মধ্যে সবগুলোই নিষ্পত্তি হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে অভিযোগ পড়ে ৩ হাজার ৫২১টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৩ হাজার ৫১৯টি। ২টি অভিযোগ অনিষ্পন্ন ছিল। 

২০১৭-১৮ অর্থবছরে অভিযোগ পড়ে ৬ হাজার ২০৮টি। নিষ্পত্তি হয় ৬ হাজার ২০৬টি। ২টি অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে। 

২০১৫-১৬ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে অভিযোগ কমেছে ২২ দশমিক ২৭ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৭৬ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫৬ দশমিক ১৮ শতাংশ বেড়েছে। তবে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে অভিযোগের হার কমেছে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ পড়েছে সাধারণ ব্যাংকিং বিষয়ক ১ হাজার ৫৯৩টি। এছাড়া গ্রাহক সেবায় অসন্তুষ্টি ৩১৩টি, চেক জালিয়াতি ২৬টি, রেমিটেন্স সংক্রান্ত ৭১টি, এটিএম ও ক্রেডিট কার্ড বিষয়ক ৪৮৩টি, মোবাইল ব্যাংকিং ১২৩টি অভিযোগ পড়ে। বাকিগুলো অন্যান্য অভিযোগ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন