আতঙ্কে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা
jugantor
আতঙ্কে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২২:১২:৫৩  |  অনলাইন সংস্করণ

ব্যাংকের শাখার ভল্ট থেকে উধাও হচ্ছে টাকা, গোপন করা হচ্ছে খেলাপি ঋণ। অনৈতিকভাবে নানা সুযোগ সুবিধা দিয়ে দুরবস্থায় পড়ছে ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নিলেও কেন এ ধরণের অনিয়মের তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে এ বিষয়ে বিরক্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব বিষয় যাতে প্রকাশিত না হয় সেজন্য সংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সূত্র জানায়, সংবাদ মাধ্যমে ব্যাংক সংক্রান্ত কোনো অনিয়মের তথ্য প্রকাশ হলেই সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ করা হচ্ছে। নানাভাবে মানসিক চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি দেওয়া হচ্ছে বদলি ও চাকরি থেকে বহিস্কারের হুমকিও। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রণ সংস্থার কর্মীরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমে সাংবাদিকদের প্রবেশে সময়সীমা বেধে দেন। এর প্রতিবাদে সাংবাদিকরা গভর্নরের একটি প্রোগ্রাম বর্জন করে। পরে সময়সীমা প্রত্যাহার করা হয়। সম্প্রতি নতুন করে কয়েকটি বিভাগে বিনা নোটিশে সাংবাদিকদের প্রবেশে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন কর্মকর্তাকে শোকজ নোটিশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ কারণে অন্য বিভাগের কর্মকর্তারাও এখন সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলছেন। এতে ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ক্রমেই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ কমে যাওয়া, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অনিয়ম নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বেশ কিছু সংবাদ প্রকাশ পেয়েছে। সূত্র জানায়, ওই সব অনিয়মের সঙ্গে জড়িতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কঠোর কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। উল্টো সংশ্লিস্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের চাপের মধ্যে রাখতে ব্যস্ত হয়েছে পড়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যে দিনই সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে ওইদনই সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীদের নানা চাপে ফেলা বা শোকজ করা হচ্ছে।

ব্যাংক পরিদর্শন, ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ, ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপরভিশন, ফরেক্স রিজার্ভ ও ট্রেজারী ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট এবং অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের যুগ্ম পরিচালক থেকে শুরু করে নির্বাহী পরিচালক পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ১০ জন কর্মকর্তাকে সম্প্রতি শোকজ করা হয়েছে। কেন সাংবাদিকদের সঙ্গে তথ্য শেয়ার করা হয়েছে তার ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে।

এসব বিষয়ে গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারে কাছে হোয়াসঅ্যাপে বক্তব্য চাওয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিনই সাংবাদিকরা বাংলাদেশ ব্যাংকে আসছে বিভিন্ন তথ্য নিয়ে নিউজ করছেন। তবে এ কারণে কোনো কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে- এমন কোনো বিষয় আমার জানা নেই।

আতঙ্কে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:১২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ব্যাংকের শাখার ভল্ট থেকে উধাও হচ্ছে টাকা, গোপন করা হচ্ছে খেলাপি ঋণ। অনৈতিকভাবে নানা সুযোগ সুবিধা দিয়ে দুরবস্থায় পড়ছে ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নিলেও কেন এ ধরণের অনিয়মের তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে এ বিষয়ে বিরক্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব বিষয় যাতে প্রকাশিত না হয় সেজন্য সংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সূত্র জানায়, সংবাদ মাধ্যমে ব্যাংক সংক্রান্ত কোনো অনিয়মের তথ্য প্রকাশ হলেই সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ করা হচ্ছে। নানাভাবে মানসিক চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি দেওয়া হচ্ছে বদলি ও চাকরি থেকে বহিস্কারের হুমকিও। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রণ সংস্থার কর্মীরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমে সাংবাদিকদের প্রবেশে সময়সীমা বেধে দেন। এর প্রতিবাদে সাংবাদিকরা গভর্নরের একটি প্রোগ্রাম বর্জন করে। পরে সময়সীমা প্রত্যাহার করা হয়। সম্প্রতি নতুন করে কয়েকটি বিভাগে বিনা নোটিশে সাংবাদিকদের প্রবেশে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন কর্মকর্তাকে শোকজ নোটিশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ কারণে অন্য বিভাগের কর্মকর্তারাও এখন সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলছেন। এতে ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ক্রমেই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ কমে যাওয়া, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অনিয়ম নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বেশ কিছু সংবাদ প্রকাশ পেয়েছে। সূত্র জানায়, ওই সব অনিয়মের সঙ্গে জড়িতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কঠোর কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। উল্টো সংশ্লিস্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের চাপের মধ্যে রাখতে ব্যস্ত হয়েছে পড়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যে দিনই সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে ওইদনই সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীদের নানা চাপে ফেলা বা শোকজ করা হচ্ছে।

ব্যাংক পরিদর্শন, ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ, ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপরভিশন, ফরেক্স রিজার্ভ ও ট্রেজারী ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট এবং অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের যুগ্ম পরিচালক থেকে শুরু করে নির্বাহী পরিচালক পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ১০ জন কর্মকর্তাকে সম্প্রতি শোকজ করা হয়েছে। কেন সাংবাদিকদের সঙ্গে তথ্য শেয়ার করা হয়েছে তার ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে।

এসব বিষয়ে গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারে কাছে হোয়াসঅ্যাপে বক্তব্য চাওয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিনই সাংবাদিকরা বাংলাদেশ ব্যাংকে আসছে বিভিন্ন তথ্য নিয়ে নিউজ করছেন। তবে এ কারণে কোনো কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে- এমন কোনো বিষয় আমার জানা নেই।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন