উদ্যোক্তা রাফিজা সুলতানার গল্প
jugantor
উদ্যোক্তা রাফিজা সুলতানার গল্প

  অনলাইন ডেস্ক  

১৭ এপ্রিল ২০২২, ২১:৩৭:০৬  |  অনলাইন সংস্করণ

উদ্যোক্তা রাফিজা সুলতানার গল্প

একজন অনন্য উদ্যোক্তা। হাল ফ্যাশনের লাইফস্টাইলে যিনি এনে দিয়েছেন নতুন মাত্রা। সৃষ্টি করেছেন তার অনন্য উদ্যোগ ‘রাফিজাস ক্লোজেট’। যেখানে রয়েছে দেশি-বিদেশি নানা ধাঁচের নানা ডিজাইনের পেশাকের সমাহার। যে কোনো উৎসব আয়োজনের কেনাকাটায় এখন নারীদের প্রথম পছন্দ ‘রাফিজাস ক্লোজেট’।

বলছিলামরাফিজা সুলতানার কথা। নারায়ণগঞ্জে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া রাফিজা সুলতানার কাছে পোশাক নিয়ে কাজ করা রাফিজাস ক্লোজেটে শুরুর গল্পটা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ছোটোবেলা থেকেই নিজের পোশাক নিজে ডিজাইন করতে পছন্দ করতাম। আর বিয়ের পর বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানে আমার হাজবেন্ড তৈয়বুল ইসলাম সেলিমকে নিজের নকশা করা পাঞ্জাবি উপহার দিতাম। তিনি এই নকশাগুলো খুব পছন্দ করতেন এবং আমাকে উৎসাহ দেন ফ্যাশন ডিজাইন নিয়ে কাজ করার জন্য। সেই থেকেই ২০১৯ সাল থেকে রাফিজাস ক্লোজেটের যাত্রা শুরু।’

একজন নারী হিসেবে উদ্যোক্তা হওয়ার পথচলা কখনো মসৃণ ছিল না রাফিজা সুলতানার। একজন মা, একজন স্ত্রী, একজন গৃহিণী হিসেবে তিনি নিজের সবটুকু দায়িত্ব পালন করে, সংসার সামলে এরপর রাফিজাস ক্লোজেটকে তিনি এগিয়ে নিয়ে চলেছেন নিজের অপরিসীম উদ্যমের মাধ্যমে। এ যাত্রায় পরিবার পাশে ছিল কি না- জানতে চাইলে রাফিজা বলেন, ‘উদ্যোক্তা হওয়ার প্রথম অনুপ্রেরণা আমার হাজবেন্ডের কাছ থেকে পেলেও আমার পুরো পরিবার সবসময়ই আমার পাশে ছিল। একদম শুরুতে আমার আত্মীয় পরিজনরাই আমার পোশাকের নকশার প্রশংসা করেন এবং পরিচিত সবার মাঝে ছড়িয়ে দেন রাফিজাস ক্লোজেটকে। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা পুরো জার্নিতে এভাবে সাহায্য করার জন্য। ’

অল্প সময়ের মধ্যেই রাফিজাস ক্লোজেট দেশব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ন্যায্য দামে দেশীয় ঐতিহ্যের মিশেলে সেরা ট্রেন্ডি পোশাকের সমাহার রয়েছে রাফিজাস ক্লোজেটে।

রাফিজাস ক্লোজেট পেজ ঘুরে পাওয়া গেছে অসংখ্য পজিটিভ রিভিউ। ক্রেতার আস্থা অর্জন করতে পেরেছে পেজটি খুব কম সময়ের ব্যবধানে। যে কোনো সমস্যায় তাদের পেজে যোগাযোগ করলে সঙ্গে সঙ্গেই সমাধান পাওয়া যায়৷সেরা সার্ভিস আর সেরা কোয়ালিটিই রাফিজাস ক্লোজেটের জনপ্রিয়তার মূলমন্ত্র।পুরুষ ও মহিলাদের আরামদায়ক ও কারুকাজ পূর্ণ পোশাক তৈরিই রাফিজাস ক্লোসেটের মূল লক্ষ্য। এই প্রতিষ্ঠানটি একটি ডিজাইনের মাত্র ৬টি পোশাক বিক্রি করে থাকে। বিভিন্ন পোশাক প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে এই প্রতিষ্ঠানটি অংশগ্রহণ করা শুরু করে।

রাফিজার অর্জনের ঝুলিতে রয়েছে ইয়ুথ বাংলা কালচারাল অ্যাওয়ার্ড ফর জুনিয়র অন্ট্রোপ্রেনার ২০২০, এসএম বিউটি প্রেজেন্টস বিউটি অ্যান্ড ফ্যাশন অ্যাওয়ার্ড ২০২২ ফর জুনিয়র অন্ট্রোপ্রেনার ২০২২ এর তকমা। একজন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উদ্যোক্তা নারী হিসেবে মিররের প্রযোজনায় ‘বাংলাদেশ মহিলা অনুপ্রেরণামূলক পুরস্কার ২০২২’ লাভ করেন।এত অল্প সময়ে এত সম্মাননার জন্য রাফিজা কৃতজ্ঞতা জানান তার ক্রেতাদের প্রতি।

রাফিজা নিজের সংসার, পড়াশোনা, উদ্যোক্তা হওয়া- সবকিছু সামলানোর পরও রাফিজা আরও একটি পরিচয় গড়ে নিয়েছেন নিজের। তিনি একজন ইন্টারন্যাশনাল সার্টিফাইড মেকআপ আর্টিস্ট। ব্রাইডাল পার্টি মেকআপের ওপর তিনি একাধিক কোর্স করেছেন দেশ-বিদেশ থেকে। তার মেকওভার পেজ রাফিজাস আর্টিস্টিতে রাফিজা মেকআপ টিউটোরিয়াল দিয়ে থাকেন প্রায়ই। তিনি ‘MABBAB Mua ২০২১’ এ দ্বিতীয় রানারআপ নির্বাচিত হয়েছিলেন ‘রাফিজাস আর্টিস্টির’ অভাবনীয় শৈল্পিকতার জন্য।

সম্প্রতি ব্রাজিলিয়ান মেকআপ আর্টিস্ট মিশেলি পালমা এর কাছ থেকে সেরা মেক-আপ আর্টিস্ট ২০২২ এর সম্মাননা গ্রহণ করেন তিনি। এছাড়াও সেরা উদীয়মান মেকআপ আর্টিস্ট ২০২১ এর খেতাব পেয়েছিলেন তিনি ম্যাজেস্টিক অ্যাফেয়ার থেকে। তিনি 'জামির স্বপ্ন মেকওভার ওয়ার্কশপ ২০২১ বিচারক আসনে সম্মাননা পেয়েছেন।

উদ্যোক্তা রাফিজা সুলতানার গল্প

 অনলাইন ডেস্ক 
১৭ এপ্রিল ২০২২, ০৯:৩৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
উদ্যোক্তা রাফিজা সুলতানার গল্প
উদ্যোক্তা রাফিজা সুলতানা। ছবি: সংগৃহীত

একজন অনন্য উদ্যোক্তা। হাল ফ্যাশনের লাইফস্টাইলে যিনি এনে দিয়েছেন নতুন মাত্রা। সৃষ্টি করেছেন তার অনন্য উদ্যোগ ‘রাফিজাস ক্লোজেট’। যেখানে রয়েছে দেশি-বিদেশি নানা ধাঁচের নানা ডিজাইনের পেশাকের সমাহার। যে কোনো উৎসব আয়োজনের কেনাকাটায় এখন নারীদের প্রথম পছন্দ ‘রাফিজাস ক্লোজেট’।

বলছিলাম রাফিজা সুলতানার কথা। নারায়ণগঞ্জে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া রাফিজা সুলতানার কাছে পোশাক নিয়ে কাজ করা রাফিজাস ক্লোজেটে শুরুর গল্পটা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ছোটোবেলা থেকেই নিজের পোশাক নিজে ডিজাইন করতে পছন্দ করতাম। আর বিয়ের পর বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানে আমার হাজবেন্ড তৈয়বুল ইসলাম সেলিমকে নিজের নকশা করা পাঞ্জাবি উপহার দিতাম। তিনি এই নকশাগুলো খুব পছন্দ করতেন এবং আমাকে উৎসাহ দেন ফ্যাশন ডিজাইন নিয়ে কাজ করার জন্য। সেই থেকেই ২০১৯ সাল থেকে রাফিজাস ক্লোজেটের যাত্রা শুরু।’

একজন নারী হিসেবে উদ্যোক্তা হওয়ার পথচলা কখনো মসৃণ ছিল না রাফিজা সুলতানার। একজন মা, একজন স্ত্রী, একজন গৃহিণী হিসেবে তিনি নিজের সবটুকু দায়িত্ব পালন করে,  সংসার সামলে এরপর রাফিজাস ক্লোজেটকে তিনি এগিয়ে নিয়ে চলেছেন নিজের অপরিসীম উদ্যমের মাধ্যমে। এ যাত্রায় পরিবার পাশে ছিল কি না- জানতে চাইলে রাফিজা বলেন, ‘উদ্যোক্তা হওয়ার প্রথম অনুপ্রেরণা আমার হাজবেন্ডের কাছ থেকে পেলেও আমার পুরো পরিবার সবসময়ই আমার পাশে ছিল। একদম শুরুতে আমার আত্মীয় পরিজনরাই আমার পোশাকের নকশার প্রশংসা করেন এবং পরিচিত সবার মাঝে ছড়িয়ে দেন রাফিজাস ক্লোজেটকে। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা পুরো জার্নিতে এভাবে সাহায্য করার জন্য। ’

অল্প সময়ের মধ্যেই রাফিজাস ক্লোজেট দেশব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ন্যায্য দামে দেশীয় ঐতিহ্যের মিশেলে সেরা ট্রেন্ডি পোশাকের সমাহার রয়েছে রাফিজাস ক্লোজেটে। 

রাফিজাস ক্লোজেট পেজ ঘুরে পাওয়া গেছে অসংখ্য পজিটিভ রিভিউ। ক্রেতার আস্থা অর্জন করতে পেরেছে পেজটি খুব কম সময়ের ব্যবধানে। যে কোনো সমস্যায় তাদের পেজে যোগাযোগ করলে সঙ্গে সঙ্গেই সমাধান পাওয়া যায়৷সেরা সার্ভিস আর সেরা কোয়ালিটিই রাফিজাস ক্লোজেটের জনপ্রিয়তার মূলমন্ত্র।পুরুষ ও মহিলাদের আরামদায়ক ও কারুকাজ পূর্ণ  পোশাক তৈরিই রাফিজাস ক্লোসেটের মূল লক্ষ্য। এই প্রতিষ্ঠানটি একটি ডিজাইনের মাত্র ৬টি পোশাক বিক্রি করে থাকে। বিভিন্ন পোশাক প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে এই প্রতিষ্ঠানটি অংশগ্রহণ করা শুরু করে। 

রাফিজার অর্জনের ঝুলিতে রয়েছে ইয়ুথ বাংলা কালচারাল অ্যাওয়ার্ড ফর জুনিয়র অন্ট্রোপ্রেনার ২০২০, এসএম বিউটি প্রেজেন্টস বিউটি অ্যান্ড ফ্যাশন অ্যাওয়ার্ড ২০২২ ফর জুনিয়র অন্ট্রোপ্রেনার ২০২২ এর তকমা। একজন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উদ্যোক্তা নারী হিসেবে মিররের প্রযোজনায় ‘বাংলাদেশ মহিলা অনুপ্রেরণামূলক পুরস্কার ২০২২’ লাভ করেন।এত অল্প সময়ে এত সম্মাননার জন্য রাফিজা কৃতজ্ঞতা জানান তার ক্রেতাদের প্রতি।

রাফিজা নিজের সংসার, পড়াশোনা, উদ্যোক্তা হওয়া- সবকিছু সামলানোর পরও রাফিজা আরও একটি পরিচয় গড়ে নিয়েছেন নিজের। তিনি একজন ইন্টারন্যাশনাল সার্টিফাইড মেকআপ আর্টিস্ট। ব্রাইডাল পার্টি মেকআপের ওপর তিনি একাধিক কোর্স করেছেন দেশ-বিদেশ থেকে। তার মেকওভার পেজ রাফিজাস আর্টিস্টিতে রাফিজা মেকআপ টিউটোরিয়াল দিয়ে থাকেন প্রায়ই। তিনি ‘MABBAB Mua ২০২১’ এ দ্বিতীয় রানারআপ নির্বাচিত হয়েছিলেন ‘রাফিজাস আর্টিস্টির’ অভাবনীয় শৈল্পিকতার জন্য।

সম্প্রতি ব্রাজিলিয়ান মেকআপ আর্টিস্ট মিশেলি পালমা এর কাছ থেকে সেরা মেক-আপ আর্টিস্ট ২০২২ এর সম্মাননা গ্রহণ করেন তিনি। এছাড়াও সেরা উদীয়মান মেকআপ আর্টিস্ট ২০২১ এর খেতাব পেয়েছিলেন তিনি ম্যাজেস্টিক অ্যাফেয়ার থেকে। তিনি 'জামির স্বপ্ন মেকওভার ওয়ার্কশপ ২০২১ বিচারক আসনে সম্মাননা পেয়েছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন