অবশেষে নতুন ট্রেক দিচ্ছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ
jugantor
অবশেষে নতুন ট্রেক দিচ্ছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:০৬:২১  |  অনলাইন সংস্করণ

অবশেষে নতুন ট্রেক দিচ্ছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ

অবশেষে নতুন ট্রেক (সদস্যপদ) দিচ্ছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এর মাধ্যমে ট্রেক সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের অচলায়তন ভাঙতে যাচ্ছে সংস্থাটি। মঙ্গলবার ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিএসই সংশ্লিষ্ট আইন, ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন স্কিম, বিধিমালা ও প্রবিধানমালা মোতাবেক যোগ্যতার ভিত্তিতে ট্রেক দেওয়া হবে।

সভা শেষে বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ট্রেক হচ্ছে শেয়ার লেনদেনের অধিকার সনদ বা ট্রেডিং রাইট অ্যানটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট। এ সনদ ছাড়া বাজারে কেউ শেয়ার লেনদেন করতে পারে না।

বর্তমানে ডিএসইর সদস্যপদ ২৫০টি। কিন্তু সক্রিয় রয়েছে ২৩৮টি। আর গত ২০ বছরেও নির্দিষ্ট একটি চক্রের কাছে জিম্মি রয়েছে শেয়ারবাজার। নতুন করে কাউকে সদস্যপদ দেওয়া হয়নি। আগের যাদের সদস্যপদ ছিল, তারাই বিভিন্ন সময়ে বিক্রি করেছে। ২০১০ সালে প্রতিটি সদস্যপদের দাম ছিল ১০০ কোটি টাকার ওপরে। তবে এরপর শেয়ারবাজারে বিপর্যয় এলে সদস্যপদের দাম কমতে থাকে। কিন্তু নতুন সদস্যপদ ইস্যু হয়নি।

সম্প্রতি শেয়ারবাজারে ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন (মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা আলাদাকরণ) হয়েছে। তবে নতুন ট্রেক দেওয়ার দাবি আসে। এ অবস্থায় এ ট্রেক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।

আর ট্রেক কিনতে আগ্রহী কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন হতে হবে কমপক্ষে ১০ কোটি টাকা। পাশাপাশি জামানত হিসেবে ডিএসইতে ৫ কোটি টাকা জমা রাখতে হবে। এ জামানতের টাকা থেকে সুদ বাবদ যে অর্থ আয় হবে, তা ডিএসইসির তহবিলে যাবে। ডিএসইর বর্তমান ট্রেকহোল্ডাররা লেনদেন ১০ কোটি টাকার ফ্রি লিমিট (লেনদেনের সীমা) ভোগ করেন। নতুন ট্রেকও এ সুবিধা পাবে। এর বেশি টাকার সুবিধা নিতে গেলে প্রতিষ্ঠানটিকে বাড়তি টাকা জমা রাখতে হবে। ট্রেকের জন্য আবেদন করতে আবেদনপত্র কিনতে হবে ১০ লাখ টাকায়।

স্টক এক্সচেঞ্জের ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইন তথা মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনাকে আলাদা করা সংক্রান্ত আইনে ট্রেক ইস্যুর বাধ্যবাধকতা আছে। এরপর গত বছরের ২৫ মার্চ ডিএসইর সম্মতি নিয়ে ট্রেক সংক্রান্ত খসড়া বিধিমালা প্রকাশ করেছিল বিএসইসি। এতে ট্রেক পেতে ৫ লাখ টাকা নিবন্ধন ফি ও ১ লাখ টাকা আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল। এছাড়া কমপক্ষে ৩ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন ও ২ কোটি টাকা জামানতের কথা বলা হয়েছিল তাতে।

ডিএসইর মতামত নিয়ে ওই খসড়া প্রকাশ করা হলেও বিষয়টি নিয়ে স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে ডিএসইকে লিগ্যাল নোটিশ দেয় ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। এমন পরিস্থিতিতে নতুন ট্রেক ইস্যুর ব্যাপারে কিছুটা পিছুটান দেয় বিএসইসি।

করোনাভাইরাসের অজুহাত দেখিয়ে গত বছরের ২৯ এপ্রিল বিএসইসির কমিশন বৈঠকে ট্রেক ইস্যু বিধিমালার খসড়ার বিষয়ে নতুন করে জনমত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে আইনটির বিষয়ে মতামত দেওয়ার জন্য ওই বছরের ১৪ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয় বিএসইসি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ডিএসই মতামত দেয়।

অবশেষে নতুন ট্রেক দিচ্ছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১০:০৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
অবশেষে নতুন ট্রেক দিচ্ছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ
ফাইল ছবি

অবশেষে নতুন ট্রেক (সদস্যপদ) দিচ্ছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এর মাধ্যমে ট্রেক সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের অচলায়তন ভাঙতে যাচ্ছে সংস্থাটি। মঙ্গলবার ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিএসই সংশ্লিষ্ট আইন, ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন স্কিম, বিধিমালা ও প্রবিধানমালা মোতাবেক যোগ্যতার ভিত্তিতে ট্রেক দেওয়া হবে। 

সভা শেষে বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

ট্রেক হচ্ছে শেয়ার লেনদেনের অধিকার সনদ বা ট্রেডিং রাইট অ্যানটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট। এ সনদ ছাড়া বাজারে কেউ শেয়ার লেনদেন করতে পারে না। 

বর্তমানে ডিএসইর সদস্যপদ ২৫০টি। কিন্তু সক্রিয় রয়েছে ২৩৮টি। আর গত ২০ বছরেও নির্দিষ্ট একটি চক্রের কাছে জিম্মি রয়েছে শেয়ারবাজার। নতুন করে কাউকে সদস্যপদ দেওয়া হয়নি। আগের যাদের সদস্যপদ ছিল, তারাই বিভিন্ন সময়ে বিক্রি করেছে। ২০১০ সালে প্রতিটি সদস্যপদের দাম ছিল ১০০ কোটি টাকার ওপরে। তবে এরপর শেয়ারবাজারে বিপর্যয় এলে সদস্যপদের দাম কমতে থাকে। কিন্তু নতুন সদস্যপদ ইস্যু হয়নি। 

সম্প্রতি শেয়ারবাজারে ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন (মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা আলাদাকরণ) হয়েছে। তবে নতুন ট্রেক দেওয়ার দাবি আসে। এ অবস্থায় এ ট্রেক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। 

আর ট্রেক কিনতে আগ্রহী কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন হতে হবে কমপক্ষে ১০ কোটি টাকা। পাশাপাশি জামানত হিসেবে ডিএসইতে ৫ কোটি টাকা জমা রাখতে হবে। এ জামানতের টাকা থেকে সুদ বাবদ যে অর্থ আয় হবে, তা ডিএসইসির তহবিলে যাবে। ডিএসইর বর্তমান ট্রেকহোল্ডাররা লেনদেন ১০ কোটি টাকার ফ্রি লিমিট (লেনদেনের সীমা) ভোগ করেন। নতুন ট্রেকও এ সুবিধা পাবে। এর বেশি টাকার সুবিধা নিতে গেলে প্রতিষ্ঠানটিকে বাড়তি টাকা জমা রাখতে হবে। ট্রেকের জন্য আবেদন করতে আবেদনপত্র কিনতে হবে ১০ লাখ টাকায়।

স্টক এক্সচেঞ্জের ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইন তথা মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনাকে আলাদা করা সংক্রান্ত আইনে ট্রেক ইস্যুর বাধ্যবাধকতা আছে। এরপর গত বছরের ২৫ মার্চ ডিএসইর সম্মতি নিয়ে ট্রেক সংক্রান্ত খসড়া বিধিমালা প্রকাশ করেছিল বিএসইসি। এতে ট্রেক পেতে ৫ লাখ টাকা নিবন্ধন ফি ও ১ লাখ টাকা আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল। এছাড়া কমপক্ষে ৩ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন ও ২ কোটি টাকা জামানতের কথা বলা হয়েছিল তাতে। 

ডিএসইর মতামত নিয়ে ওই খসড়া প্রকাশ করা হলেও বিষয়টি নিয়ে স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে ডিএসইকে লিগ্যাল নোটিশ দেয় ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। এমন পরিস্থিতিতে নতুন ট্রেক ইস্যুর ব্যাপারে কিছুটা পিছুটান দেয় বিএসইসি। 

করোনাভাইরাসের অজুহাত দেখিয়ে গত বছরের ২৯ এপ্রিল বিএসইসির কমিশন বৈঠকে ট্রেক ইস্যু বিধিমালার খসড়ার বিষয়ে নতুন করে জনমত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে আইনটির বিষয়ে মতামত দেওয়ার জন্য ওই বছরের ১৪ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয় বিএসইসি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ডিএসই মতামত দেয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন