আতঙ্কে শেয়ারবাজারে দরপতন
jugantor
আতঙ্কে শেয়ারবাজারে দরপতন

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৮ এপ্রিল ২০২১, ১৬:৫২:১৭  |  অনলাইন সংস্করণ

সপ্তাহের শেষদিনে শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল্যসূচক ৮২ পয়েন্ট কমেছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই দরপতন অস্বাভাবিক নয়। এর পেছনে নির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে। এর মধ্যে ৫ তারিখ থেকে টানা ৩ কার্যদিবসে সূচক ২৫০ পয়েন্ট বেড়েছিল। এক্ষেত্রে ৫ তারিখ যেসব বিনিয়োগকারী শেয়ার কিনেছিলেন, এদের একটি অংশ বাজার থেকে মুনাফা তুলে নিয়েছেন।

দ্বিতীয়ত, বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস। স্বাভাবিকভাবেই এদিন বাজার কিছুটা নিম্নমুখী থাকে। সামনে দুইদিন বন্ধ থাকায় মার্জিন ঋণের বিনিয়োগকারীরা এই ২ দিনের সুদ দিতে চায় না। এ কারণে তারা শেয়ার বিক্রি করে দেয়। এছাড়াও করোনায় সরকার ঘোষিত লকডাউন বাড়ানো নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি আতঙ্ক রয়েছে। লকডাউন বাড়লে তারা ঝুঁকি নিতে চাইবে না।

অন্যদিকে বুধবার ৬৬টি কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস (সর্বনিম্ন মূল্যস্তর) তুলে দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বৃহস্পতিবার থেকে তা কার্যকর হয়েছে। এটি বাজারে আতঙ্ক তৈরি করেছে। তবে এই ৬৬টি কোম্পানির বাজার মূলধন, মোট বাজার মূলধনের মাত্র ৫ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ এটি বাজার প্রভাবিত করার জন্য যথেষ্ট নয়। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের ধারণা ছিল, অন্যান্য কোম্পানিগুলোর ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়া হবে। এ কারণে তারা বড় মূলধনের কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে।

তবে কমিশন সূত্র নিশ্চিত করেছে, আর কোনো কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা তাদের নেই। ফলে বাজার নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। সূত্র বলছে, ঘোষণা দিয়ে না হলেও লকডাউন মোটামুটি তুলে দেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থায় আতঙ্ক নয়, বিনিয়োগকারীদের নতুন করে বিনিয়োগ করা উচিত। কারণ বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন মূল্যস্তর একেবারে আর্কষণ দামে চলে এসেছে। এটি বিনিয়োগকারীদের অত্যন্ত ভালো সুযোগ।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইতে বৃহস্পতিবার ৩৪৬টি কোম্পানির ১৪ কোটি ৭ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ৪৭৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। ডিএসইর ব্রড সূচক আগের দিনের চেয়ে ৮২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৫৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসইর মূল্যসূচক ২০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৯০ পয়েন্টে নেমেছে। ডিএসইর শরীয়াহ সূচক ১৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৯৭ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৪৭টি কোম্পানির শেয়ারের, কমেছে ২৬৪টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৫টি কোম্পানির শেয়ারের। ডিএসইর বাজার মূলধন আগের দিনের চেয়ে কমে ৪ লাখ ৫২ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

শীর্ষ দশ কোম্পানি: বৃহস্পতিবার ডিএসইতে যে সব কোম্পানির শেয়ার বেশি লেনদেন হয়েছে সেগুলো হলো- বেক্সিমকো লিমিটেড, রবি আজিয়াটা, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, অগ্রনী ইন্স্যুরেন্স, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ও বেক্সিমকো ফার্মা।

ডিএসইতে বৃহস্পতিবার যে সব কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে সেগুলো হলো- প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স, পূরবী জেনালে ইন্স্যুরেন্স, বিএনআইসিএল, অগ্রনী ইন্স্যুরেন্স, লিব্রা ইনফিউশন, রূপালী ইন্স্যুরেন্স, নর্দান ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স ও এনভয় টেক্সটাইল।

অন্যদিকে যে সব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে সেগুলো হলো- এএফসি এগ্রো, সেন্ট্রাল ফার্মা, এমএল ডাইং, কুইন সাউথ টেক্সটাইল, নাহী অ্যালুমিনিয়াম, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, সিনো বাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ, ইন্দো-বাংলা ফার্মা, সায়হাম কটন এবং খুলনা পাওয়ার।

আতঙ্কে শেয়ারবাজারে দরপতন

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৮ এপ্রিল ২০২১, ০৪:৫২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সপ্তাহের শেষদিনে শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল্যসূচক ৮২ পয়েন্ট কমেছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই দরপতন অস্বাভাবিক নয়। এর পেছনে নির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে। এর মধ্যে ৫ তারিখ থেকে টানা ৩ কার্যদিবসে সূচক ২৫০ পয়েন্ট বেড়েছিল। এক্ষেত্রে ৫ তারিখ যেসব বিনিয়োগকারী শেয়ার কিনেছিলেন, এদের একটি অংশ বাজার থেকে মুনাফা তুলে নিয়েছেন। 

দ্বিতীয়ত, বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস। স্বাভাবিকভাবেই এদিন বাজার কিছুটা নিম্নমুখী থাকে। সামনে দুইদিন বন্ধ থাকায় মার্জিন ঋণের বিনিয়োগকারীরা এই ২ দিনের সুদ দিতে চায় না। এ কারণে তারা শেয়ার বিক্রি করে দেয়। এছাড়াও করোনায় সরকার ঘোষিত লকডাউন বাড়ানো নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি আতঙ্ক রয়েছে। লকডাউন বাড়লে তারা ঝুঁকি নিতে চাইবে না। 

অন্যদিকে বুধবার ৬৬টি কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস (সর্বনিম্ন মূল্যস্তর) তুলে দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বৃহস্পতিবার থেকে তা কার্যকর হয়েছে। এটি বাজারে আতঙ্ক তৈরি করেছে। তবে এই ৬৬টি কোম্পানির বাজার মূলধন, মোট বাজার মূলধনের মাত্র ৫ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ এটি বাজার প্রভাবিত করার জন্য যথেষ্ট নয়। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের ধারণা ছিল, অন্যান্য কোম্পানিগুলোর ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়া হবে। এ কারণে তারা বড় মূলধনের কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে। 

তবে কমিশন সূত্র নিশ্চিত করেছে, আর কোনো কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা তাদের নেই। ফলে বাজার নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। সূত্র বলছে, ঘোষণা দিয়ে না হলেও লকডাউন মোটামুটি তুলে দেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থায় আতঙ্ক নয়, বিনিয়োগকারীদের নতুন করে বিনিয়োগ করা উচিত। কারণ বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন মূল্যস্তর একেবারে আর্কষণ দামে চলে এসেছে। এটি বিনিয়োগকারীদের অত্যন্ত ভালো সুযোগ। 

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইতে বৃহস্পতিবার ৩৪৬টি কোম্পানির ১৪ কোটি ৭ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ৪৭৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। ডিএসইর ব্রড সূচক আগের দিনের চেয়ে ৮২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৫৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসইর মূল্যসূচক ২০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৯০ পয়েন্টে নেমেছে। ডিএসইর শরীয়াহ সূচক ১৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৯৭ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৪৭টি কোম্পানির শেয়ারের, কমেছে ২৬৪টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৫টি কোম্পানির শেয়ারের। ডিএসইর বাজার মূলধন আগের দিনের চেয়ে কমে ৪ লাখ ৫২ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। 

শীর্ষ দশ কোম্পানি: বৃহস্পতিবার ডিএসইতে যে সব কোম্পানির শেয়ার বেশি লেনদেন হয়েছে সেগুলো হলো- বেক্সিমকো লিমিটেড, রবি আজিয়াটা, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, অগ্রনী ইন্স্যুরেন্স, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ও বেক্সিমকো ফার্মা। 

ডিএসইতে বৃহস্পতিবার যে সব কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে সেগুলো হলো- প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স, পূরবী জেনালে ইন্স্যুরেন্স, বিএনআইসিএল, অগ্রনী ইন্স্যুরেন্স, লিব্রা ইনফিউশন, রূপালী ইন্স্যুরেন্স, নর্দান ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স ও এনভয় টেক্সটাইল। 

অন্যদিকে যে সব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে সেগুলো হলো- এএফসি এগ্রো, সেন্ট্রাল ফার্মা, এমএল ডাইং, কুইন সাউথ টেক্সটাইল, নাহী অ্যালুমিনিয়াম, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, সিনো বাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ, ইন্দো-বাংলা ফার্মা, সায়হাম কটন এবং খুলনা পাওয়ার।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর