প্রকাশ : ০৯ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
দেশের প্রথম স্যাটেলাইট
মহাকাশ যাত্রায় মাইলফলক হোক
বাংলাদেশের তৈরি প্রথম কোনো ন্যানো স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের নজির তৈরি হল শুক্রবার। ‘ব্র্যাক অন্বেষা’ নামের স্যাটেলাইটটি বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের হলেও গোটা জাতির জন্য এটি গর্ব ও আনন্দের উপলক্ষই বটে। এর মধ্য দিয়ে মহাকাশ গবেষণার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের জন্য। আরও গৌরবের বিষয়, ব্র্যাক অন্বেষা নামক ন্যানো স্যাটেলাইটটি তৈরি করেছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়েরই তিন শিক্ষার্থী- রায়হানা শামস অন্তরা, আবদুল্লাহ হিল কাফি ও মাইসুন ইবনে মনোয়ার। এ তিন তরুণ বিজ্ঞানীসহ স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমরা অভিনন্দন জানাই। এমন একটা সময় তিন শিক্ষার্থী স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মতো বড় ধরনের সুসংবাদ শোনাল দেশবাসীকে, যখন জঙ্গিবাদ, মাদক, চোরাচালান ও খুন-ধর্ষণে অনেক তরুণের জড়িত হওয়ার খবরে জাতি হতাশ। আসলে সত্যিকারের পৃষ্ঠপোষকতা ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে আমাদের তরুণরা সবকিছুকেই সম্ভব করে তুলতে পারে- ব্র্যাক অন্বেষার উৎক্ষেপণ তারই নজির।
জানা যায়, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে শুক্রবার বিকাল ৩টা ১০ মিনিটে উৎক্ষেপিত হয়ে মহাকাশ প্রদক্ষিণ শুরু করেছে ব্র্যাক অন্বেষা। পৃথিবী থেকে ৪০০ কিলোমিটার ওপরে অবস্থান করে পৃথিবীর চারপাশে প্রদক্ষিণ করতে ৯০ মিনিট সময় নেবে স্যাটেলাইটটি। এটি বাংলাদেশের ওপর দিয়ে দৈনিক ৪-৬ বার উড়ে যাবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এর পাঠানো ছবিগুলো আমাদের মহাকাষ গবেষণা, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিতে বড় ধরনের অবদান রাখার সুযোগ তৈরি করবে। পাশাপাশি স্যাটেলাইট ও ন্যানো প্রযুক্তিধারী স্বল্পসংখ্যক দেশের তালিকায় প্রবেশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম বয়ে আনবে এটি। আশার কথা, উৎক্ষেপিত ব্র্যাক অন্বেষা স্যাটেলাইটটি জাপানে তৈরি হলেও এর দৃষ্টান্ত অনুসরণের মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে স্যাটেলাইট তৈরি করার কথা বলেছেন তিন শিক্ষার্থী। তাদের হাত ধরে স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে, এমনটিই সবার প্রত্যাশা।
যুগান্তরের খবরেই বলা হয়, ন্যানো স্যাটেলাইটটির অন্যতম কাজ হবে মহাকাষ গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ। এর পাঠানো ছবি ও তথ্য-উপাত্ত ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকরা গবেষণা ও পাঠদানে ব্যবহার করবেন। অনেকটা নতুন ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ব্র্যাকের এ সফলতা প্রশংসারযোগ্য। একই সঙ্গে দুর্ভাগ্যজনক হল, আমাদের প্রতিষ্ঠিত ও মোটা অনুদানপ্রাপ্ত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ও জ্ঞান সৃষ্টির খাতার বেশির ভাগ পাতাই সাদা শুধু নয়, খরচ করতে না পেরে গবেষণার অর্থ ফেরত যাওয়ার নজিরও আছে। ব্র্যাক অন্বেষা প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার ক্ষেত্রে গতির সঞ্চার করবে- এটাই প্রত্যাশা।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by