• বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭

  •       সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে মালদ্বীপকে ২-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ      রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে সবধরনের চাপ দেবে যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের পর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী; শরণার্থীদের জন্য ২৮ মিলিয়ন ডলারের সহায়তার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
মুহাম্মদ শফিকুর রহমান    |    
প্রকাশ : ০৯ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
টার্কি পালনের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা
টার্কি হল উত্তর আমেরিকার এক বিশেষ প্রজাতির মুরগি। শুধু আমেরিকা নয়, ইউরোপসহ পৃথিবীর বহু দেশে টার্কির মাংস অত্যন্ত জনপ্রিয়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে টার্কি প্রচুর বিক্রি হয়। আমেরিকানদের কাছে টার্কির রোস্ট খুব প্রিয়। টার্কির মাংসে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি। কোলেস্টেরল নেই বললেই চলে। টার্কির মাংসে আছে আয়রন, জিংক, লৌহ, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, এমাইনো এসিড, ট্্িরপটোফ্যান, ভিটামিন ই, ভিটামিন বি৬, বি১২। এমাইনো এসিড, ট্্িরপটোফ্যানের উপস্থিতি শরীরে রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। টার্কিতে বিদ্যমান অধিক পরিমাণে ভিটামিন ই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।
বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে অনেক টার্কি খামার গড়ে উঠেছে। বেশিরভাগ খামার ক্ষুদ্্র উদ্যোক্তাদের। অনেকে আবার নতুন উদ্যোক্তা। টার্কির লালন-পালন পদ্ধতি অনেকটাই সাধারণ মুরগির মতো। তবে সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, টার্কি মুরগি হল তৃণভোজী। এদের খাবারের ৫০ শতাংশেরও বেশি লতাপাতা, ঘাস ও পোকামাকড়, যা বসতবাড়ির আশপাশে পাওয়া যায়। এসবের জন্য বাড়তি অর্থ বিনিয়োগ করতে হয় না। ফলে টার্কির উৎপাদন খরচ কম পড়ে। ফার্মের মুরগির খাবারে বিষাক্ত ট্যানারি বর্জ্য, দ্রুত বৃদ্বির জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয় এমন অভিযোগ বেশ পুরনো। টার্কি পালনে এসব ব্যবহার করার প্রয়োজন হয় না।
টার্কি ৬-৭ মাসে ডিম পাড়ে। যত্ন নিলে ৮-১০ মাসে একটি টার্কির ওজন ১১ থেকে ১২ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। টার্কি পালনে ঝুঁকি কম। ফার্মের মুরগির মতো এরা সেনসেটিভ নয়। অসুখ-বিসুখ কম হয়। তবে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর সময় সতর্ক থাকতে হয়। সঠিক পদ্ধতি না জানলে ক্ষতি হতে পারে।
বাংলাদেশে টার্কি নতুন। তেমন পরিচিত নয়। নরসিংদী, রংপুরসহ দেশের কয়েকটি স্থানে টার্কির খামার গড়ে উঠেছে। দেশের সুপার স্টোরগুলোতে টার্কি বিক্রি হয়। সাধারণ বাজারে বিক্রি হওয়ার মতো পর্যায়ে উৎপাদন পৌঁছেনি। দামটাও এখনও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। তবে ভোজনরসিক বাঙালি টার্কিকে সাদরে গ্রহণ করবে আশা করি।
অন্যসব পাখির মতো টার্কি উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশের আবহাওয়া অত্যন্ত উত্তম। দরকার সরকারি সহায়তা। বিশেষ করে প্রয়োজন সহজ শর্তে ঋণ, কারিগরি সহযোগিতা আর উন্নত প্রশিক্ষণ। সঠিক গাইডলাইন আর সহায়তা পেলে টার্কির মাংস রফতানি করাও সম্ভব। বৈদেশিক বাজারে টার্কির মাংসের বিপুল চাহিদা রয়েছে।
মুহাম্মদ শফিকুর রহমান : প্রকৃতি ও পশুপাখিবিষয়ক লেখক




আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by