প্রশাসনের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনও সন্ত্রাসের অংশ: ড. মঈন

  নরসিংদী প্রতিনিধি ২১ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:৫১ | অনলাইন সংস্করণ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান (ফাইল ছবি)

নরসিংদীতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি ও হামলা, মামলা ও সহিংসতার হাত থেকে রক্ষা পেতে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে নরসিংদীর ৫টি আসনের বিএনপির প্রার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করেছে।

শুক্রবার দুপুরে নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান অভিযোগ করেন, প্রশাসনের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনও সন্ত্রাসের অংশ। কারণ সারা বাংলাদেশে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীদের নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থীদের গণসংযোগ ও প্রচারণার সময় হামলার ঘটনা ঘটছে।

তিনি বলেন, আমরা লিখিতভাবে ড. কামালের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে কমিশনারকে জানিয়েছি। কিন্তু চার দিন অতিবাহিত হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, নির্বাচন কমিশন বড় বড় অক্ষরে আচরণবিধিমালা প্রণয়ন করেছেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘনের গণহিড়িক চালালেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাই বলতে চাই, প্রশাসনের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনও সন্ত্রাসের অংশ।

তিনি বলেন, আমরা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। তাদের লগি-বৈঠার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। তাই বলে কি আমাদের জীবনের নিরাপত্তা থাকবে না? ভোটের অধিকার থাকবে না? রাম দা দিয়ে আমাদের মেরে ফেলে দেশকে সন্ত্রাসের জনপদ তৈরি করবে?

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন নরসিংদী-১ সদর আসনের কারাবন্দি প্রার্থী খায়রুল কবির খোকনের স্ত্রী শিরিন সুলতানা, নরসিংদী-৩ শিবপুর আসনের প্রার্থী মঞ্জুর এলাহী, নরসিংদী-৪ মনোহরদী বেলাবো আসনের প্রার্থী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল ও নরসিংদী-৫ রায়পুরা আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আশ্রাফ উদ্দিন বকুল।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল বাছেদ ভূইয়া, মাধবদী বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমানউল্লাহ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান উম্মে সালামা মায়া, অ্যাডভোকেট কানিজ ফাতেমাসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এদিকে সংবাদ সম্মেলন শেষে ফেরার পথে আইনজীবী মিলনায়তন থেকে বের হওয়ার পর বিএনপির ১৫ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ।

নরসিংদী-১ সদর আসনের কারাবন্দি প্রার্থী খায়রুল কবির খোকনের স্ত্রী শিরিন সুলতানা বলেন, একটি সাজানো ও ষড়যন্ত্র মামলায় বিএনপির প্রার্থী খায়রুল কবির খোকনকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। আমরা তার পক্ষ হয়ে প্রচারণা করতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালায়। আমাদের একটি পোস্টারও লাগাতে পারি না। সকালে পোস্টার সাঁটানো হলে বিকালে ছিঁড়ে ফেলে। প্রার্থী কারাগারে, পোস্টার থাকে না, প্রচারণা চালাতে পারি না। তাহলে কিসের নির্বাচন করব?

নরসিংদী-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুর এলাহী বলেন, আমাদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আমাদের ১০টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছে। ১৫টি গাড়ি ভেঙে দিয়েছে। সাত কর্মী গুরুতর আহতাবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। প্রচারণা করতে গেলে আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখছে। তাহলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কোথায়?

নরসিংদী-৪ মনোহরদী-বেলাবো আসনের বিএনপি প্রার্থী সরদার শাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, নির্বাচনের কোনো আবহাওয়া নেই। ভোট চাওয়ার মতো কোনো অবস্থা নেই। যে দিক দিয়ে নেতাকর্মীদের প্রচারণায় বের হই, সে দিকেই রাম দার আক্রমণ। আমাদের গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। অথচ আমাদের মামলা নেয় না পুলিশ। উল্টো আমাদের ৪২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলাদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে। পুরুষদের বলছে, ভোটকেন্দ্রে গিয়ে মরবে নাকি? ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি দাও, আমরাই তোমাদের ভোট দিয়ে দিব।

ড. আবদুল মঈন খাঁন আরও বলেন, ঘটনার সময় পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেছে। বাংলাদেশ কি সন্ত্রাসী জনপদে পরিণত হয়েছে। এই জন্য কি লাখ লাখ মানুষের রক্ত ও সংগ্রামের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করেছিল এই বাংলাদেশের জন্য। আমি সবার কাছে এই প্রশ্ন রাখতে চাই। এই দেশের বুকে তারা আজকে বিজয় দিবসের দিনে কলঙ্ক লেপন করেছে। সেই কলঙ্ক থেকে বাংলাদেশ কবে বের হবে, তা আমাদের জানা নেই।

ঘটনাপ্রবাহ : নরসিংদী-২: জাতীয় সংসদ নির্বাচন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×