নড়াইলে প্রার্থীরা নিশ্চুপ, এখন শুধু ভোটের অপেক্ষা

  নড়াইল প্রতিনিধি ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৪:৫১ | অনলাইন সংস্করণ

নড়াইলে প্রার্থীরা নিশ্চুপ, এখন শুধু ভোটের অপেক্ষা
ছবি: যুগান্তর

সারা দেশের মতো নড়াইলের দুটি আসনে যথারীতি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে রোববার। নির্বাচন বিধি অনুযায়ী শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শেষ হয়েছে নির্বাচনের প্রচার। তাই উৎসবের এ ছোট্ট জেলাটি এখন অনেকটাই নিশ্চুপ। নেই কোনো হাঁকডাক ও প্রচার উৎসব। নেই রাস্তায় মোটর শোডাউন কিংবা কর্মীদের হুড়োহুড়ি। কেবল ভোটের অপেক্ষা।

বিরোধীপক্ষের ভোটারদের মধ্যে এ নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের শঙ্কা থাকলেও আপাতত সেটি বোঝার উপায় নেই। কে হবেন নড়াইল-১ ও ২ আসনের সাংসদ, তা নির্ধারণে প্রায় ৫ লাখ ২৩ হাজার ৬৭৩ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন কাল।

একদিকে সরকারি দল, অন্যদিকে মাঠের প্রধান বিরোধী দল। কোন শিবির থেকে উঠে আসবেন সাংসদ সে ফল পেতে এখনও রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে নড়াইলবাসীকে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নড়াইল জেলাটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে খ্যাত। যে কারণে এ দুটি আসনে ১৯৯১ সাল থেকে অদ্যাবধি আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়ে আসছেন। এবারও আ’লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়ে তাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে চান।

অন্যদিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট চায় বিজয় ছিনিয়ে এনে এ দুর্গে হানা দিতে। নড়াইল-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বিএম কবিরুল হক মুক্তি ও বিএনপির বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে।

আ’লীগের প্রার্থী কবিরুল হক মুক্তি ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনের মতো এবারও ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবেন বলে ভোটারদের অভিমত।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, সার্বিক পরিবেশে ও ব্যবস্থাপনায় সরকারদলীয় প্রার্থীদের কর্মীরা উচ্ছ্বসিত। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কর্মীরা অজানা আতঙ্ক, গুজব বা পরাজয়ের ভয়ে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন।

এদিকে নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে টহল দিতে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে নির্বাচনী বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, সরকারদলীয় ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা। কিন্তু ২০-দলীয় জোটের প্রার্থী ও ভোটারদের নির্বাচনী এলাকায় চোখে পড়ার মতো তৎপর দেখা যায়নি।

গ্রামাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, ২০-দলীয় জোটের কর্মী-সমর্থকরা নিরুত্তাপ। তারা এ ভোট নিয়ে তেমন কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

ফলে প্রায় কোণঠাসা হয়ে অল্পসংখ্যক সমর্থক নিয়ে প্রচার কার্যক্রম চালাতে হয়েছে ২০-দলীয় জোটের প্রার্থীদের। পক্ষান্তরে আওয়ামী লীগদলীয় প্রার্থীরা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও হাটবাজারের সভাগুলোতে জেলা-উপজেলার সবস্তরের দলীয় নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজামউদ্দিন খান নিলু জানান, দুটি আসনেই আ’লীগের প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করবেন।

নড়াইল-১ আসনের ২০-দলীয় জোটের প্রার্থী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম জানান, ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী ও তার কর্মীরা বিভিন্নভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। রাস্তঘাটে চলাফেরা করতেও আমরা নিরাপদ নই। তবু আমি মানুষের দ্বারে দ্বারে গেছি। তাদের কাছে ভোট চেয়েছি।

অন্যদিকে নড়াইল-২ আসনে আ’লীগের প্রার্থী বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা প্রতিদিন ২০-২৫টির মতো পথসভা ও যথারীতি গণসংযোগ করেছেন।

দলীয় নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষ ও তার ভক্তসহ মাশরাফির বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এ ছাড়া ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী এনপিপির চেয়ারম্যান এজেডএম ড. ফরিদুজ্জামানকে প্রচারে তেমন একটা দেখা যায়নি।

এ ছাড়া তিনি ভোটারদেরও তেমন একটা সাড়া দেখাতে পারেননি। বিএনপির দলীয় কোন্দলের কারণে সিনিয়র নেতারা নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে তেমন একটা অংশ নেননি। নির্বাচনে ভরাডুবির কথা ভেবে অনেক বিএনপির নেতা ও কর্মীরা ব্যক্তি মাশরাফিকে নৌকায় ভোট দেয়ার কথা ব্যক্ত করেছেন। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার আনজুমান আরা বলেন, নড়াইল-১ ও ২ আসনের নির্বাচনী এলাকায় ভোটগ্রহণের পরিবেশ অনুকূল এবং ভোটগ্রহণের উপযোগী। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : নড়াইল-২: জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×