রংপুরে আড়াই হাজার ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

  মাহবুব রহমান, রংপুর ব্যুরো ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:১১ | অনলাইন সংস্করণ

রংপুরে আড়াই হাজার ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ
রংপুরে আড়াই হাজার ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। ছবি যুগান্তর

রংপুর বিভাগের ৩৩টি সংসদীয় আসনে ৪ হাজার ২৯৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস।

এ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভোটার ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার কাজে প্রায় ৬৬ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত আছে। প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য ৬ স্তরের নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশের রংপুর ডিআইজি দেবদাশ ভট্টাচার্য শনিবার তার অফিসে এক প্রেসব্রিফিং করে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তবে নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যাও ওঠানামা করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও এসব কেন্দ্রের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া আছে।

আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, রংপুরে ৮৪৪টি, দিনাজপুরে ৭৯০টি, গাইবান্ধায় ৪৭৪ (গাইবান্ধা-৩ আসনে ভোট স্থগিত), ঠাকুরগাঁওয়ে ৪০০টি, নীলফামারীতে ৫১৮টি, কুড়িগ্রামে ৬৯৬টি, লালমনিরহাটে ৩৭১টি ও পঞ্চগড়ে ২৮৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রের অর্ধেকের বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রংপুর বিভাগের ৩২টি আসনের (১টি সিটি করপোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ড, ২৬টি পৌরসভার ২৪৩টি ওয়ার্ড, ৫৭টি উপজেলা এবং ৫৩৬টি ইউনিয়ন পরিষদ) ৪ হাজার ৪৯২টি ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব নির্বাচনী এলাকার ৪ হাজার ৩৬১টি ভোটকেন্দ্রের ২২ হাজার ১০৭টি ভোটকক্ষের জন্য ৬ স্তরের নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মোতায়েন করা হয়েছে ২ হাজার সেনা সদস্যসহ প্রায় ৬৬ বিজিবি,র‌্যাব, পুলিশ, আনসার, গ্রামপুলিশ। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে ৭১টি ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ২৭০টি স্ট্রাইকিং ফোর্স পরিচালনার জন্য দেয়া হয়েছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

বিচার বিভাগের অধীনে ১৪টি নির্বাচন তদন্ত কমিটি কাজ করছে মাঠে। নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৭১ হাজার ৪১৩ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা। এই বিভাগে ভোটার রয়েছেন ১ কোটি ১১ লাখ ৭৩ হাজার ৭২৫ জন।

রংপুরের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জিএম সাহাতাব উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, রংপুর বিভাগের ৩৩টি সংসদীয় আসনের মধ্যে গাইবান্ধা-৩ আসনের একজন প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে সেখানে ভোট স্থগিত করা হয়েছে।

এছাড়া ৩২টি আসনে ভোটগ্রহণ করার সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস সূত্র জানিয়েছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রংপুর বিভাগের ৩২টি আসনের (১টি সিটি করপোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ড, ২৬টি পৌরসভার ২৪৩টি ওয়ার্ড, ৫৭টি উপজেলা এবং ৫৩৬টি ইউনিয়ন পরিষদ) ৪ হাজার ৪৯২টি ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে।

এসব নির্বাচনী এলাকার ৪৩৬১টি ভোটকেন্দ্রের ২২ হাজার ১০৭টি ভোটকক্ষের জন্য ৬ স্তরের নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বিভাগের ৪ হাজার ৪৯২টি ভোটকেন্দ্রে ২২ হাজার ১০৭টি কক্ষে ভোটগ্রহণ জন্য ইতিমধ্যেই ৮ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা, ১১৬ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৪ হাজার ৪৯২ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ২২ হাজার ৯৩৩ জন সহকারী প্রিসাইটিং অফিসার এবং ৪৫ হাজার ৮৬৬ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ করার পর তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

বিভাগের ৩২টি আসনের মধ্যে রংপুর-৩ (সদর-আংশিক সিটি করপোরেশন) এ ভোটগ্রহণের জন্য ইলেকট্রনিকস ভোটিং মেশিন-ইভিএম এবং বাকি ৩১টি আসনের জন্য স্বচ্ছ ব্যালটবক্স, ব্যালট পেপার, সিলসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি ভোটকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়াও এই বিভাগের রংপুর সিটি করপোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ড, ২৭টি পৌরসভার ২৪৩টি ওয়ার্ড এবং ৫৮টি প্রতিটি সিটি, পৌরসভা ও উপজেলায় ১৪ জন করে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে আছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এসব স্ট্রাইকিং ফোর্সকে পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনার জন্য ৩টি করে ইউনিয়ন-ওয়ার্ড মিলে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে ২৭০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যেই এই বিভাগে ৭১ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৭১টি ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা ১ জানুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত মাঠে কাজ করবে।

এই সময়ে তারা নির্বাচনী অপরাধগুলো তারা ক্রিমিনাল প্রসিডিউর ১৮৮৯-এর সেকশন ১৯০-এর সাব সেকশন ১ এর অধীনে আমলে নিয়ে সংক্ষিপ্ত বিচার পরিচালনা করবেন।

এছাড়াও এই বিভাগে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে নির্বাচনপূর্ব ও পরের অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে ১৪টি নির্বাচনী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যাদের দায়িত্বে আছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার যুগ্ম ও জেলা দায়রা জজ এবং সহকারী জজ মর্যাদার বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা।

রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য্য সাংবাদিকদের জানান, রংপুর বিভাগের ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জিএম সাহতাবউদ্দিন বলেন, ‘নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। আশা করি রংপুর বিভাগে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×