ধানের শীষবোঝাই ট্রাক নিয়ে নৌকায় উঠছেন রেজাউল!

প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:০৯ | অনলাইন সংস্করণ

  বগুড়া ব্যুরো

রেজাউল করিম বাবলু

বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে বিএনপির সমর্থন নিয়ে বিপুল ভোটে এমপি হওয়া স্বতন্ত্র (ট্রাক) প্রার্থী রেজাউল করিম বাবলু আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

তিনি এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে ইতিমধ্যে যোগাযোগ শুরু করেছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আসাদুর রহমান দুলু বলেন, বাবলু আমাদের সঙ্গেই রাজনীতি করেন। আগামী সপ্তাহে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দেবেন।

এদিকে শাজাহানপুর উপজেলা জাপা দাবি করছে, বাবলু এখনও তাদের কমিটির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক।

এসব খবরে বিএনপির নেতাকর্মীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। তারা ধিক্কার ও ব্যঙ্গ করে বলছেন, ‘বাবলু ধানের শীষবোঝাই ট্রাক নিয়ে নৌকায় উঠছেন।’

তবে নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু ফোন বন্ধ রাখায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ডোমনপুকুর গ্রামের ময়েন উদ্দিন গোলবাগীর ছেলে রেজাউল করিম বাবলু এলাকায় শওকত হোসেন গোলবাগী নামেও পরিচিত। তিনি এবারের সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন সংগ্রহ করেন।

এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে সমস্যার কারণে রিটার্নিং অফিসার তার মনোনয়ন বাতিল করেছিলেন। পরে তিনি হাইকোর্টে রিটের মাধ্যমে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পান।

এদিকে বিএনপি প্রার্থী বেগম খালেদা জিয়া মামলায় সাজার কারণে ও ডামি প্রার্থী মোরশেদ মিল্টনের গাবতলী উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ গৃহীত না হওয়ায় উচ্চ আদালতের আদেশে তারা নির্বাচনে অযোগ্য হন। ফলে আসনটি বিএনপিশূন্য হয়ে পড়ে।

শেষ মুহূর্তে বিএনপি থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম বাবলুকে সমর্থন দেয়া হয়। নেতারা ধানের শীষের ভোটারদের বাবলুর ট্রাক মার্কায় ভোট দিতে অনুরোধ করে।

এর প্রেক্ষিতে ধানের শীষের ‘অন্ধ সমর্থকরা’ তাকে এক লাখ ৯০ হাজার ২৯৯ ভোটে এমপি নির্বাচিত করেন। এ আসনে অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী গাবতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজম খানের স্ত্রী ফেরদৌস আরা খান ৬৫ হাজার ২৯২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন।

এছাড়া মহাজোট প্রার্থী জাপা নেতা এমপি মুহম্মাদ আলতাফ আলী মাত্র ২৬ হাজার ৫৪ ভোট পেয়ে জামানত হারান।

বগুড়া পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোরশেদুল আলম হিরু ও অন্যরা জানান, গত রোববার নির্বাচন শেষ হওয়ার পর বাবলু আওয়ামী লীগে যোগ দিতে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। নেতারাও তাকে আওয়ামী লীগে নেয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন।

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুর রহমান দুলু জানান, বাবলু আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন শেখ রাসেল মেমোরিয়াল সমাজকল্যাণ সংস্থার বগুড়া জেলা সহসভাপতি। বাবলু আগে থেকেই আমাদের সঙ্গে ছিলেন। আর আগামী সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করবেন।

শেখ রাসেল মেমোরিয়াল সমাজকল্যাণ সংস্থার বগুড়া জেলা সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, বাবলুকে আওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন না দেয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। আর কৌশলগত কারণে বিএনপির সমর্থন নিয়ে এমপি হয়েছেন। আমরা মনে করি বাবলু আমাদেরই লোক।

শাজাহানপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আবদুল হান্নান জানান, শওকত আলী গোলবাগী ওরফে রেজাউল করিম বাবলু তার সংগঠনের এখনও তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক।

এদিকে রেজাউল করিম বাবলু বিএনপির সমর্থন নিয়ে এমপি হওয়ার পর আওয়ামী লীগে চলে যাচ্ছেন এমন খবরে শাজাহানপুর ও গাবতলী উপজেলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

শাজাহানপুরের কাটাবাড়িয়া গ্রামের আবদুল মতিন জানান, বাবলু ধানের শীষবোঝাই ট্রাক নিয়ে নৌকায় যাচ্ছে।

তিনি ধিক্কার জানিয়ে বলেন, তাকে (বাবলু) সমর্থন দেবার কারণে বিএনপির আসাদুজ্জামান অটল, ইউনুস আলী সাদিক প্রমুখ নেতাকর্মীকে জেলে যেতে হয়েছে। আর তিনি বেঈমানি করে আওয়ামী লীগে যাচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে শাজাহানপুর উপজেলার বিএনপির আহ্বায়ক আবুল বাশার জানান, তাদের সমর্থনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলুর আওয়ামী লীগে যোগদানের খবরটি স্রেফ গুজব।