কিশোরগঞ্জের আস্থায় তিন রাষ্ট্রপতিপুত্র

প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ

  এ টি এম নিজাম, কিশোরগঞ্জ ব্যুরো

(বাঁ থেকে) সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, নাজমুল হাসান পাপন ও রেজওয়ান আহমেদ তৌফিক। ছবি: সংগৃহীত

মহান মুক্তিযুদ্ধ পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার ও দলে কিশোরগঞ্জের তিন কৃতী পুরুষ এবং দেশবরেণ্য রাজনীতিক মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী মুজিব নগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম,প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের অবদান সর্বজন স্বীকৃত।

এই তিন মহান পুরুষের সন্তানরা আজ সেই আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা থেকে আওয়ামী লীগের পতাকা হাতে কিশোরগঞ্জের রাজনীতিতে অসামান্য স্বাক্ষর রেখে চলছেন।

এদের মধ্যে জাতীয় অন্য তিন নেতার সঙ্গে কারাগারে শহীদ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের জ্যেষ্ঠ পুত্র সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বাবার অবর্তমানে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে একাধারে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পাঁচবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন।

বিশেষ করে এবার তিনি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় থাইল্যান্ডের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ের হাসি হাসেন।

মৃদু ও মিষ্টভাষী সাধারণ জীবনাচরণে অভ্যস্ত আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বর্তমান জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এর আগে দলটির সাধারণ সম্পাদক,স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ও বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বপালন করেন।

বিগত ওয়ান-ইলেভেনের সামরিক সমর্থিত সরকারের দুঃসহ দিনগুলোতে দলের অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখে দলকে আলোর পথে টেনে আনার অসামান্য অবদান রেখে প্রশংসিত হন সৈয়দ আশরাফ।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের অবর্তমানে তার একমাত্র পুত্র বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বাবা রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর উপনির্বাচনের মাধ্যমে রাজনীতিতে তার যাত্রা শুরু হয়।

পরবর্তীতে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি বিপুল ভোটে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

কিশোরগঞ্জের অপর অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর স্নেহভাজন আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তার জ্যেষ্ঠ পুত্র রেজওয়ান আহমেদ তৌফিক উপনির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে একাধারে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন।

প্রসঙ্গত,১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত কিশোরগঞ্জে সন্তান সৈয়দ নজরুল ইসলাম আওয়ামী লীগের সহসভাপতির দায়িত্বপালন করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল আন্দোলন সংগ্রমের সময় বঙ্গবন্ধু যতবার কারাগারে অন্তরীণ হন-ততবারই অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে অস্থায়ী সভাপতি হিসেবে দলের হাল ধরেন তিনি।

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলায় গঠিত মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও উপদেষ্টা মনোনীত হন তিনি। এ ছাড়া মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী,কমরেড মণি সিং,অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদের সঙ্গে উপদেষ্টা মনোনীত হন কিশোরগঞ্জের অপর কৃতী সন্তান মনোরঞ্জন ধর।

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের কয়েক দিনের মধ্যেই তার নেতৃত্বে সংসদীয় সরকার গঠিত হয়। এ সরকারে সৈয়দ নজরুল ইসলাম শিল্পমন্ত্রী ও মনোরঞ্জন ধর আইনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালন করেন।

সরকার গঠনের অব্যাহতির পর বঙ্গবন্ধু দল পুনর্গঠনে মনোযোগ দেন এবং ১০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগের কাউন্সিল। এ কাউন্সিলে সর্বসম্মতিক্রমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সভাপতি এবং কিশোরগঞ্জের কৃতী সন্তান সৈয়দ নজরুল ইসলাম সহসভাপতি ও জিল্লুর রহমান দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বাকশাল গঠিত হলে সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাকশালের সহসভাপতি এবং জিল্লুর রহমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন।

পরতর্তীতে জিল্লুর রহমান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দীর্ঘদিন দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে দেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তার মৃত্যুর পর কিশোরগঞ্জের অপর কৃতী সন্তান সাবেক বিরোধীদলীয় উপনেতা,ডেপুটি স্পিকার ও স্পিকার আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখার জন্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সাফল্যের মুকুটে সর্বশেষ যুক্ত হয় স্বাধীনতা পদকের হীরণ্ময় পালক।