পেট্রলবোমা মারা সেই বিএনপি নেতারা আ’লীগে

  কক্সবাজার প্রতিনিধি ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:২৫ | অনলাইন সংস্করণ

পেট্রলবোমা মারা সেই বিএনপি নেতারা আ’লীগে
এমপি জাফর আলমের হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন বিএনপি নেতারা। ছবি: যুগান্তর

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অফিস পোড়ানো মামলার পলাতক আসামি তিন বিএনপি নেতার নেতৃত্বে দলের ২০-২৫ জন নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন।

স্থানীয় এমপির হাতে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে ২০-২৫ জনের বিএনপি নেতাকর্মী নিয়ে বুধবার আওয়ামী লীগে যোগদান করেন তারা।

সূত্রমতে, বুধবার বিকালে পেকুয়া উপজেলার টইটং উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কর্তৃক আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত এমপি জাফর আলমের হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন বিএনপির এসব নেতা।

এ সময় পেকুয়া থানা পুলিশের ওসি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অথচ নৌকার অফিস পোড়ানো মামলায় পুলিশের খাতায় পলাতক আসামি তারা।

স্থানীয় সূত্রমতে, আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া বিএনপি নেতারা হলেন- পেকুয়া মাতবর পাড়া গ্রামের আহমদ নুরের ছেলে পেকুয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি একাধিক নাশকতা মামলার পলাতক আসামি মাহবুল করিম, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের আবদুল হামিদ সিকদারপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে পেকুয়া সদর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইসমাইল সিকদার এবং পেকুয়া মইয়াদিয়া গ্রামের মোস্তাক আহমদের ছেলে উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য মমতাজুল ইসলাম।

এ বিষয়ে পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, বিএনপির এসব নেতা একসময় ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। তারা তাদের ভুল বুঝতে পেরেছেন। তারা দলে যোগ দিলেও কোনো পদ-পদবি দেয়া হয়নি। তাদেরকে আমরা পর্যবেক্ষণে রাখব। যদি তাদের কর্মকাণ্ড ভালো হয় তাহলে দলে রাখব, না হয় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

তিনি আরও বলেন, তিনজনের মধ্যে মাহবুব মেম্বারের নামে শুধু মামলা রয়েছে। বাকিদের নামে মামলা নেই।

পেকুয়া থানা সূত্র জানায়, গত ২২ ডিসেম্বর পেকুয়া বাজারস্থ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অফিসে পেট্রলবোমা মেরে জ্বালিয়ে দেয়ার অভিযোগে জামায়াত-বিএনপির ১৫২ জনের নামে পেকুয়া থানায় মামলা করেন সদর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন। এ মামলার ৪নং আসামি পেকুয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মাহবুল করিম এবং ১৫নং আসামি ইসমাইল সিকদার।

মামলার বাদী নাসির উদ্দিন বলেন, পেকুয়ায় নির্বাচনী অফিসে আগুন দেয়ার ঘটনায় আমি বাদী হয়ে মামলা করেছি দলের স্বার্থে। সংবর্ধনা সভায় আমি উপস্থিত ছিলাম না। তাই আমি এ ঘটনা সম্পর্কে জানি না।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বারবাকিয়া ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহমুদুল করিম বলেন, এসব অতিথি পাখি সুবিধাভোগী। মামলা থেকে রেহাই পেতে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে। এটা দলের জন্য অশুভ সংকেত।

পেকুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কফিল উদ্দিন বলেন, এটি একটি রাজনৈতিক কৌশল। বিএনপিকে দুর্বল করতে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করছি। এতে দলের কোনো সমস্যা হবে না। যারা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তারা বিষয়টি বুঝতে অক্ষম।

পুলিশের সামনে পলাতক আসামি আওয়ামী লীগে যোগদানের ব্যাপারে জানতে চাইলে পেকুয়া থানা পুলিশের ওসি জাকির হোসেন ভূইয়া বলেন, পালাতক ওইসব আসামিকে ধরতে কাজ করছে পুলিশ। তারা আত্মগোপনে থাকায় ধরতে পারিনি। তবে তারা আওয়ামী লীগে যোগদানের বিষয়টি আমার জানা নেই।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আরও
--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×