অভিনয় আমার প্যাশন, উপস্থাপনা পেশা: শান্তা রহমান

  বিনোদন ডেস্ক ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:০৩ | অনলাইন সংস্করণ

সময়ের জনপ্রিয় উপস্থাপিকা, অভেনেত্রী এবং মডেল শান্তা রহমান। ছবি: যুগান্তর
সময়ের জনপ্রিয় উপস্থাপিকা, অভেনেত্রী এবং মডেল শান্তা রহমান। ছবি: যুগান্তর

শান্তা রহমান, সময়ের জনপ্রিয় উপস্থাপিকা, অভেনেত্রী এবং মডেল। বেসরকারি স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ করছেন তিনি।

নিয়েছেন বাফা থেকে রবীন্দ্র সংগীতের ওপর বিশেষ কোর্স এবং কিছুদিন শিক্ষানবিশ ছিলেন লোকনাট্য দলে। বিগত বছরগুলোতে ছোট পর্দায় নানা ধারবাহিকগুলোতে ব্যস্ত সময় কাটালেও সাম্প্রতিককালে গুরুত্ব দিচ্ছেন বেশি উপস্থাপনাকে।

এই মুহুর্তে চ্যানেল আইতে বিজনেস শো, খোলা আকাশ, তারকা কথন, শিল্পলোকসহ অন্যান্য চ্যানেলে আরও অন্যান্য অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করছেন। কথা হল তাঁর সঙ্গে। কথোকপনের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হল-

দৈনিক যুগান্তর: মিডিয়াতে অনেক দিন ধরেই আছেন, কেন হঠাৎ উপস্থাপনাতে ঝুঁকলেন?

শান্তা: আমাদের দেশে কিন্তু উপস্থাপনাকে পেশা হিসেবে ধারাটা এখনো সেভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কিন্তু যতই দিন গড়াচ্ছে ততই বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোর সংখ্যা আর সেই সঙ্গে নানা রকমের শো-এর সংখ্যা কোনভাবেই কমছে না বরং দারুণভাবে বাড়ছে! প্রচুর চ্যানেলের প্রচুর অনুষ্ঠানের জন্য স্বাভাবিকভাবেই অনেক সঞ্চালকের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। আমি এটাকে চ্যালেঞ্জিংভাবে নিয়েছি। তাই সব দিক বিবেচনা করে সঞ্চালনাতে মনোযোগ দিয়েছি।

দৈনিক যুগান্তর: উপস্থাপনার কোন পার্টকে আপনার কাছে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বলে মনে হয়?

শান্তা: উপাস্থপনার সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং পার্ট আমার কাছে মনে হয়, শো-গুলোর বৈচিত্র্যতা। এক শো থেকে আরেকটি আলাদা। আর বলতেই হয় যে প্রতিটি শো এর জন্যই নিজেকে নতুনভাবে তৈরি করতে হয়। নতুন কাজের জন্য নতুনভাবে নিজেকে সাজানোটাই আমার কাছে চ্যালেঞ্জিং। আরেকটা বিষয় হলো এখানে কিন্তু আমার দর্শকের সঙ্গে সবক্ষেত্রেই সরাসরি কমিউনিকেশন হয়। তাই এটাকে আর বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে হয়।

দৈনিক যুগান্তর: উপাস্থপনার কোন দিকটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি টানে?

শান্তা: আমি বলব দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ আর একটা লাইভ ফিডব্যাকের ব্যাপারটাই আমার কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যাপার মনে হয়। এটা একটা সম্পূর্ণ অন্যরকম অভিজ্ঞতা।

দৈনিক যুগান্তর: ইন্ড্রাস্ট্রিতে আসার পথে আপনার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন কেউ?

শান্তা: সেভাবে বলতে গেলে আমি প্রথম অভিনয়ে আসার অনুপ্রেরণা পাই সুবর্ণা মোস্তফা আপাকে দেখে। তাছাড়া জয়া আহসানকেও অনেক ভাল লাগে। সব সময়ই নিজেকে তাঁর ছাড়িয়ে যাবার ব্যাপারটা ভাল লাগে আমার। আর উপাস্থপনাতে শারমিন লাকী ছিলেন আমার বরাবরের আইডল।

দৈনিক যুগান্তর: নিজেকে অভিনেত্রী নাকি উপস্থাপিকা হিসেবে দেখতে ভালবাসেন?

শান্তা: অভিনয়টা আমার প্যাশনের জায়গা, এটা আমি সুযোগ পেলেই চালিয়ে যাব। আর উপস্থাপনাকে আমি নিজের পেশা হিসেবে নিয়েছি। বলতে গেলে আমি দুটোকে নিয়েই গর্ব বোধ করি। দুটোই আমার কাছে প্রিয়।

দৈনিক যুগান্তর: উপস্থাপনা নিয়ে নিজের কোন মজার অভিজ্ঞতা আছে?

শান্তা: লাইভ প্রোগ্রামগুলোতে দর্শকদের আজব সব প্রশ্নত থাকে, এছাড়া অতিথিদের সঙ্গেও মজার অভিজ্ঞতা থাকে। তবে বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতাগুলোও কম যায় না। একবার এক টেলিকম কোম্পানির কুমিল্লাতে হওয়া এক প্রোগ্রামের অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে গিয়ে শুনতে হয়েছিল, “আপা কলরেট কমান না কেন?”, এটা মনে পরলে আমার এখনো হাসি পায়।

দৈনিক যুগান্তর: নতুন বছরের জন্য আপনার পরিকল্পনা কি?

শান্তা: নতুন বছরে আমি উপস্থাপনায় নিজেকে কঠোর পরিশ্রমের দ্বারা এমন এক জায়গাতে নিয়ে যেতে চাই; যেখানে সবাই আমাকে অনুসরণযোগ্য মনে করে। তাছাড়া এমবিএ শেষ করে ইচ্ছা আছে বিজনেসের ওপর পিএইচডি করবো। জ্ঞান অন্বেষণে আমার কোন বিরতি নেই- এতটুকু বলতে পারি। নিজেকে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হবার যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

দৈনিক যুগান্তর: উপাস্থপনায় আসতে আপনি কি মনে করেন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার দরকার আছে?

শান্তা: প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যে কোন কিছুর জন্যই সহায়ক হিসেবে কাজ করে। তবে দিনশেষে আপনার নিজেকে নিজেই তৈরি করতে হবে, আর সেই সঙ্গে থাকতে হবে প্রচুর ধৈর্য।

দৈনিক যুগান্তর: নতুনদের উদ্দেশ্যে আপনার পরামর্শ কী?

শান্তা: সবাইকে একটা কথাই বলতে চাই, অভিনয় হোক আর উপস্থাপনা হোক কিংবা মডেলিং- সবকিছুতেই আপনার প্রচুর ধৈর্য থাকতে হবে। অনেক ধৈর্য না থাকলে আপনি টিকে থাকতে পারবেন না কিংবা নিজেকে অন্য স্তরে নিয়েও যেতে পারবেন না। সফলতার মূলমন্ত্র হলো এটি। দৈনিক যুগান্তর: ভবিষ্যতে মিডিয়াতে বিশেষ আর কী কী কাজ করবার ইচ্ছা আছে আপনার?

শান্তা: যে কোন দারুণ গল্পের ফিচার ফিল্ম করবার ইচ্ছা আছে অনেক। ভাল কিছু ফিচার ফিল্মে কাজ করতে চাই আগামী বছরগুলোতে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×