আহমেদ শরীফ কি ৩৫ লাখ টাকা অনুদান নেয়ার যোগ্য! সমালোচনার ঝড় ফেসবুকে

প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০১৯, ২২:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় খল অভিনেতা আহমেদ শরীফ।

ফেসবুকে এখন ভাইরাল যে চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বের নাম তিনি হচ্ছেন ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় খল অভিনেতা আহমেদ শরীফ। মূলত সমালোচিত ও তিরস্কৃত হচ্ছেন তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায়।

গত ১৮ এপ্রিল গণমাধ্যমে আহমেদ শরীফের একটি খবর প্রকাশের পরই তাকে নিয়ে সমালোচনায় মেতে ওঠেন নেট জনতা।

সেদিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, আহমেদ শরীফ ও তার স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য ৩৫ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে চেক গ্রহণ করছেন আহমেদ শরীফ এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

তবে বাহ্যিকভাবে সুস্থ এই অভিনেতা কোন অসুখের চিকিৎসায় এতো বড় অনুদান পেলেন সে বিষয়ে গণমাধ্যমে আহমেদ শরীফ কিছু না জানানোয় বিতর্কে মেতে ওঠেন নেট জনতা। এমন বিতর্কের আগুনে ঘী ঢেলে দেন আহমেদ শরীফ নিজেই।

জানা গেছে, অনুদান গ্রহণের দিনই আহমেদ শরীফ একজন প্রযোজক-পরিচালকের মেয়ের বিয়েতে সস্ত্রীক হাজির হন এবং সেই জমকালো আয়োজন আনন্দের সঙ্গেই উপভোগ করেন।

এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ও তার স্ত্রীর সুস্থতা বিষয়ে ওঠে নানা প্রশ্ন। চিকিৎসার জন্য অনুদান নেয়া ব্যক্তি কি করে এসব নেমন্ত্রণে অংশগ্রহণ করেন সে বিষয়ে বিতর্ক ওঠে ফেসবুকে। আসলেই তিনি অনুদান পাওয়ার যোগ্য কিনা সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে।

এ বিষয়ে তার মজবুত অর্থনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেন কেউ কেউ। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানানো হয়, সিনেমায় অভিনয়ই আহমেদ শরীফের অর্থের একক উৎস নয়, তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। ডেনিম গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর তিনি। উত্তরায় তার হাউজিং ব্যবসা আছে।

তাছাড়া বিজিএমই’র সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান যে আহমেদ শরীফের বড় ভাই সে কথাও জানা অনেকের।

সম্প্রতি আহমেদ শরীফকে নিয়ে এসব বিতর্কের মাঝে যে কথাটি উঠে এসেছে তাহলো, বিভিন্ন সময় তিনি জাতির পিতা ‘বঙ্গবন্ধু’কে কটাক্ষ করে বক্তব্য দিয়েছেন।

জাতির পিতাকে যিনি সম্মান দেখাতে পারেন না, তাকে কীভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অনুদান পাইয়ে দেয়া হলো সে বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।

কেউ কেউ এ বিষয়ে আরেকটি তথ্য দিয়েছেন যে, শুধু প্রধানমন্ত্রীর অনুদানই নয়, ২০১৭ সালে গোপনে সরকারি খরচে পবিত্র হজ পালন করেছেন আহমেদ শরীফ। অথচ নিজ খরচায় হজে যাওয়ার পূর্ণ যোগ্যতাই তার রয়েছে।

এদিকে চেক জালিয়াতির একটি মামলায় তিন মাসের কারাদণ্ড হয়েছিল আহমেদ শরীফের সে খবরও এখন আলোচনায়। গত বছরের ৩ এপ্রিল দেশের শীর্ষস্থানীয় সব গনমাধ্যমে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল।


সেখানে জানানো হয়, ২০১৮ সালের ২ এপ্রিল ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক ইমান আলী শেখ চেক জালিয়াতির মামলায় আহমেদ শরীফকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে এক লাখ ৬৭ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

খল অভিনেতা আহমেদ শরীফের এসব খল চরিত্রের অভিযোগ এনে কী করে তিনি এতো টাকা আর্থিক অনুদান পান সে বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্নের ঝড় যেন আর থামছেই না।

তবে এর পাশাপাশি অনেকেই আহমেদ শরীফকে অনুদান দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানিবকতার প্রশংসা করছেন। প্রধানমন্ত্রী রাজনীতির বাইরে গিয়ে চিকিৎসার জন্য সাহায্যের আবেদন করা একজন অভিনেতার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এটাই একজন রাষ্ট্রপ্রধানের সার্বজনীনতা, মহানুভবতার পরিচায়ক বলে অভিমত দিচ্ছেন দেশের আপামর জনতা।

প্রসঙ্গত, আহমেদ শরীফ আট শতাধিক বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। খলনায়ক হিসেবে সফল হলেও অনেক চলচ্চিত্রে ভিন্ন চরিত্রেও অভিনয় করেন তিনি। তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্য রয়েছে অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী, দেনমোহর (১৯৯৬), তিন কন্যা (১৯৮৫) ও বন্দুক।

চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি আহমেদ শরীফ টেলিভিশনের জন্য কিছু নাটক-টেলিফিল্ম নির্মাণ করেন। ২০০১ সালে প্রথম নির্মাণ করেন টেলিফিল্ম ‘ক্ষণিক বসন্ত’।