যৌবনের মোহেই কি বিপদ শ্রীদেবীর!

  অনলাইন ডেস্ক ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২০:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

Sridevi

গত তিন দশক ধরে যখন তিনি দক্ষিণি ও বলিউডের ছবিতে রাজত্ব করছেন। তার সুঢৌল দেহসৌষ্ঠবই পুরুষহৃদয়ের স্পন্দন বাড়িয়ে দিত। দীর্ঘ ১৫ বছর পরে যখন ‘ইংলিশ ভিংলিশ’র শশী হয়ে ফিরলেন, তখন কিন্তু তিনি ছিপছিপে, তন্বী। গত পাঁচ বছর শ্রীদেবীর এই ‘নতুন রূপ’ নিয়ে চর্চা কম হয়নি। তারিফ কুড়িয়েছেন প্রচুর। বড় বড় পত্রিকার মলাটে ছবি বেরিয়েছে তার।

কিন্তু শনিবার রাতে নায়িকার হঠাৎ প্রয়াণে অনেকের মনেই সন্দেহের দানা বেঁধেছে। ৫৪ বছরের নায়িকার কৃশকায় চেহারার মধ্যেই কি মৃত্যুর বীজ বাসা বেঁধেছিল? জীবনের ঘড়ির কাঁটা উল্টো দিকে ঘোরাতে বারবার কসমেটিক সার্জারির তাড়নাই কি তার জীবন এতটা ছোট করে ফেলল? এমন প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে তার ভক্তদের মনে।

প্লাস্টিক বা কসমেটিক সার্জনদের একাংশ এই ধারণার মধ্যে যুক্তির থেকে আবেগের ভাগটাই বেশি বলে মনে করছেন। প্লাস্টিক সার্জন মনীশমুকুল ঘোষ বা কসমেটিক সার্জন মনোজ খন্নার মতে, ক্যামেরার সামনে নিখুঁত হতে চামড়ার ওপরে অস্ত্রোপচারে বাড়তি ঝুঁকি নেই। নাক-ঠোঁট সুন্দর করতে অস্ত্রোপচার শরীরে দীর্ঘমেয়াদি ছাপ ফেলে না।

ঢিলেঢালা চামড়া টানটান করতে বোটক্সের মাত্রা নিয়ে ডাক্তারদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। মনোজ খন্না বলছেন, ‘‘এই ধরনের ইঞ্জেকশনের প্রতি বেশি নির্ভরতা ভালো নয়।’’ কিন্তু তা প্রাণঘাতী হতে পারে এমনটা বলছেন না কেউই।

চামড়ার বলিরেখা সারানোর অস্ত্রোপচারে অভিজ্ঞ পিয়ালি মুখোপাধ্যায় বলছেন, ‘‘২৫-৩০ বছর ধরে এই ধরনের চিকিৎসা করিয়েও সুস্থ রয়েছেন অনেকেই।’’ তবে ডাক্তাররা বলছেন, নিরন্তর তরুণ থাকতে চাওয়ার জেদ মানসিক চাপও তৈরি করে। যার প্রভাব অবশ্যই শরীরে পড়ে। আশির দশকের মাঝামাঝি শ্রীদেবীই কিন্তু প্রথম কসমেটিক সার্জারি করে ভোলবদল করার রেওয়াজ শুরু করেন বলিউডে।

সমস্যাটা অস্বীকার করছেন না অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তও। ‘‘রোগা বা বলিরেখাহীন হতে গিয়ে চোখমুখ অস্বাভাবিক দেখানোটা ভালো নয়।’’ ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পালও বলছেন, মধুবালা-নার্গিসদের ঢলঢলে রূপ এখন বর্ষীয়ান অভিনেতা-অভিনেত্রীদেরও পছন্দ নয়।

কার্ডিওথোরাসিক সার্জন কুণাল সরকার বা হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়দের মতে, দ্রুত ওজন ঝরিয়ে রোগা হতে গিয়ে শরীরে নানা ভারসাম্য টালমাটাল করে বড় বিপদ হতে পারে। ‘‘খিদে কমানোর ওষুধ খাওয়ার প্রবণতা হার্টের জন্য ভালো নয়,’’ বলছেন সত্যজিৎ বসু।

রাতারাতি ওজন কমিয়েই তো নতুন রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন শ্রীদেবী। সে রূপ এতটাই ‘নতুন’ যে, মেয়ে জাহ্নবীর পাশে দাঁড়ালে মা-মেয়ের তফাত বোঝা যেত না!

ঘটনাপ্রবাহ : শ্রীদেবীর মৃত্যু

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter