শ্রীদেবীর মৃত্যু নিয়ে যা বলছেন সাবেক পুলিশকর্তারা

  অনলাইন ডেস্ক ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৯:২৪ | অনলাইন সংস্করণ

sridevi

এখনও শ্রীদেবীর দেহ দেশে ফেরানোর ছাড়পত্র মেলেনি! তাহলে কি তদন্তে অন্য কিছুর ইঙ্গিত পেয়েছেন গোয়েন্দারা? না হলে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরেও কেন দেহ ছাড়া হলো না? প্রশ্নটা উড়িয়ে দেয়ার মতো নয় বলেই মনে করছেন রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন কর্তাব্যক্তিদের একাংশ।

গত তিন দিন ধরে শ্রীদেবীর মৃত্যুর খবর একটু একটু করে প্রায় পুরোটাই উল্টে গেছে। প্রথমে জানা গিয়েছিল, ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে অভিনেত্রী শ্রীদেবীর। দুদিন পর সোমবার জানা যায়, হার্ট অ্যাটাক নয়, পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে তার। দুবাই পুলিশের অফিসিয়াল টুইটার হ্যান্ডলে বা ফেসবুক পেজে তেমনটাই লেখা হয়েছে।

দুবাইয়ের সংবাদপত্র খালিজ টাইমস তাদের ওয়েবসাইটে শ্রীদেবীর ডেথ সার্টিফিকেটের ফোটোকপির ছবি আপলোড করেছে। সেটা সোশ্যাল মিডিয়াতেও ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রাক্তন এক পুলিশকর্তা এই ফোটোকপি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ওই সার্টিফিকেটে ‘ড্রাউনিং’ বানান ভুল রয়েছে। তার মতে, এত বড় ভুল কোনও দফতর করবে বলে মনে হয় না। ডেথ সার্টিফিকেট এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট তো মৃতের দেহের সঙ্গেই তার পরিবারের হাতে দেয় পুলিশ। এ ক্ষেত্রে দেহ হস্তান্তর হয়নি। কাজেই ওই সব নথি বাইরে আসারও কথা নয়।

হোটেলের যে কক্ষে অভিনেত্রী ছিলেন তারই বাথরুমের বাথটাবের পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এখানেও তিনটি প্রশ্ন তুলছেন প্রাক্তন পুলিশ কর্তাদের একাংশ। প্রথমত, একজন যদি বাথরুমে গিয়ে হঠাৎই অচৈতন্য হয়ে পড়েন, তা হলে হয় তিনি উপুড় হয়ে পড়বেন অথবা চিত হয়ে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে মৃতের শরীরে কোনও রকমের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলেই খবর। তাহলে ধরে নিতে হবে, তিনি উপুড় হয়ে পানির মুখ গুঁজে পড়েছিলেন। আর তাতেই শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু সেই পড়ে যাওয়াটা তো খুব একটা বিন্যস্ত হবে না। প্রায় ৯০ ডিগ্রি ঘুরে গোটা শরীরটাই বাথটাবের ভেতরেই পড়ল! দ্বিতীয়ত, তিনি হয়তো বাথটাবেই শুয়ে ছিলেন পানির ভেতর। তখনই অচৈতন্য হয়েছেন। এবং পানির ভেতর শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু শুয়ে থাকলেও মাথাটা তো বাথটাবে হেলান দেয়া অবস্থায় থাকে। তৃতীয়ত, কেউ তাকে বাথটাবে শুইয়ে দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে ঠিক কী হয়েছিল? প্রাক্তন পুলিশকর্তা প্রসূন মুখোপাধ্যায় বললেন, ‘‘খবরে যা পড়ছি, তাতে দুবাই পুলিশ রীতিমতো তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনায় কোথাও অসঙ্গতি রয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।’’

আরও এক ধোঁয়াশার কথা প্রাক্তন পুলিশকর্তারা বলছেন। তাদের প্রশ্ন, বনি কাপুর তখন ঠিক কোথায় ছিলেন? এক একসময় এক একরকম জানা যাচ্ছে। কখনও শোনা যাচ্ছে, তিনি স্ত্রীকে ডিনারে নিয়ে যাবেন বলে ঘরে অপেক্ষা করছিলেন। অনেকক্ষণ ধরে স্ত্রী বেরোচ্ছেন না বলে তিনি নাকি দরজা ধাক্কাধাক্কি করেন। তারপর তা ভেঙে গিয়ে ভেতরে ঢুকে দেখেন, বাথটাবে স্ত্রী শুয়ে আছেন, অচৈতন্য অবস্থায়। আবার কখনও বলা হচ্ছে, হোটেলের এক রুমসার্ভিস কর্মী পানি দিতে গিয়ে শ্রীদেবীর সাড়া না পেয়ে দরজা ধাক্কাধাক্কি করেন। পরে হোটেল কর্তৃপক্ষ দরজা ভেঙে শ্রীদেবীর দেহ বাথটাব থেকে উদ্ধার করেন।

ময়নাতদন্ত হয়ে যাওয়ার পরেও কেন দেহ ভারতে নিয়ে আসার ছাড়পত্র মিলছে না? প্রসূন বাবুর কথায়, ‘‘আমার মনে হয়, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেও তদন্তকারীরা পারিপার্শ্বিক দিকগুলো ভালো করে খতিয়ে দেখছেন।’’ তার মতে, সে কারণেই হোটেলের ওই ফ্লোর, ঘর— সবটা সিল করে দেয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসলে গোয়েন্দারা দেখতে চাইছেন, কে কে ওই দুদিনে ওই ঘরে গিয়েছেন। কখন গিয়েছেন। বনি কাপুরও বা কখন এসেছিলেন। কখন ঘর থেকে বের করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ইত্যাদি।

প্রশ্ন উঠছে, বনি কাপুরের ভূমিকা নিয়েও। দেশে ফিরে ফের কেন আবার দুবাই উড়ে গেলেন তিনি? স্ত্রীকে না জানিয়ে তিনি নাকি ‘সারপ্রাইজ’ দিতে চেয়েছিলেন। প্রাক্তন পুলিশ কর্তাদের প্রশ্ন, শ্রীদেবী কেন একা থেকে গেলেন দুবাইতে? কেন ওই দুদিন তাকে এক বারের জন্যও বাইরে দেখা গেল না? উত্তরগুলো তাদের কাছেও কেমন ধোঁয়াশামাখা।

শ্রীদেবীর রক্তে অ্যালকোহলের নমুনা মিলেছে। ধরা যাক, তিনি ওই সন্ধ্যায় মদ্যপান করেছিলেন। নিশ্চয়ই ওই দিনই জীবনে প্রথম বার মদ্যপান করেছিলেন এমনটা নয়। অচৈতন্য হয়ে যাওয়ার মতো পান করেছিলেন কি? সে ক্ষেত্রে ওই অবস্থায় বাথরুমে গেলেন কীভাবে? আর বনি-ই বা তাকে ছাড়লেন কেন? জবাব মেলাতে পারছেন না প্রাক্তন পুলিশ কর্তাদের একাংশ।

ঘটনাপ্রবাহ : শ্রীদেবীর মৃত্যু

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter