দেশীয় শিল্পীদের কেন অর্থ সাহায্য নিতে হয়?
jugantor
দেশীয় শিল্পীদের কেন অর্থ সাহায্য নিতে হয়?

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:২২:২২  |  অনলাইন সংস্করণ

আমাদের দেশের কিংবদন্তি সংগীত শিল্পীদের সরকারি অনুদান পেতে দেখা যায়। লাকি আখন্দ, আব্দুল জব্বার, সুজেয় শ্যাম, কাঙ্গালিনী সুফিয়া, সাবিনা ইয়াসমিন, কুদ্দুস বয়াতি, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলসহ অনেকের নামই এসেছে তালিকায়৷ শিল্পী এন্ড্রু কিশোরের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে চলছে নানা উদ্যোগ৷

শ্রোতাদের মনে সম্মানের আসনে শিল্পীরা অধিষ্ঠিত হন কিন্তু বয়সের সঙ্গে সঙ্গে কাজ কমে গেলে অথবা হঠাৎ অসুস্থ হলে তাদেরই আবার ভক্তদের কাছে চিকিৎসা সাহায্যের জন্য হাত পাততে হয়৷

কিন্তু পাশের দেশ ভারতেও যৌবনের সোনালী সময়ে তৈরি করা জনপ্রিয় শিল্পকর্মগুলো বাণিজ্যিকভাবে সফল হতে থাকে শিল্পীর মৃত্যুর পরও। আর ডি বর্মণ, সলিল চৌধুরী, কিশোর কুমার, মান্নাদের মতো শিল্পীদের মৃত্যুর পরও তাদের পরিবারের সদস্যরা পূর্বসুরির গানের রয়্যালটির টাকা পাচ্ছেন।

আমাদের দেশে তার চিত্র উল্টো। ডিজিটাল যুগে ফাঁকির মারপ্যাঁচে শিল্পীর উপার্জন চলে যাচ্ছে অন্য কারও হাতে।

বহুজাতিক কোম্পানিগুলো তাদের নিযুক্ত কিছু প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন শিল্পীর গানের ডিজিটাল বিপণন শুরু করে ২০০৪ সালে৷ ডাউনলোড, আরবিটি, সিবিটি, ডাব্লিউএপি, লাইভ স্ট্রিমিং, মোবাইল, রেডিওসহ প্রায় ১১টি মাধ্যমে গানগুলো তারা বিক্রি শুরু করেন৷

পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় ডিজিটাল সংগীত প্ল্যাটফর্ম স্পটিফাই একটি গান বিক্রির টাকা থেকে শিল্পীদের রয়্যালিটি প্রদান করে ৭০ শতাংশ, ইউটিউব এতবড় ভিডিও প্ল্যাটফর্ম মেন্টেন করে শিল্পীকে রয়্যালিটি প্রদান করে ৫৫ শতাংশ৷

অথচ বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটরগুলো প্রথমেই একটি গানের আয় থেকে ৭০ থেকে ৭৫ ভাগ টাকা কেটে রাখে কমিশন হিসেবে৷ পৃথিবীর যে-কোনো দেশের শিল্পীদের কাছে এটা বিস্ময়কর৷ দেশের একমাত্র বড় ডিজিটাল সংগীত বিতরণমাধ্যম ঐ ৭০ শতাংশ রাখার পর অগ্রিম ১০% ট্যাক্স ও ৬.৫% আরডিটিএফ কেটে রেখে বাকি ৩০% বা ২৫% প্রদান করে সিপি নামে তাদেরই ঠিক করা একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে৷ এবার ৩০%-এর অর্ধেক চার ভাগে ভাগ করে নেন প্রযোজক, গায়ক, গিতীকার, সুরকার৷ অবশেষে দেখা যায়, ডিজিটাল মাধ্যমে একটি গান ১০০ টাকা বিক্রি হলে গানটির মূল মালিক গীতিকার, সুরকার, গায়ক বা প্রযোজকরা প্রত্যেকে পান ২ থেকে ৩ টাকা৷ ফলে গান যতই জনপ্রিয় বা ব্যবসাসফল হোক, তার অধিকাংশই চলে যায় অপারেটর ও মধ্যস্বত্বভোগীর হাতে৷ শিল্পীর জন্য অপেক্ষা করতে থাকে জাতীয় পুরস্কার ও সরকারি অনুদান৷

অবৈধভাবে অনুমতিহীন গান বিক্রি বন্ধ করার নির্দেশনা প্রয়োজন৷ তাহলেই অপরাধীরা শিল্পীদের টাকা লুট করা বন্ধ করবে৷ দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে শিল্পীদের ৭০% রয়্যালিটি নিশ্চিত করতে হবে৷ তবেই একজন শিল্পী সুস্থ ও সচ্ছল জীবনযাপন করতে পারবেন৷

 

দেশীয় শিল্পীদের কেন অর্থ সাহায্য নিতে হয়?

 যুগান্তর ডেস্ক 
০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৭:২২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আমাদের দেশের কিংবদন্তি সংগীত শিল্পীদের সরকারি অনুদান পেতে দেখা যায়। লাকি আখন্দ, আব্দুল জব্বার, সুজেয় শ্যাম, কাঙ্গালিনী সুফিয়া, সাবিনা ইয়াসমিন, কুদ্দুস বয়াতি, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলসহ অনেকের নামই এসেছে তালিকায়৷ শিল্পী এন্ড্রু কিশোরের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে চলছে নানা উদ্যোগ৷

শ্রোতাদের মনে সম্মানের আসনে শিল্পীরা অধিষ্ঠিত হন কিন্তু বয়সের সঙ্গে সঙ্গে কাজ কমে গেলে অথবা হঠাৎ অসুস্থ হলে তাদেরই আবার ভক্তদের কাছে চিকিৎসা সাহায্যের জন্য হাত পাততে হয়৷

কিন্তু পাশের দেশ ভারতেও যৌবনের সোনালী সময়ে তৈরি করা জনপ্রিয় শিল্পকর্মগুলো বাণিজ্যিকভাবে সফল হতে থাকে শিল্পীর মৃত্যুর পরও। আর ডি বর্মণ, সলিল চৌধুরী, কিশোর কুমার, মান্নাদের মতো শিল্পীদের মৃত্যুর পরও তাদের পরিবারের সদস্যরা পূর্বসুরির গানের রয়্যালটির টাকা পাচ্ছেন।

আমাদের দেশে তার চিত্র উল্টো। ডিজিটাল যুগে ফাঁকির মারপ্যাঁচে শিল্পীর উপার্জন চলে যাচ্ছে অন্য কারও হাতে।

বহুজাতিক কোম্পানিগুলো তাদের নিযুক্ত কিছু প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন শিল্পীর গানের ডিজিটাল বিপণন শুরু করে ২০০৪ সালে৷ ডাউনলোড, আরবিটি, সিবিটি, ডাব্লিউএপি, লাইভ স্ট্রিমিং, মোবাইল, রেডিওসহ প্রায় ১১টি মাধ্যমে গানগুলো তারা বিক্রি শুরু করেন৷

পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় ডিজিটাল সংগীত প্ল্যাটফর্ম স্পটিফাই একটি গান বিক্রির টাকা থেকে শিল্পীদের রয়্যালিটি প্রদান করে ৭০ শতাংশ, ইউটিউব এতবড় ভিডিও প্ল্যাটফর্ম মেন্টেন করে শিল্পীকে রয়্যালিটি প্রদান করে ৫৫ শতাংশ৷

অথচ বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটরগুলো প্রথমেই একটি গানের আয় থেকে ৭০ থেকে ৭৫ ভাগ টাকা কেটে রাখে কমিশন হিসেবে৷ পৃথিবীর যে-কোনো দেশের শিল্পীদের কাছে এটা বিস্ময়কর৷ দেশের একমাত্র বড় ডিজিটাল সংগীত বিতরণমাধ্যম ঐ ৭০ শতাংশ রাখার পর অগ্রিম ১০% ট্যাক্স ও ৬.৫% আরডিটিএফ কেটে রেখে বাকি ৩০% বা ২৫% প্রদান করে সিপি নামে তাদেরই ঠিক করা একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে৷ এবার ৩০%-এর অর্ধেক চার ভাগে ভাগ করে নেন প্রযোজক, গায়ক, গিতীকার, সুরকার৷ অবশেষে দেখা যায়, ডিজিটাল মাধ্যমে একটি গান ১০০ টাকা বিক্রি হলে গানটির মূল মালিক গীতিকার, সুরকার, গায়ক বা প্রযোজকরা প্রত্যেকে পান ২ থেকে ৩ টাকা৷ ফলে গান যতই জনপ্রিয় বা ব্যবসাসফল হোক, তার অধিকাংশই চলে যায় অপারেটর ও মধ্যস্বত্বভোগীর হাতে৷ শিল্পীর জন্য অপেক্ষা করতে থাকে জাতীয় পুরস্কার ও সরকারি অনুদান৷

অবৈধভাবে অনুমতিহীন গান বিক্রি বন্ধ করার নির্দেশনা প্রয়োজন৷ তাহলেই অপরাধীরা শিল্পীদের টাকা লুট করা বন্ধ করবে৷ দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে শিল্পীদের ৭০% রয়্যালিটি নিশ্চিত করতে হবে৷ তবেই একজন শিল্পী সুস্থ ও সচ্ছল জীবনযাপন করতে পারবেন৷