শাবনূরের সঙ্গে প্রেম সালমান নিজেই স্বীকার করেছিল: সামিরা

  বিনোদন ডেস্ক ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৫:১৪ | অনলাইন সংস্করণ

শাবনূরের সঙ্গে প্রেম সালমান নিজেই স্বীকার করেছিল: সামিরা

ঢাকাই সিনেমার অমর নায়ক সালমান শাহ ও জনপ্রিয় নায়িকা শাবনূরের সম্পর্কের বিষয়টি আজও রহস্যাবৃত। এফডিসিতে এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গুঞ্জন চলে এলেও শাবনূর কখনও বিষয়টি স্বীকার করেননি। আর সালমান তো দুনিয়া থেকে বহু আগেই বিদায় নিয়েছেন।

সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা এত বছর পর আবারও দাবি করেছেন যে, সালমান-শাবনূরের প্রেম ছিল। শাবনূরের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি সালমান নিজেই নাকি স্বীকার করেছিলেন।

সোমবার সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পর দিন সেটি আদালতেও উপস্থাপন করা হয়। ওই প্রতিবেদনে সালমানের মৃত্যুর পেছনে শাবনূরের সঙ্গে তার অন্তরঙ্গতার বিষয়টি উঠে এসেছে।

এই প্রতিবেদনটি আরও জোরালো করেছেন সালমানের স্ত্রী সামিরা। মঙ্গলবার ঢাকার এক গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সামিরা বলেন, শাবনূরের সঙ্গে যে প্রেম ছিল সালমান নিজেই সেটি আমার কাছে স্বীকার করেছিলেন। কাজ করতে করতে একে অপরের কাছাকাছি এসেছিলেন সালমান-শাবনূর। এটি আমি মেনে নিতে পারিনি। সালমানের সঙ্গে শাবনূর সিঙ্গাপুরেও যান। এই কথাগুলো আমি পিবিআইকে বলেছি। শাবনূরের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সালমানও ব্ল্যাকমেইল হওয়ার শঙ্কায় থাকত।’

পিবিআই তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে সামিরা বলেন, এই প্রতিবেদন খুব একটা আনন্দেরও না, আবার বেদনারও।

সোমবার পিবিআই সালমান শাহর মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, খুন নয়, আত্মহত্যা করেছেন সালমান।

পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে নতুন করে সালমান শাহর সঙ্গে শাবনূরের ঘনিষ্ঠতার কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামিরা বলেন, সালমান শাহ ও শাবনূর যে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন, সে কথা সালমান নিজেই আমার কাছে স্বীকার করেন।

সালমানের মৃত্যুর পর নিজেকে আড়াল করা প্রসঙ্গে সামিরা বলেন, আমি কখনও চাইনি মিডিয়ার সামনে কথা বলতে। এর কিছু কারণ আছে। এক নম্বরটি হলো– আমি চাইনি সালমানকে খাট করতে। আমাকে কে ভালোবাসলো না বাসলো তা নিয়ে আমি ভাবি না। আজও ভাবি না। কিন্তু সবাই সালমানকে ভালোবাসে, এটি আমার ভালো লাগে। তাই চুপ থেকেছি। কারণ কথা বলতে গেলেই অনেক কথা বাড়ে।

সালমানের মৃত্যুর পর শাবনূরকে জড়ানোও পছন্দ হয়নি সামিরার। তিনি বলেন, শাবনূরকে টেনে এনে সালমানের চরিত্র নিয়ে নানারকম সমালোচনা করছে। এটি আমি চাইনি কোনো দিন। কিন্ত মা হয়ে, ভাই হয়ে তারা চেয়েছে। আত্মহত্যা জেনেও এটা নিয়ে নাটক বানিয়েছে– একবার দাফন করা লাশ আবার উঠিয়েছে। একবারের রিপোর্ট বারবার করিয়ে ঘাঁটতে ঘাঁটতে সালমানকে সমালোচনার পাত্র বানিয়েছে। এটি তাদের পক্ষেই সম্ভব হয়েছে। আমি কোনো দিন চাইনি, যা হয়েছে মেনে নিয়েছিলাম।

শাবনূর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সালমানের সঙ্গে প্রেম করে শাবনূর যে ভুল করেছে তার জন্য তাকে অনুতপ্ত হতে হবে। সেটি ইহকালে হোক বা পরকালে। তাদের সম্পর্কের কারণে সালমান আমাকে সরি বলেছিল, আমি সব ভুলে তার সঙ্গে ঢাকায় এসেছিলাম। শাবনূরকেও ক্ষমা করে দিয়েছি। কোথাও একটি কথাও আমি বলিনি সালমান-শাবনূরের সম্পর্ক নিয়ে। শাবনূরকে নিয়ে একটা অভিযোগও তুলিনি আমি। আমি চাইনি এসব নিয়ে আলোচনা হোক।

১৯৯২ সালের ২০ ডিসেম্বর সালমান শাহর সঙ্গে সামিরা হকের বিয়ে হয়। দুজনের মধ্যে ভালোবাসার কমতি ছিল না বলে উল্লেখ করেন সামিরা।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটন রোডে নিজের বাসা থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সামিরা এখন তিন সন্তানের মা। ১৯৯৯ সালে দুই পরিবারের সম্মতিতে তিনি বিয়ে করেন সালমান শাহর বন্ধু মোস্তাক ওয়ায়েজকে। বেশিরভাগ সময় থাকেন বিদেশে।

এদিকে পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সালমান শাহকে হত্যা করা হয়নি। তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তার আত্মহত্যার পেছনে ৫টি কারণ খুঁজে পেয়েছে পিবিআই। সেগুলো হচ্ছে-

১. সালমান শাহ ও চিত্রনায়িকা শাবনূরের অতিরিক্ত অন্তরঙ্গতা;

২. স্ত্রী সামিরার সঙ্গে সালমানের দাম্পত্য কলহ;

৩. সালমান শাহর মাত্রাতিরিক্ত আবেগপ্রবণতা এবং একাধিকবার আত্মঘাতী হওয়া বা আত্মহত্যার চেষ্টা করা;

৪. মায়ের প্রতি অসীম ভালোবাসা এবং জটিল সম্পর্কের বেড়াজালে পড়ে পুঞ্জিভূত অভিমানে রূপ নেয়া;

৫. সন্তান না হওয়ায় দাম্পত্য জীবনের অপূর্ণতা।

প্রায় ৬০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন তুলে ধরে পিবিআইপ্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেন, পিবিআই কর্তৃক তদন্তকালে ঘটনার সময় উপস্থিত ও ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ৪৪ সাক্ষীর জবানবান্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়। ১০ সাক্ষীর সাক্ষ্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি ঘটনা সংশ্লিষ্ট আলামত জব্দ করা হয়। এসব বিষয় পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, চিত্রনায়ক সালমান শাহ পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করেছেন। হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি।

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবি দিয়ে দেশীয় চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে সালমান শাহর। স্মার্টনেস-গ্লামার ও পারসোনালিটির কারণে রাতারাতি তরুণ প্রজন্মের আইকনে পরিণত হয়ে ওঠেন এ নায়ক। মাত্র সাড়ে তিন বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি ছবি করেন। যার অধিকাংশই সুপারহিট। মৌসুমীর সঙ্গে জুটি বেঁধে চলচ্চিত্র অঙ্গনে পা রাখলেও সালমানের বেশিরভাগ ছবির নায়িকা শাবনূর। এই জুটি তখন এমন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল যে, যে কোনো ছবি মুক্তি পেলেই দর্শক প্রেক্ষাগৃহে হুমড়ি খেয়ে পড়তেন। একপর্যায়ে শাবনূরের সঙ্গে বিবাহিত সালমানের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন ওঠে। এর পর কলহ দেখা দেয় সালমানের পরিবারে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমানের মৃত্যু হয়। সেই থেকে তার মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। হত্যা নাকি আত্মহত্যা? অবশেষে পিবিআই জানাল, আত্মহত্যা করেছিলেন সালমান।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমানের রহস্যজনক মৃত্যুর পর এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা করেন তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে ‘আত্মহত্যা’ বলে উল্লেখ করা হয়। সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করেন।

২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠানো হয়। প্রায় ১২ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। তাতেও সালমান শাহর মৃত্যুকে ‘অপমৃত্যু’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী ঢাকা মহানগর হাকিম জাহাঙ্গীর হোসেনের আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে নারাজির আবেদন দাখিল করেন। নারাজি আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জন তার ছেলে সালমান শাহর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন।

মামলাটি এর পর র‌্যাব তদন্ত করে। তবে র‌্যাবের দ্বারা তদন্তের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ গত বছরের ১৯ এপ্রিল মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি রিভিশন মামলা করে। ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ ৬-এর বিচারক ইমরুল কায়েস রাষ্ট্রপক্ষের রিভিশনটি মঞ্জুর করেন এবং র‌্যাবকে মামলাটি আর না তদন্ত করার আদেশ দেন। তার পর মামলাটির তদন্তভার যায় পিবিআইয়ের হাতে।

দীর্ঘ তদন্তের পর সোমবার পিবিআই জানায় সালমানকে হত্যা করা হয়নি। তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

ঘটনাপ্রবাহ : সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যু

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৪২৪ ৩৩ ২৭
বিশ্ব ১৬,০৪,৫৩৫ ৩,৫৬,৬৬০ ৯৫,৭৩৪
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত