অমিতাভের সঙ্গে দুরত্ব বেড়েছিল সঞ্জয়ের, মাঝপথেই ছেড়ে দিয়েছিলেন শুটিং
jugantor
অমিতাভের সঙ্গে দুরত্ব বেড়েছিল সঞ্জয়ের, মাঝপথেই ছেড়ে দিয়েছিলেন শুটিং

  বিনোদন ডেস্ক  

২৪ অক্টোবর ২০২০, ১১:৪০:৫৯  |  অনলাইন সংস্করণ

বলিউড শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে ‘খলনায়ক’ খ্যাত অভিনেতা সঞ্জয় দত্তের।

বিগ বি-র গত জন্মদিনেও ছবি পোস্ট করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সঞ্জয়। নিজের এমন শারীরিক অবস্থাতেও অমিতাভকে শুভেচ্ছা জানাতে ভুলেননি।

কিন্তু ক্যারিয়ারের কোনো একসময় একটি সিনেমাকে ঘিরে ২ তারকার মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। সিনেমায় অমিতাভ ও প্রয়াত অভিনেত্রী শ্রীদেবীর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ারে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন সঞ্জয়। ক্যামেরার সামনেও দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ মাঝপথেই সিনেমাটি ছেড়ে দেন সঞ্জয়। সিনেমাটির নাম - খুদা গাওয়া।

সেই ঘটনা হয়তো অনেক সিনেপ্রেমীর জানা নেই। ঘটনাটি নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে। সে সময় রাজনীতিকে ‘নর্দমা’ আখ্যা দিয়ে ছেড়ে নতুন করে বলিউডে ফিরছেন অমিতাভ। ‘শাহেনশাহ’, ‘অগ্নিপাথ’, ‘হাম’ ছবি দিয়ে ফের বলিউড কাঁপাচ্ছেন।

অন্যদিকে মাদকে আসক্তি কাটিয়ে নয়া উদ্যমে ক্যারিয়ারে ফিরছেন সঞ্জয় দত্ত। পর পর বেশ কয়েকটি হিট ছবি উপহার দিয়েছেন। পর্দায় সঞ্জয় মানেই হলে উপচেপরা ভিড়। এরইমধ্যে ‘নাম’ ছবিতে বেশ নাম করেছেন। এরপর মাধুরীর সঙ্গে ‘সাজান’ ও পুজাভাটের সঙ্গে ‘সড়ক’ ছবি দিয়ে ইতিহাস রচনা করে। ছবি দুটির গান, সংলাপ তখন সবার মুখে মুখে।

এই রকম সময়েই ‘খুদা গাওয়া’ ছবিতে কাজের আমন্ত্রণ পান সঞ্জয় দত্ত। মূল চরিত্রে অমিতাভ বচ্চন। অমিতাভের বিপরীতে শ্রীদেবী।

সেই সময়ে সঞ্জয়ের হাতে ব্যাপক কাজ। কিন্তু দুই তারকার সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাবে এক কথাতেই রাজি হয়ে যান সঞ্জয় দত্ত।

তবে প্রচুর চাপ থাকায় ‘খুদা গাওয়া’-র শুটিংয়েরর জন্য তিনি পরিচালক মুকুল আনন্দকে ৭০ দিন সময় দেন।

কিন্তু পরে মাত্র ১০ দিন শুটিং শেষে সঞ্জয়কে বিরতি দেয়া হয়। এদিকে সঞ্জয় প্রশ্ন করেন, ৭০ দিনের জায়গায় মাত্র ১০ দিন কেন?

তখন মুকুল আনন্দ সঞ্জয়কে জানান, এখন অমিতাভের শুটিং চলছে। পরে তাকে (সঞ্জয়) ডাকা হবে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে সঞ্জয়ও পাল্টা জানিয়ে দেন, পরে তার পক্ষে আর সময় দেয়া সম্ভব হবে না। শুটিংয়ের শুরুর দিকেই যখন এমন ব্যবহার তখন সিনেমায় খুব বেশি গুরুত্ব পাওয়া যাবে না। তাই মাঝপথেই ছবি ছেড়ে দেন তিনি।

সঞ্জয়কে আর না ফেরাতে পেরে তাকে নিয়ে যেটুকু শুটিং হয় তা কেটে ফেলে দেন পরিচালক মুকুল আনন্দ। আর সঞ্জয়ের চরিত্রে অভিনয়ে সুযোগ পান দক্ষিণের অভিনেতা নাগার্জুন।

জানা যায়,সঞ্জয়ের পরিবর্তে নাগার্জুনকে সুযোগ করে দেন ছবির নায়িকা শ্রীদেবী।

এরপর নির্বিঘ্নে শুটিং শেষে ১৯৯২ সালের ৮ মে ‘খুদা গাওয়া’ মুক্তি পায়। কিন্তু বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে অমিতাভের সেই ছবি। বিশ্লেষকদের মতে, সে সময় ফর্মের তুঙ্গে থাকা অভিনেতা সঞ্জয় ছবিতে থাকলে অন্যরকম গল্প লিখতে পারত ‘খুদা গাওয়া’।

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

অমিতাভের সঙ্গে দুরত্ব বেড়েছিল সঞ্জয়ের, মাঝপথেই ছেড়ে দিয়েছিলেন শুটিং

 বিনোদন ডেস্ক 
২৪ অক্টোবর ২০২০, ১১:৪০ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বলিউড শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে ‘খলনায়ক’ খ্যাত অভিনেতা সঞ্জয় দত্তের।

বিগ বি-র গত জন্মদিনেও ছবি পোস্ট করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সঞ্জয়। নিজের এমন শারীরিক অবস্থাতেও অমিতাভকে শুভেচ্ছা জানাতে ভুলেননি।

কিন্তু ক্যারিয়ারের কোনো এক সময় একটি সিনেমাকে ঘিরে ২ তারকার মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। সিনেমায় অমিতাভ ও প্রয়াত অভিনেত্রী শ্রীদেবীর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ারে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন সঞ্জয়।  ক্যামেরার সামনেও দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ মাঝপথেই সিনেমাটি ছেড়ে দেন সঞ্জয়। সিনেমাটির নাম - খুদা গাওয়া।

সেই ঘটনা হয়তো অনেক সিনেপ্রেমীর জানা নেই। ঘটনাটি নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে। সে সময় রাজনীতিকে ‘নর্দমা’ আখ্যা দিয়ে ছেড়ে নতুন করে বলিউডে ফিরছেন অমিতাভ।  ‘শাহেনশাহ’, ‘অগ্নিপাথ’, ‘হাম’ ছবি দিয়ে ফের বলিউড কাঁপাচ্ছেন।

অন্যদিকে মাদকে আসক্তি কাটিয়ে নয়া উদ্যমে ক্যারিয়ারে ফিরছেন সঞ্জয় দত্ত।  পর পর বেশ কয়েকটি হিট ছবি উপহার দিয়েছেন। পর্দায় সঞ্জয় মানেই হলে উপচেপরা ভিড়।  এরইমধ্যে ‘নাম’ ছবিতে বেশ নাম করেছেন।  এরপর মাধুরীর সঙ্গে ‘সাজান’ ও পুজাভাটের সঙ্গে ‘সড়ক’ ছবি দিয়ে ইতিহাস রচনা করে। ছবি দুটির গান, সংলাপ তখন সবার মুখে মুখে।

এই রকম সময়েই ‘খুদা গাওয়া’ ছবিতে কাজের আমন্ত্রণ পান সঞ্জয় দত্ত। মূল চরিত্রে অমিতাভ বচ্চন। অমিতাভের বিপরীতে শ্রীদেবী। 

সেই সময়ে সঞ্জয়ের হাতে ব্যাপক কাজ।  কিন্তু দুই তারকার সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাবে এক কথাতেই রাজি হয়ে যান সঞ্জয় দত্ত।

তবে প্রচুর চাপ থাকায় ‘খুদা গাওয়া’-র শুটিংয়েরর জন্য তিনি পরিচালক মুকুল আনন্দকে ৭০ দিন সময় দেন।

কিন্তু পরে মাত্র ১০ দিন শুটিং শেষে সঞ্জয়কে বিরতি দেয়া হয়। এদিকে সঞ্জয় প্রশ্ন করেন, ৭০ দিনের জায়গায় মাত্র ১০ দিন কেন?
 
তখন মুকুল আনন্দ সঞ্জয়কে জানান, এখন অমিতাভের শুটিং চলছে। পরে তাকে (সঞ্জয়) ডাকা হবে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে সঞ্জয়ও পাল্টা জানিয়ে দেন, পরে তার পক্ষে আর সময় দেয়া সম্ভব হবে না। শুটিংয়ের শুরুর দিকেই যখন এমন ব্যবহার তখন সিনেমায় খুব বেশি গুরুত্ব পাওয়া যাবে না।  তাই মাঝপথেই ছবি ছেড়ে দেন তিনি।

সঞ্জয়কে আর না ফেরাতে পেরে তাকে নিয়ে যেটুকু শুটিং হয় তা কেটে ফেলে দেন পরিচালক মুকুল আনন্দ।  আর সঞ্জয়ের চরিত্রে অভিনয়ে সুযোগ পান দক্ষিণের অভিনেতা নাগার্জুন। 

জানা যায়,সঞ্জয়ের পরিবর্তে নাগার্জুনকে সুযোগ করে দেন ছবির নায়িকা শ্রীদেবী। 

এরপর নির্বিঘ্নে শুটিং শেষে ১৯৯২ সালের ৮ মে ‘খুদা গাওয়া’ মুক্তি পায়।  কিন্তু বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে অমিতাভের সেই ছবি।  বিশ্লেষকদের মতে, সে সময় ফর্মের তুঙ্গে থাকা অভিনেতা সঞ্জয় ছবিতে থাকলে অন্যরকম গল্প লিখতে পারত ‘খুদা গাওয়া’। 

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা