অপুর সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে ফেসবুকে যা লিখলেন শবনম ফারিয়া
jugantor
অপুর সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে ফেসবুকে যা লিখলেন শবনম ফারিয়া

  বিনোদন ডেস্ক  

২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৬:০১:১৩  |  অনলাইন সংস্করণ

বিয়ের ঠিক এক বছর ৯ মাসের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটেছে অভিনেত্রী শবনম ফারিয়ার। বর হারুন অর রশীদ অপুকে ২৭ নভেম্বর ডিভোর্স দিয়েছেন আলোচিত এ অভিনেত্রী। দুজনের সম্মতিতেই এ বিচ্ছেদ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফারিয়া।

বিচ্ছেদের পেছনে তেমন কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। একে অপরের প্রতি নেই কোনো অভিযোগও।

‘দুজনই চেয়েছি নিজেদের মতো ভালো থাকতে। তাই আলাদা হওয়া’-বলেন ফারিয়া।

বিয়েবিচ্ছেদ নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন শবনম ফারিয়া। সেটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘মানুষের জীবন নদীর মতো– কখনও জোয়ার, কখনও ভাটা। কখনও বৃষ্টিতে পানি বেড়ে যায়, শীতকালে পানি শুকিয়ে যায়। আমাদের জীবনেও এমনটি হয়েছে!

আমাদের জীবনে কিছু মানুষ আসে; কেউ কেউ স্থায়ী হয়, কেউ কেউ কিছু কারণে স্থায়িত্ব ধরে রাখতে পারে না!

আমার মা সবসময় একটি কথা বলে– আল্লাহর হুকুম ছাড়া একটি গাছের পাতাও নড়ে না, আমরা শুধু চেষ্টা করতে পারি!

ঠিক সেভাবেই আমি আর অপু অনেক দিন ধরেই চেষ্টা করেছি একসঙ্গে থাকতে!

কিন্তু বিষয়টি একটি পর্যায়ে খুব কঠিন হয়ে যায়!

মানুষ কী বলবে ভেবে নিজেদের ওপর একটু বেশিই টর্চার করে ফেলছিলাম আমরা!

জীবনটা অনেক ছোট, এত কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকার কি দরকার? এটা ভেবে আমরা এ বছরের শুরু থেকেই সিদ্ধান্তে আসি– আমরা আর একসঙ্গে কষ্টে থাকতে চাই না!

তাও বছরখানেক সময় নিয়েছি পরস্পরকে বুঝতে! ফাইনালি আল্লাহ যা করেন, ভালোর জন্যেই করেন ভেবে আমরা আমাদের প্রায় আড়াই বছরের বৈবাহিক জীবনের অবসান ঘটিয়ে আবারও ৫ বছরের পুরনো বন্ধুত্বে ফিরে গেছি।

বিবাহবিচ্ছেদ হয়, কিন্তু ভালোবাসার বিচ্ছেদ নেই! বন্ধুত্বের বিচ্ছেদ নেই!

যতদিন বেঁচে আছি আমাদের ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব থাকবে!

শুধু বৈবাহিক বন্ধন থেকে আমাদের সম্পর্কের ইতি টেনে নিলাম! এ ঘটনা আমাদের জীবনের গতি হয়তো রোধ করবে, ছন্দপতন করবে কিন্তু জীবন তো থেমে থাকবে না!

অপুর জন্য আমার অনেক অনেক দোয়া ও ভালোবাসা আর শুভকামনা। আমরা যে সুখের জন্য আলাদা হলাম আমরা যেন সে সুখ খুঁজে পাই। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।

দয়া করে মিডিয়ার বিয়ে টেকে না– এ ধরনের কথা বলে আমাদের সহকর্মীদের ছোট করবেন না! আমরা সম্পূর্ণ পারিবারিক কারণে, পারিবারিকভাবে এবং পারিবারিক সম্মতিতেই বিয়ের মতো ইন্সটিটিউশন থেকে বের হয়ে এসেছি!

আমাদের কখনও ভালোবাসা কিংবা বিশ্বাসের অভাব ছিল না; হবেও না!

আর আমার প্রিয় সাংবাদিক ভাইবোনদের উদ্দেশ্যে একটিই অনুরোধ, দয়া করে একটু মানবিকতার সঙ্গে বিষয়টি দেখবেন! প্লিজ!

দুজন মানুষের বিবাহবিচ্ছেদ মানে, দুটি পরিবারের বিচ্ছেদ, অনেক স্মৃতির বিচ্ছেদ! অনেক ভালো সময়ের সঙ্গে বিচ্ছেদ এটি কারও জন্য সুখকর অনুভূতি না! দয়া করে মুখরোচক অদ্ভুত সংবাদ প্রকাশ করে আমাদের আর বিব্রত করবেন না!

আমরা একে অন্যের ওপর সম্পূর্ণ সন্মান বজায় রাখতে চাই!

ধন্যবাদ
অপু-ফারিয়া’

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া ও বেসরকারি চাকরিজীবী হারুন অর রশীদ অপু। এর আগে ২০১৫ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। এর পর বন্ধুত্ব ও প্রেম। তিন বছর পর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে আংটিবদল হয় তাদের।

বিয়ের প্রায় দুই বছরের মাথায় সংসার জীবনের ইতি টানলেন শবনম ফারিয়া-অপু। নিজ ইচ্ছায় ২৭ নভেম্বর বিচ্ছেদ পত্রে সই করেন দুজনে।

অপুর সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে ফেসবুকে যা লিখলেন শবনম ফারিয়া

 বিনোদন ডেস্ক 
২৯ নভেম্বর ২০২০, ০৪:০১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বিয়ের ঠিক এক বছর ৯ মাসের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটেছে অভিনেত্রী শবনম ফারিয়ার। বর হারুন অর রশীদ অপুকে ২৭ নভেম্বর ডিভোর্স দিয়েছেন আলোচিত এ অভিনেত্রী। দুজনের সম্মতিতেই এ বিচ্ছেদ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফারিয়া।

বিচ্ছেদের পেছনে তেমন কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। একে অপরের প্রতি নেই কোনো অভিযোগও।  

‘দুজনই চেয়েছি নিজেদের মতো ভালো থাকতে। তাই আলাদা হওয়া’-বলেন ফারিয়া।

বিয়েবিচ্ছেদ নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন শবনম ফারিয়া। সেটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘মানুষের জীবন নদীর মতো– কখনও জোয়ার, কখনও ভাটা। কখনও বৃষ্টিতে পানি বেড়ে যায়, শীতকালে পানি শুকিয়ে যায়। আমাদের জীবনেও এমনটি হয়েছে!

আমাদের জীবনে কিছু মানুষ আসে; কেউ কেউ স্থায়ী হয়, কেউ কেউ কিছু কারণে স্থায়িত্ব ধরে রাখতে পারে না!

আমার মা সবসময় একটি কথা বলে– আল্লাহর হুকুম ছাড়া একটি গাছের পাতাও নড়ে না, আমরা শুধু চেষ্টা করতে পারি!

ঠিক সেভাবেই আমি আর অপু অনেক দিন ধরেই চেষ্টা করেছি একসঙ্গে থাকতে!

কিন্তু বিষয়টি একটি পর্যায়ে খুব কঠিন হয়ে যায়!

মানুষ কী বলবে ভেবে নিজেদের ওপর একটু বেশিই টর্চার করে ফেলছিলাম আমরা!

জীবনটা অনেক ছোট, এত কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকার কি দরকার? এটা ভেবে আমরা এ বছরের শুরু থেকেই সিদ্ধান্তে আসি– আমরা আর একসঙ্গে কষ্টে থাকতে চাই না!

তাও বছরখানেক সময় নিয়েছি পরস্পরকে বুঝতে! ফাইনালি আল্লাহ যা করেন, ভালোর জন্যেই করেন ভেবে আমরা আমাদের প্রায় আড়াই বছরের বৈবাহিক জীবনের অবসান ঘটিয়ে আবারও ৫ বছরের পুরনো বন্ধুত্বে ফিরে গেছি।

বিবাহবিচ্ছেদ হয়, কিন্তু ভালোবাসার বিচ্ছেদ নেই! বন্ধুত্বের বিচ্ছেদ নেই!

যতদিন বেঁচে আছি আমাদের ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব থাকবে!

শুধু বৈবাহিক বন্ধন থেকে আমাদের সম্পর্কের ইতি টেনে নিলাম! এ ঘটনা আমাদের জীবনের গতি হয়তো রোধ করবে, ছন্দপতন করবে কিন্তু জীবন তো থেমে থাকবে না!

অপুর জন্য আমার অনেক অনেক দোয়া ও ভালোবাসা আর শুভকামনা। আমরা যে সুখের জন্য আলাদা হলাম আমরা যেন সে সুখ খুঁজে পাই। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।

দয়া করে মিডিয়ার বিয়ে টেকে না– এ ধরনের কথা বলে আমাদের সহকর্মীদের ছোট করবেন না! আমরা সম্পূর্ণ পারিবারিক কারণে, পারিবারিকভাবে এবং পারিবারিক সম্মতিতেই বিয়ের মতো ইন্সটিটিউশন থেকে বের হয়ে এসেছি!

আমাদের কখনও ভালোবাসা কিংবা বিশ্বাসের অভাব ছিল না; হবেও না!

আর আমার প্রিয় সাংবাদিক ভাইবোনদের উদ্দেশ্যে একটিই অনুরোধ, দয়া করে একটু মানবিকতার সঙ্গে বিষয়টি দেখবেন! প্লিজ!

দুজন মানুষের বিবাহবিচ্ছেদ মানে, দুটি পরিবারের বিচ্ছেদ, অনেক স্মৃতির বিচ্ছেদ! অনেক ভালো সময়ের সঙ্গে বিচ্ছেদ এটি কারও জন্য সুখকর অনুভূতি না! দয়া করে মুখরোচক অদ্ভুত সংবাদ প্রকাশ করে আমাদের আর বিব্রত করবেন না!

আমরা একে অন্যের ওপর সম্পূর্ণ সন্মান বজায় রাখতে চাই!

ধন্যবাদ
অপু-ফারিয়া’

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া ও বেসরকারি চাকরিজীবী হারুন অর রশীদ অপু। এর আগে ২০১৫ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। এর পর বন্ধুত্ব ও প্রেম। তিন বছর পর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে আংটিবদল হয় তাদের।

বিয়ের প্রায় দুই বছরের মাথায় সংসার জীবনের ইতি টানলেন শবনম ফারিয়া-অপু। নিজ ইচ্ছায় ২৭ নভেম্বর বিচ্ছেদ পত্রে সই করেন দুজনে।