ধর্ম পরিচয় জানতে চাওয়া কি অপরাধ? জবাবে যা বললেন চঞ্চল
jugantor
ধর্ম পরিচয় জানতে চাওয়া কি অপরাধ? জবাবে যা বললেন চঞ্চল

  বিনোদন ডেস্ক  

১৩ মে ২০২১, ০৫:২৬:৫৫  |  অনলাইন সংস্করণ

মা দিবসে সাইবার হয়রানির শিকার হয়েছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী।

আর সবার মতো সেদিন ফেসবুকে মায়ের সঙ্গে নিজের ছবি প্রকাশ করে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়েছেন তিনি।

ছবি পোস্টের পর মন্তব্যের ঘরে ধর্ম নিয়ে ‘কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্য করেচঞ্চল চৌধুরীকে আক্রমণ করেন কেউ কেউ।

তিনি কোন ধর্মাবলম্বীর জানতে চেয়ে প্রশ্নওকরেন অনেকে। জবাবে ওই ছবির মন্তব্যের ঘরে চঞ্চল লেখেন, আমি হিন্দু নাকি মুসলিম,তাতে আপনাদের লাভ বা ক্ষতি কি? সকলেরই সবচেয়ে বড় পরিচয় ‘মানুষ’।

এরপর বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ডিংয়ে পরিণত। এ নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন ছুঁড়েন, কারো ধর্ম বিষয়ে জানতে চাওয়া কি অপরাধ?

চার দিন পর এই প্রশ্নের জবাব দিলেন অভিনেতা চঞ্চল নিজেই।বৃহস্পতিবার ভোরে এ বিষয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেদীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন চঞ্চল চৌধুরী।

তিনি জানান, তার ব্যক্তিগত পরিচয় নিয়ে গত কয়েকদিনে ফেসবুকে যে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে গেছে তাতে মানসিকভাবে খুব অস্বস্তিতে ভুগছেন তিনি। তাই ভবিষ্যতে নতুন করে তার পরিচয় জানার জন্য কেউ আগ্রহী হলে ব্যক্তিগতভাবে তাকে ইনবক্স করতে অনুরোধ করেন।

কারো ধর্ম বিষয়ে জানতে চাওয়া কি অপরাধ? - এই প্রশ্নের জবাবে চঞ্চল যা লিখেছেন তা পাঠকের উদ্দেশে দেওয়া হলো,

‘ধর্ম পরিচয় জানতে চাওয়াটা কি কোন অপরাধ? তাদের জন্য বলছি। অপরাধ নয়,এটা যেমন ঠিক,আবার বার বার এই পরিচয়টা জানতে চাওয়ার মধ্যেও তেমন কোন বাহাদুরী বা পৌরুষত্ব নেই। বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আমাকে ভালোবাসে,আমার কাজ পছন্দ করে, এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। এই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে যারা আমাকে ভালোবেসে আমার হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন,সকল ধর্মের মানুষ আমার মাকে মা ডেকেছেন, আমার পরিচিত জন,শুভানুধ্যয়ীসহ,দেশ বিদেশের হাজার হাজার মানুষ খোঁজ নিয়েছেন. আমি এ হেন পরিস্থিতিতে কেমন আছি। তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।’

নেতিবাচক মন্তব্য মুছে ফেলার বিষয়ে চঞ্চল লিখেছেন, ‘সামান্য সংখ্যক মানুষ নানান বিব্রতকর প্রশ্ন করে ও গালি গালাজ করে বা আমাকে বর্জন করেও পরবর্তীতে তাদের কমেন্টগুলো ডিলিট করে দিয়েছেন। তাদের প্রতিও আমার ভালোবাসা রইল। কারণ তারা এক পর্যায়ে বাস্তব পরিস্থিতিটা বুঝতে পেরেছেন। যে কারণে,অনেকেই পরবর্তীতে আমাকে দেয়া গালিগুলো আর খুঁজে না পেয়ে উল্টো অভিযোগ করে বলেছেন, কই আমার বিরুদ্ধে তো কেউ তেমন কিছুই লেখেনি। এ নিয়েও আর কোন বিতর্কের দরকার নেই।’

পরিশেষে আয়নাবাজিখ্যাত এই অভিনেতা লেখেন, ‘সব ধর্মেই ভালো মানুষ,মন্দ মানুষ রয়েছে। আমার মনে হয় সকল মানুষের পরিচয়টা কর্ম, সহনশীলতা,আর ধর্মীয় উদারতা দিয়ে হোক। আমাকে নিয়ে অতিৎসত্বর এই আলোচনারও পরিসমাপ্তি হোক। আমার পরিচয় আমি মানুষ,আমি বাংলাদেশি,আমি বাঙালি। আমার সবচেয়ে বড় যে পরিচয়ে আপনারা আমাকে চেনেন - সেটা হলো,আমি একজন শিল্পী।আমার কাছে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খৃস্টান সবাই সমান এবং আপন।’

ধর্ম পরিচয় জানতে চাওয়া কি অপরাধ? জবাবে যা বললেন চঞ্চল

 বিনোদন ডেস্ক 
১৩ মে ২০২১, ০৫:২৬ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মা দিবসে সাইবার হয়রানির শিকার হয়েছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। 

আর সবার মতো সেদিন ফেসবুকে মায়ের সঙ্গে নিজের ছবি প্রকাশ করে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়েছেন তিনি।  

ছবি পোস্টের পর মন্তব্যের ঘরে ধর্ম নিয়ে ‘কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্য করে চঞ্চল চৌধুরীকে আক্রমণ করেন কেউ কেউ। 

তিনি কোন ধর্মাবলম্বীর জানতে চেয়ে প্রশ্নও করেন অনেকে। জবাবে ওই ছবির মন্তব্যের ঘরে চঞ্চল লেখেন, আমি হিন্দু নাকি মুসলিম,তাতে আপনাদের লাভ বা ক্ষতি কি? সকলেরই সবচেয়ে বড় পরিচয় ‘মানুষ’।

এরপর বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ডিংয়ে পরিণত। এ নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন ছুঁড়েন, কারো ধর্ম বিষয়ে জানতে চাওয়া কি অপরাধ?

চার দিন পর এই প্রশ্নের জবাব দিলেন অভিনেতা চঞ্চল নিজেই। বৃহস্পতিবার ভোরে এ বিষয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন চঞ্চল চৌধুরী।

তিনি জানান, তার ব্যক্তিগত পরিচয় নিয়ে গত কয়েকদিনে ফেসবুকে যে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে গেছে তাতে মানসিকভাবে খুব অস্বস্তিতে ভুগছেন তিনি। তাই ভবিষ্যতে নতুন করে তার পরিচয় জানার জন্য কেউ আগ্রহী হলে ব্যক্তিগতভাবে তাকে ইনবক্স করতে অনুরোধ করেন।

কারো ধর্ম বিষয়ে জানতে চাওয়া কি অপরাধ? - এই প্রশ্নের জবাবে চঞ্চল যা লিখেছেন তা পাঠকের উদ্দেশে দেওয়া হলো,

‘ধর্ম পরিচয় জানতে চাওয়াটা কি কোন অপরাধ? তাদের জন্য বলছি।  অপরাধ নয়,এটা যেমন ঠিক,আবার বার বার এই পরিচয়টা জানতে চাওয়ার মধ্যেও তেমন কোন বাহাদুরী বা পৌরুষত্ব নেই। বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আমাকে ভালোবাসে,আমার কাজ পছন্দ করে, এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। এই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে যারা আমাকে ভালোবেসে আমার হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন,সকল ধর্মের মানুষ আমার মাকে মা ডেকেছেন, আমার পরিচিত জন,শুভানুধ্যয়ীসহ,দেশ বিদেশের হাজার হাজার মানুষ খোঁজ নিয়েছেন. আমি এ হেন পরিস্থিতিতে কেমন আছি। তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।’

নেতিবাচক মন্তব্য মুছে ফেলার বিষয়ে চঞ্চল লিখেছেন, ‘সামান্য সংখ্যক মানুষ নানান বিব্রতকর প্রশ্ন করে ও গালি গালাজ করে বা আমাকে বর্জন করেও পরবর্তীতে তাদের কমেন্টগুলো ডিলিট করে দিয়েছেন। তাদের প্রতিও আমার ভালোবাসা রইল। কারণ তারা এক পর্যায়ে বাস্তব পরিস্থিতিটা বুঝতে পেরেছেন। যে কারণে,অনেকেই পরবর্তীতে আমাকে দেয়া গালিগুলো আর খুঁজে না পেয়ে উল্টো অভিযোগ করে বলেছেন, কই আমার বিরুদ্ধে তো কেউ তেমন কিছুই লেখেনি। এ নিয়েও আর কোন বিতর্কের দরকার নেই।’

পরিশেষে আয়নাবাজিখ্যাত এই অভিনেতা লেখেন, ‘সব ধর্মেই ভালো মানুষ,মন্দ মানুষ রয়েছে। আমার মনে হয় সকল মানুষের পরিচয়টা কর্ম, সহনশীলতা,আর ধর্মীয় উদারতা দিয়ে হোক। আমাকে নিয়ে অতিৎসত্বর এই আলোচনারও পরিসমাপ্তি হোক। আমার পরিচয় আমি মানুষ,আমি বাংলাদেশি,আমি বাঙালি। আমার সবচেয়ে বড় যে পরিচয়ে আপনারা আমাকে চেনেন - সেটা হলো,আমি একজন শিল্পী।আমার কাছে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খৃস্টান সবাই সমান এবং আপন।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন