‘হ্যাকড’ ফেসবুক পেজ ‘উদ্ধার’, থানায় যাচ্ছেন নোবেল
jugantor
‘হ্যাকড’ ফেসবুক পেজ ‘উদ্ধার’, থানায় যাচ্ছেন নোবেল

  বিনোদন ডেস্ক  

১৫ মে ২০২১, ১৯:৪২:২২  |  অনলাইন সংস্করণ

অবশেষে ‘নোবেল ম্যান’ পেজ থেকে মুছলনগরবাউল জেমস, সঙ্গীতজ্ঞ ইথুন বাবু, শিল্পী তাপস ও দুটি গণমাধ্যমকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাসগুলো।

এরপরই এক স্ট্যাটাস ভেসে উঠল - ‘আলহামদুলিল্লাহ, ফেসবুক রিকভার্ড। ইয়েস।’

তরুণ উঠতি গায়ক মাঈনুল ইসলাম নোবেল জানিয়েছেন, বেহাত হয়ে যাওয়া তার ফেসবুক পেজটি উদ্ধার করা গেছে। কুরুচিপূর্ণ ও বিতর্কিতস্ট্যাটাসগুলো মুছে দিয়েছেন তিনি। ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল মর্মে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।এজন্যগুলশান থানায় যাচ্ছেন।

অর্থাৎ বেহাত হওয়ার দাবির পরদিনই নিজের ফেসবুক পেজ উদ্ধারের দাবি করলেন এই তরুণ কণ্ঠশিল্পী।

এ বিষয়ে শনিবার বিকালে গণমাধ্যমকে নোবেল বলেন, আমার ধারণা ‘দেশের বাইরে থেকে’পেজটি ‘হ্যাক করা’ হয়েছিল। কিছুক্ষণ আগে সেটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি।

তবে পেজটি কীভাবে উদ্ধারে সক্ষম হলে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি নোবেল।

এর আগে ঈদের দিন সন্ধ্যায় (শুক্রবার) নোবেল জানিয়েছিলেন, হ্যাকড হলেও তার পেজটি পুরোপুরি বেহাত হয়নি, নিয়ন্ত্রণ আমার হাতেও রয়েছে। আমার পেজের অ্যাডমিন দুই জন; সেই সঙ্গে এডিটরসহ আছেন মোট ২৭ জন। এটা একটু উপরের লেভেল থেকে বিষয়টা হয়েছে। একটু ঝামেলা হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতে ফেসবুকের আঞ্চলিক দপ্তরে যোগাযোগ করা হচ্ছে। সেখানে কাজ না হলে প্রয়োজনে সিলিকন ভ্যালি পর্যন্ত যাব। পেজ আমরা উদ্ধার করব। পেজটি পুরোপুরি বেহাত হয়নি; নিয়ন্ত্রণ আমার হাতেও আছে।

তবুও জেমস ও ইথুন বাবুকে নিয়ে ভেসে থাকা পোস্টগুলো সরিয়ে নিচ্ছেন না কেন- প্রশ্নে তিনি বলেছিলেন, আমাকে থ্রেট দেওয়া হচ্ছে যে, স্ট্যাটাসগুলো ডিলিট করলে আরও আজেবাজে স্ট্যাটাস দেওয়া হবে। যে কারণে স্ট্যাটাসগুলো আমি ডিলিট করছি না। আমি আমার ফেসবুক পেজ সিকিউর করতে চাই।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার চান রাত থেকে নোবেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ‘নোবেল ম্যান’ থেকে ১ ঘণ্টায় ১১টি স্ট্যাটাস পোস্ট করা হয়। যার বেশিরভাগই বাংলা ব্যান্ডের নগরবাউল জেমসকে নিয়ে।

সবগুলো স্ট্যাটাসই ছিল আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ।

এর একটিতে জেমসকে ‘ওপেন চ্যালেঞ্জ’ ছুঁড়েন নোবেল। লেখেন, ‘জেমসকে ওপেন CHALLENGE!একই গান জেমস গাবে আমিও গাব!’

আরেকটি স্ট্যাটাসে নোবেল লেখেন, ‘ওই জেমস! গান গাবা এক স্টেজে?তোমারে ১০০০ মিউজিশিয়ান দেব। আর আমি একা একটা মাইক্রোফোন!’

এরপর একইরকম আপত্তিকর আরো কিছু পোস্ট ভেসে ওঠে পেজের টাইমলাইনে।

এসব পোস্ট দেখে রাত থেকেই চোখ ছানাবড়া হয় নেটিজেনদের। কিংবদন্তিতুল্য শিল্পী নিয়ে এমন সব বার্তা কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখতে পারে! নোবেলের কি হুঁশ আছে? তিনি কি এমন মানসিকভাবে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন? নাকি মাদকাসক্ত!

এমন প্রশ্ন রাতভর ধরেই করে যাচ্ছিলেন নেটজনতা। তবে নোবেলভক্তদের বিশ্বাস ছিল, নিশ্চই বিপদে পড়েছেন তিনি। তার আইডি হ্যাক করা হয়েছে।

এসব নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া যখন তোলাপাড়, তখন নোবেল দাবি করেন, এসব স্ট্যাটাস তিনি লেখেননি। তার পেজ হ্যাকড।

তবে নোবেলের ফেসবুক পেজ আদৌ হ্যাকারের কবলে পড়েছিল কি না- তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে অনেকের।

তাদের বক্তব্য, ফেসবুকে উল্টোপাল্টা পোস্ট করা নোবেলের স্বভাব। বিতর্ক, গালাগালই যেন পছন্দ ‘সারেগামাপা’ থেকে জনপ্রিয়তা পাওয়া এই বাংলাদেশি শিল্পীর।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজকে বিতর্কে মজে থাকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি।

তাদের বিশ্বাস, নোবেল শুধু মাত্র নিজের মিউজিক ভিডিওর প্রচারণার জন্য এই সমস্ত বিতর্কিত পোষ্ট করেন। সব শেষে পোষ্ট করে তিনি বলবেন - আমার পেজ হ্যাক হয়েছে।

এর পেছনে যে উদাহরণটি রয়েছে, তাহলো - বিতর্কিত পোস্টের জন্য গত বছর একবার নোবেলকে র‍্যাব কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। তখন ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেছিলেন, নিজের একটি গানের প্রচারের জন্য ওই কাজ করেছিলেন তিনি।

‘হ্যাকড’ ফেসবুক পেজ ‘উদ্ধার’, থানায় যাচ্ছেন নোবেল

 বিনোদন ডেস্ক 
১৫ মে ২০২১, ০৭:৪২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

অবশেষে ‘নোবেল ম্যান’  পেজ থেকে মুছল নগরবাউল জেমস, সঙ্গীতজ্ঞ ইথুন বাবু, শিল্পী তাপস ও দুটি গণমাধ্যমকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাসগুলো। 

এরপরই এক স্ট্যাটাস ভেসে উঠল - ‘আলহামদুলিল্লাহ, ফেসবুক রিকভার্ড। ইয়েস।’

তরুণ উঠতি গায়ক মাঈনুল ইসলাম নোবেল জানিয়েছেন, বেহাত হয়ে যাওয়া তার ফেসবুক পেজটি উদ্ধার করা গেছে। কুরুচিপূর্ণ ও বিতর্কিত স্ট্যাটাসগুলো মুছে দিয়েছেন তিনি। ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল মর্মে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এজন্য গুলশান থানায় যাচ্ছেন। 

অর্থাৎ বেহাত হওয়ার দাবির পরদিনই নিজের ফেসবুক পেজ উদ্ধারের দাবি করলেন এই তরুণ কণ্ঠশিল্পী।

এ বিষয়ে শনিবার বিকালে গণমাধ্যমকে নোবেল বলেন, আমার ধারণা ‘দেশের বাইরে থেকে’পেজটি ‘হ্যাক করা’ হয়েছিল। কিছুক্ষণ আগে সেটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি।

তবে পেজটি কীভাবে উদ্ধারে সক্ষম হলে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি নোবেল।

এর আগে ঈদের দিন সন্ধ্যায় (শুক্রবার) নোবেল জানিয়েছিলেন, হ্যাকড হলেও তার পেজটি পুরোপুরি বেহাত হয়নি, নিয়ন্ত্রণ আমার হাতেও রয়েছে। আমার পেজের অ্যাডমিন দুই জন; সেই সঙ্গে এডিটরসহ আছেন মোট ২৭ জন। এটা একটু উপরের লেভেল থেকে বিষয়টা হয়েছে। একটু ঝামেলা হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতে ফেসবুকের আঞ্চলিক দপ্তরে যোগাযোগ করা হচ্ছে। সেখানে কাজ না হলে প্রয়োজনে সিলিকন ভ্যালি পর্যন্ত যাব। পেজ আমরা উদ্ধার করব। পেজটি পুরোপুরি বেহাত হয়নি; নিয়ন্ত্রণ আমার হাতেও আছে।

তবুও জেমস ও ইথুন বাবুকে নিয়ে ভেসে থাকা পোস্টগুলো সরিয়ে নিচ্ছেন না কেন- প্রশ্নে তিনি বলেছিলেন, আমাকে থ্রেট দেওয়া হচ্ছে যে, স্ট্যাটাসগুলো ডিলিট করলে আরও আজেবাজে স্ট্যাটাস দেওয়া হবে। যে কারণে স্ট্যাটাসগুলো আমি ডিলিট করছি না। আমি আমার ফেসবুক পেজ সিকিউর করতে চাই।  

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার চান রাত থেকে নোবেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ‘নোবেল ম্যান’ থেকে ১ ঘণ্টায় ১১টি স্ট্যাটাস পোস্ট করা হয়। যার বেশিরভাগই বাংলা ব্যান্ডের নগরবাউল জেমসকে নিয়ে।

সবগুলো স্ট্যাটাসই ছিল আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ। 

এর একটিতে জেমসকে ‘ওপেন চ্যালেঞ্জ’ ছুঁড়েন নোবেল। লেখেন,  ‘জেমসকে ওপেন CHALLENGE!একই গান জেমস গাবে আমিও গাব!’

আরেকটি স্ট্যাটাসে নোবেল লেখেন, ‘ওই জেমস! গান গাবা এক স্টেজে?তোমারে ১০০০ মিউজিশিয়ান দেব। আর আমি একা একটা মাইক্রোফোন!’  

এরপর একইরকম আপত্তিকর আরো কিছু পোস্ট ভেসে ওঠে পেজের টাইমলাইনে।

এসব পোস্ট দেখে রাত থেকেই চোখ ছানাবড়া হয় নেটিজেনদের। কিংবদন্তিতুল্য শিল্পী নিয়ে এমন সব বার্তা কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখতে পারে! নোবেলের কি হুঁশ আছে? তিনি কি এমন মানসিকভাবে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন? নাকি মাদকাসক্ত!

এমন প্রশ্ন রাতভর ধরেই করে যাচ্ছিলেন নেটজনতা। তবে নোবেলভক্তদের বিশ্বাস ছিল, নিশ্চই বিপদে পড়েছেন তিনি। তার আইডি হ্যাক করা হয়েছে। 

এসব নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া যখন তোলাপাড়, তখন নোবেল দাবি করেন, এসব স্ট্যাটাস তিনি লেখেননি। তার পেজ হ্যাকড।

তবে নোবেলের ফেসবুক পেজ আদৌ হ্যাকারের কবলে পড়েছিল কি না- তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে অনেকের। 

তাদের বক্তব্য, ফেসবুকে উল্টোপাল্টা পোস্ট করা নোবেলের স্বভাব। বিতর্ক, গালাগালই যেন পছন্দ ‘সারেগামাপা’ থেকে জনপ্রিয়তা পাওয়া এই বাংলাদেশি শিল্পীর। 

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজকে বিতর্কে মজে থাকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি।

তাদের বিশ্বাস, নোবেল শুধু মাত্র নিজের মিউজিক ভিডিওর প্রচারণার জন্য এই সমস্ত বিতর্কিত পোষ্ট করেন। সব শেষে পোষ্ট করে তিনি বলবেন - আমার পেজ হ্যাক হয়েছে।

এর পেছনে যে উদাহরণটি রয়েছে, তাহলো - বিতর্কিত পোস্টের জন্য গত বছর একবার নোবেলকে র‍্যাব কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। তখন ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেছিলেন, নিজের একটি গানের প্রচারের জন্য ওই কাজ করেছিলেন তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন