সংসদে নুসরাতের ‘মিথ্যা’ ভাষণ নিয়ে তোলপাড়
jugantor
সংসদে নুসরাতের ‘মিথ্যা’ ভাষণ নিয়ে তোলপাড়

  বিনোদন ডেস্ক  

১১ জুন ২০২১, ১৬:২৬:৫২  |  অনলাইন সংস্করণ

সংসদে নুসরাতের মিথ্যা ভাষণ নিয়ে তোলপাড়!

২০১৯ সালে তৃণমূলের মনোনয়নে বসুরহাট থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদে যান নুসরাত জানান। সেখানে ভাষণে এই টালিউড নায়িকা নিজেকে নিখিল জৈনের স্ত্রী বলে পরিচয় দেন। অথচ গত বুধবার এক বিবৃতিতে নুসরাত দাবি করেন, নিখিলের সঙ্গে তার বিয়ে-ই হয়নি। তাই তার সঙ্গে বিচ্ছেদের প্রশ্নই উঠে না।

লোকসভার ভাষণে নুসরাত সেদিন বলেছিলেন, ‘আমি নুসরত জাহান রুহি জৈন।’ লোকসভায় শপথ নেওয়ার সময় এভাবেই বলেছিলেন বসিরহাটের তৃণমূল সংসদ সদস্য। শপথ গ্রহণের নুসরাতের বক্তব্যের সেই ভিডিও নিয়ে তাকে চাপে ফেলার চেষ্টা করছে বিজেপি। দলের আইটি সেলের সর্বভারতীয় প্রধান অমিত মালব্য বৃহস্পতিবার সেই ভিডিও-সহ একটি টুইটে বলেছেন, ‘তৃণমূল সংসদ সদস্য নুসরাত জাহান রুহি জৈনের ব্যক্তিগত জীবন, তিনি কাকে বিয়ে করেছেন, কার সঙ্গে লিভ-ইন করছেন সেটা নিয়ে কারও কিছু বলার নেই। কিন্তু তিনি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং সংসদের রেকর্ড অনুযায়ী তিনি নিখিল জৈনকে বিবাহ করেছেন। তবে কি তিনি সংসদে অসত্য ভাষণ দিয়েছিলেন?’

লোকসভার ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, নুসরাত বিবাহিত। তার স্বামীর নাম নিখিল জৈন। বিয়ের তারিখ ১৯ জুন ২০১৯। এমনকি লোকসভায় শপথ নেওয়ার দিনও নুসরাত নিজের নাম বলেছিলেন, 'আমি নুসরত জাহান রুহি জৈন'।

এদিকে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে লড়ার সময় নিয়ম মেনে নির্বাচন কমিশনের কাছে হলফনামা জমা দিয়েছিলেন আলোচিত টালিউড নায়িকা নুসরাত জাহান। সেই হলফনামায় লেখা নুসরাতের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে লোকসভার ওয়েবসাইটে লেখা তথ্যের কোনো মিল নেই।

নুসরাতের জমা দেওয়া হলফনামায় বলা হয়েছে, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চ মাধ্যমিক পাশ। ২০০৮ সালে ভবানীপুর গুজরাটি এডুকেশনাল সোসাইটি থেকে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পাশ পাশ করেছেন। অথচ, লোকসভার ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে অন্যকথা। সেখানে রয়েছে, নুসরত বি কম অনার্স। ইতোমধ্যেই দুই জায়গায় দেওয়া তৃণমূলের এই সংসদ সদস্যের দুরকম তথ্য ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

বুধবার এক বিবৃতিতে নুসরাত বলেন, ‘নিখিলের সঙ্গে লিভ টুগেদার করেছি। বিয়ে হয়নি। তুরস্কের বিয়ে বৈধ নয়। তাই তার সঙ্গে বিচ্ছেদের প্রশ্নই ওঠে না।'

সেই খবর প্রকাশের পরেই হইচই শুরু হয়ে যায়। কিন্তু পরে দেখা যায়, নুসরাত নিখিলের সঙ্গে লিভ-ইন করেছেন বলে দাবি করলেও সরকারি নথিতে তিনি বিবাহিতা এবং স্বামীর নাম নিখিল জৈন। লোকসভার ওয়েবসাইটে পশ্চিমবঙ্গ থেকে জয়ী তৃণমূল সংসদ সদস্যেদের যে তালিকা তাতে নুসরাতের নামে ক্লিক করলেই দেখা যাচ্ছে যাবতীয় তথ্য।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, কোনো জনপ্রতিনিধি সংসদে অসত্য তথ্য দিলে তার বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের অভিযোগ আনা যায়। নুসরতের বিরুদ্ধেও কি এমন কিছু ভাবছে বিজেপি? এমন প্রশ্নের জবাবে আইটি সেলের সর্বভারতীয় প্রধান অমিত মালব্য বলেন, এখন করোনার কারণে সংসদ বন্ধ রয়েছে। সংসদ চালু হলে আমরা কী করব সেটা জানাব। তবে বিজেপি যে বিষয়টি থেকে রাজনৈতিক চাপও তৈরি করতে চাইছে সেটা স্পষ্ট হয়ে গেছে অমিতের টুইটেই।

সংসদে নুসরাতের ‘মিথ্যা’ ভাষণ নিয়ে তোলপাড়

 বিনোদন ডেস্ক 
১১ জুন ২০২১, ০৪:২৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
সংসদে নুসরাতের মিথ্যা ভাষণ নিয়ে তোলপাড়!
ছবি: সংগৃহীত

২০১৯ সালে তৃণমূলের মনোনয়নে বসুরহাট থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদে যান নুসরাত জানান।  সেখানে ভাষণে এই টালিউড নায়িকা নিজেকে নিখিল জৈনের স্ত্রী বলে পরিচয় দেন।  অথচ গত বুধবার এক বিবৃতিতে নুসরাত দাবি করেন, নিখিলের সঙ্গে তার বিয়ে-ই হয়নি।  তাই তার সঙ্গে বিচ্ছেদের প্রশ্নই উঠে না। 

লোকসভার ভাষণে নুসরাত সেদিন বলেছিলেন, ‘আমি নুসরত জাহান রুহি জৈন।’  লোকসভায় শপথ নেওয়ার সময় এভাবেই বলেছিলেন বসিরহাটের তৃণমূল সংসদ সদস্য। শপথ গ্রহণের নুসরাতের বক্তব্যের সেই ভিডিও নিয়ে তাকে চাপে ফেলার চেষ্টা করছে বিজেপি।  দলের আইটি সেলের সর্বভারতীয় প্রধান অমিত মালব্য বৃহস্পতিবার সেই ভিডিও-সহ একটি টুইটে বলেছেন, ‘তৃণমূল সংসদ সদস্য নুসরাত জাহান রুহি জৈনের ব্যক্তিগত জীবন, তিনি কাকে বিয়ে করেছেন, কার সঙ্গে লিভ-ইন করছেন সেটা নিয়ে কারও কিছু বলার নেই।  কিন্তু তিনি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং সংসদের রেকর্ড অনুযায়ী তিনি নিখিল জৈনকে বিবাহ করেছেন। তবে কি তিনি সংসদে অসত্য ভাষণ দিয়েছিলেন?’

লোকসভার ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, নুসরাত বিবাহিত।  তার স্বামীর নাম নিখিল জৈন।  বিয়ের তারিখ ১৯ জুন ২০১৯। এমনকি লোকসভায় শপথ নেওয়ার দিনও নুসরাত নিজের নাম বলেছিলেন, 'আমি নুসরত জাহান রুহি জৈন'।  

এদিকে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে লড়ার সময় নিয়ম মেনে নির্বাচন কমিশনের কাছে হলফনামা জমা দিয়েছিলেন আলোচিত টালিউড নায়িকা নুসরাত জাহান।  সেই হলফনামায় লেখা নুসরাতের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে লোকসভার ওয়েবসাইটে লেখা তথ্যের কোনো মিল নেই।  

নুসরাতের জমা দেওয়া হলফনামায় বলা হয়েছে, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চ মাধ্যমিক পাশ।  ২০০৮ সালে ভবানীপুর গুজরাটি এডুকেশনাল সোসাইটি থেকে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পাশ পাশ করেছেন।  অথচ, লোকসভার ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে অন্যকথা।  সেখানে রয়েছে, নুসরত বি কম অনার্স।  ইতোমধ্যেই দুই জায়গায় দেওয়া তৃণমূলের এই সংসদ সদস্যের দুরকম তথ্য ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

বুধবার এক বিবৃতিতে নুসরাত বলেন, ‘নিখিলের সঙ্গে লিভ টুগেদার করেছি।  বিয়ে হয়নি।  তুরস্কের বিয়ে বৈধ নয়।  তাই তার সঙ্গে বিচ্ছেদের প্রশ্নই ওঠে না।' 

সেই খবর প্রকাশের পরেই হইচই শুরু হয়ে যায়।  কিন্তু পরে দেখা যায়, নুসরাত নিখিলের সঙ্গে লিভ-ইন করেছেন বলে দাবি করলেও সরকারি নথিতে তিনি বিবাহিতা এবং স্বামীর নাম নিখিল জৈন।  লোকসভার ওয়েবসাইটে পশ্চিমবঙ্গ থেকে জয়ী তৃণমূল সংসদ সদস্যেদের যে তালিকা তাতে নুসরাতের নামে ক্লিক করলেই দেখা যাচ্ছে যাবতীয় তথ্য।  

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, কোনো জনপ্রতিনিধি সংসদে অসত্য তথ্য দিলে তার বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের অভিযোগ আনা যায়।  নুসরতের বিরুদ্ধেও কি এমন কিছু ভাবছে বিজেপি? এমন প্রশ্নের জবাবে আইটি সেলের সর্বভারতীয় প্রধান অমিত মালব্য বলেন, এখন করোনার কারণে সংসদ বন্ধ রয়েছে।  সংসদ চালু হলে আমরা কী করব সেটা জানাব।  তবে বিজেপি যে বিষয়টি থেকে রাজনৈতিক চাপও তৈরি করতে চাইছে সেটা স্পষ্ট হয়ে গেছে অমিতের টুইটেই।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন