একা ঘরে হাউহাউ করে কাঁদছি: কাঞ্চন মল্লিক
jugantor
একা ঘরে হাউহাউ করে কাঁদছি: কাঞ্চন মল্লিক

  অনলাইন ডেস্ক  

২২ জুন ২০২১, ১১:০৬:৩৩  |  অনলাইন সংস্করণ

গত কয়েক দিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিকের দাম্পত্য জীবন নিয়ে খবরের শিরোনাম হচ্ছে। সেই ঝামেলা শেষ পর্যন্ত থানায় গিয়ে গড়ায়।

শনিবার রাতে নিউ আলিপুর থানায় কাঞ্চনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন স্ত্রী পিঙ্কি ব্যানার্জি। স্বামীর বান্ধবী শ্রীময়ী চট্টরাজের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন তিনি। এর পর দিনই স্ত্রীর নামে পাল্টা অভিযোগ করেন কাঞ্চন।

দুজনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর সদ্য বিজয়ী তৃণমূল বিধায়ক কাঞ্চন ঘটনার বিস্তারিত জানাতে আনন্দবাজারে কলাম লেখেন।

সেখানে স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলে অভিনেতা বলেন, অন্যকে মিথ্যে দোষারোপ করতে গিয়ে নিজেই প্রকৃত সত্য সামনে এনে ফেললেন পিঙ্কি। তিনি নিজে প্রেমে পড়েছেন। অর্থাৎ পরকীয়া করছেন। সেই জন্যেই কি তার পরিণত দুজন মানুষের পরকীয়ায় আপত্তি নেই? নাকি সেই জায়গা থেকে ছাড় পেতে আমাকে শ্রীময়ী চট্টরাজের সঙ্গে জড়িয়ে দিলেন? যার সঙ্গে আমার পরকীয়া দূরঅস্ত কাজের বাইরে কোনো সম্বন্ধই নেই! এই প্রশ্ন কেউ করেছেন তাকে?

‘জানতে চেয়েছেন, পিঙ্কির প্রশাসনিক মহলে কতজন ‘বন্ধু’ রয়েছেন? কেউ জিজ্ঞাসা করবেন না। কারণ কোনো নারী এ ধরনের অভিযোগ তুললে সমাজ তার পক্ষে।’

কাঞ্চন বলেন, পুরুষদেরও কান্না পায়, কে বুঝবে? তার ওপর সে যদি হয় ‘লোক হাসানো’ কাঞ্চন মল্লিক! লোক হাসাতে হাসাতে আজ একা ঘরে হাউহাউ করে কাঁদছি। কেউ দেখার নেই! আজ মনে হচ্ছে— ভাগ্যিস শ্রীময়ী আর আমার আপ্ত সহায়ককে শনিবার সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলাম। একা কথা বলতে গেলে বোধহয় আমার বিরুদ্ধে ৪৯৮-এ মামলা করত পিঙ্কি।

তৃণমূল বিধায়ক কাঞ্চন আরও বলেন, গণমাধ্যমে মুখ খোলার পরই ফোনের বন্যা। রাতারাতি কলঙ্কিত নায়ক আমি। রাস্তায় বেরোতে পারছি না। লোকের সঙ্গে মাথা তুলে কথা বলতে পারছি না। সবার বিস্মিত দৃষ্টি যেন তীরের মতো বিঁধছে। মাথা হেট নিজের দলের কাছে। কী উত্তর দেব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে? তারা আমায় ভরসা করে একটি কেন্দ্রের বিধায়ক পদে প্রার্থী করেছেন। দলের কাছে, নেত্রীর কাছে এভাবে ছোট করার মানে কী?

তিনি বলেন, বিধায়ক পদে জেতার পর মিষ্টি নিয়ে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলাম। পরের দিন গণমাধ্যমের কাছে পিঙ্কির আক্ষেপ, জাত অভিনেতার অপমৃত্যু হলো! আমার জয়ে তার এ মন্তব্য?

‘এর পরই কিন্তু একাধিক দাবি-দাওয়ার ঝুলি খুলে বসে আমার স্ত্রী। প্রতি মাসে সাড়ে তিন লাখ টাকা দিতে হবে তাকে। চাকরিও দিতে হবে ছেলের আয়ার ভাইকে! এত দাবি মেটানো আমার পক্ষে সম্ভব? বিধায়ক হলেও আদতে আমি তো ছা-পোষা অভিনেতা। আমার সঙ্গে যখন জি বাংলায় শো করতে গেল তখনও ক্যামেরার সামনে কি নিখুঁত সুখী দম্পতির অভিনয় করল!’

একা ঘরে হাউহাউ করে কাঁদছি: কাঞ্চন মল্লিক

 অনলাইন ডেস্ক 
২২ জুন ২০২১, ১১:০৬ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

গত কয়েক দিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিকের দাম্পত্য জীবন নিয়ে খবরের শিরোনাম হচ্ছে। সেই ঝামেলা শেষ পর্যন্ত থানায় গিয়ে গড়ায়।

শনিবার রাতে নিউ আলিপুর থানায় কাঞ্চনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন স্ত্রী পিঙ্কি ব্যানার্জি। স্বামীর বান্ধবী শ্রীময়ী চট্টরাজের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন তিনি। এর পর দিনই স্ত্রীর নামে পাল্টা অভিযোগ করেন কাঞ্চন।

দুজনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর সদ্য বিজয়ী তৃণমূল বিধায়ক কাঞ্চন ঘটনার বিস্তারিত জানাতে আনন্দবাজারে কলাম লেখেন। 

সেখানে স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলে অভিনেতা বলেন, অন্যকে মিথ্যে দোষারোপ করতে গিয়ে নিজেই প্রকৃত সত্য সামনে এনে ফেললেন পিঙ্কি। তিনি নিজে প্রেমে পড়েছেন। অর্থাৎ পরকীয়া করছেন। সেই জন্যেই কি তার পরিণত দুজন মানুষের পরকীয়ায় আপত্তি নেই? নাকি সেই জায়গা থেকে ছাড় পেতে আমাকে শ্রীময়ী চট্টরাজের সঙ্গে জড়িয়ে দিলেন? যার সঙ্গে আমার পরকীয়া দূরঅস্ত কাজের বাইরে কোনো সম্বন্ধই নেই! এই প্রশ্ন কেউ করেছেন তাকে? 

‘জানতে চেয়েছেন, পিঙ্কির প্রশাসনিক মহলে কতজন ‘বন্ধু’ রয়েছেন? কেউ জিজ্ঞাসা করবেন না। কারণ কোনো নারী এ ধরনের অভিযোগ তুললে সমাজ তার পক্ষে।’

কাঞ্চন বলেন, পুরুষদেরও কান্না পায়, কে বুঝবে? তার ওপর সে যদি হয় ‘লোক হাসানো’ কাঞ্চন মল্লিক! লোক হাসাতে হাসাতে আজ একা ঘরে হাউহাউ করে কাঁদছি। কেউ দেখার নেই! আজ মনে হচ্ছে— ভাগ্যিস শ্রীময়ী আর আমার আপ্ত সহায়ককে শনিবার সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলাম। একা কথা বলতে গেলে বোধহয় আমার বিরুদ্ধে ৪৯৮-এ মামলা করত পিঙ্কি।

তৃণমূল বিধায়ক কাঞ্চন আরও বলেন, গণমাধ্যমে মুখ খোলার পরই ফোনের বন্যা। রাতারাতি কলঙ্কিত নায়ক আমি। রাস্তায় বেরোতে পারছি না। লোকের সঙ্গে মাথা তুলে কথা বলতে পারছি না। সবার বিস্মিত দৃষ্টি যেন তীরের মতো বিঁধছে। মাথা হেট নিজের দলের কাছে। কী উত্তর দেব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে? তারা আমায় ভরসা করে একটি কেন্দ্রের বিধায়ক পদে প্রার্থী করেছেন। দলের কাছে, নেত্রীর কাছে এভাবে ছোট করার মানে কী?

তিনি বলেন, বিধায়ক পদে জেতার পর মিষ্টি নিয়ে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলাম। পরের দিন গণমাধ্যমের কাছে পিঙ্কির আক্ষেপ, জাত অভিনেতার অপমৃত্যু হলো! আমার জয়ে তার এ মন্তব্য?

‘এর পরই কিন্তু একাধিক দাবি-দাওয়ার ঝুলি খুলে বসে আমার স্ত্রী। প্রতি মাসে সাড়ে তিন লাখ টাকা দিতে হবে তাকে। চাকরিও দিতে হবে ছেলের আয়ার ভাইকে! এত দাবি মেটানো আমার পক্ষে সম্ভব? বিধায়ক হলেও আদতে আমি তো ছা-পোষা অভিনেতা। আমার সঙ্গে যখন জি বাংলায় শো করতে গেল তখনও ক্যামেরার সামনে কি নিখুঁত সুখী দম্পতির অভিনয় করল!’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন