‘শিমুকে এভাবে মেরে ফেলা হবে ভাবতেই পারছি না’
jugantor
‘শিমুকে এভাবে মেরে ফেলা হবে ভাবতেই পারছি না’

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৮ জানুয়ারি ২০২২, ১৫:৫৬:২৯  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকাই ছবির নায়িকা রাইমা ইসলাম শিমু (৩৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার স্বামী নোবেল ও গাড়িচালক ফরহাদকে আটক করেছে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় নোবেল ও ফরহাদকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন সরদার।

শিমুকে যে এভাবে মেরে ফেলা হবে, ভাবতেই পারছেন না তার ছোট বোন ফাতিমা। কেননা ১৮ বছরের দাম্পত্য জীবনে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি যে স্বামীর হাতে এমন নৃশংসভাবে খুন হতে হবে শিমুকে।

মঙ্গলবার দুপুরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে হত্যাকাণ্ডের আগের দিনের ঘটনার বর্ণনা দেন ফাতিমা।

নিহত শিমুর বোন বলেন, রোববার সন্ধ্যায় আমার কাছে একটি ফোন আসে যে, আমার বোন রাইমা ইসলাম শিমুকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। তখন থেকেই শিমুর ফোন নাম্বারে বারবার কল দিই। নাম্বার বন্ধ পাচ্ছিলাম। পরে আমি আমার বোনের মেয়েকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করি— তোমার আম্মু কোথায়? সে আমাকে বলে, মা সকালে একা বের হয়েছে এখনও বাসায় ফেরেননি।

ফাতিমা নিশা আরও বলেন, তার পর আমি আমার বোনের স্বামী সাখাওয়াত আলী নোবেল ভাইকে ফোন দিই। তাকে ফোন দিয়ে বলি, ভাইয়া আপু কোথায়? তার ফোন তো বন্ধ পাচ্ছি। তখন তিনি আমাকে বলেন, আমি তো বিষয়টি জানি না। সারাদিনে আমি তাকে ফোন দিইনি। তার নাম্বার যে বন্ধ সেটিও আমি জানি না।

পর দিনই (সোমবার) শিমুর লাশ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন ফাতিমা।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফাতিমা বলেন, আমার বোনকে কেউ হত্যা করে এভাবে বস্তাবন্দি অবস্থায় ফেলে রেখে যাবে আমরা এটি ভাবতেই পারছি না।

শিমুর স্বামী নোবেলের ওপর তাদের সন্দেহ কতটুকু— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের ১৮ বছরের সংসার জীবন। নোবেল ভাই আমার বোনকে হত্যা করেছে, এটি আমরা ভাবতেই পারছি না। আমরা শুনেছি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য পুলিশ তাকে নিয়ে গেছে।

মামলা করার বিষয়ে ফাতিমা নিশা বলেন, যেহেতু আমার বোনের লাশ কেরানীগঞ্জ মডেল থানা এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে আমরা এখন সেখানে যাচ্ছি। এ বিষয়ে ওসির সঙ্গে কথা বলে ওই থানায় মামলা করার প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি।

শিমু হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক বিপ্লব হাসান বলেন, অভিনেত্রী শিমু নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্বামী নোবেল রোববার রাতে আমাদের কাছে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে গতকাল তার মরদেহ কেরানীগঞ্জ থেকে উদ্ধার হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। যেহেতু মরদেহটি কেরানীগঞ্জে উদ্ধার হয়েছে, সেখানে থানাতেই পরবর্তী অভিযোগ বা মামলা হবে। তবে এ বিষয়ে আমরাও কাজ করছি কেউ জড়িত থাকলে গ্রেফতার করার জন্য।

প্রসঙ্গত সোমবার সকাল ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জের হজরতপুর ব্রিজের কাছে অভিনেত্রী শিমুর লাশ উদ্ধার করে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি মো. আবু সালাম মিয়া গণমাধ্যমের কাছে এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন— সকাল ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জ থেকে রাইমা ইসলাম শিমুর নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

‘শিমুকে এভাবে মেরে ফেলা হবে ভাবতেই পারছি না’

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৮ জানুয়ারি ২০২২, ০৩:৫৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকাই ছবির নায়িকা রাইমা ইসলাম শিমু (৩৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার স্বামী নোবেল ও গাড়িচালক ফরহাদকে আটক করেছে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় নোবেল ও ফরহাদকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন সরদার।

শিমুকে যে এভাবে মেরে ফেলা হবে, ভাবতেই পারছেন না তার ছোট বোন ফাতিমা। কেননা ১৮ বছরের দাম্পত্য জীবনে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি যে স্বামীর হাতে এমন নৃশংসভাবে খুন হতে হবে শিমুকে।

মঙ্গলবার দুপুরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে হত্যাকাণ্ডের আগের দিনের ঘটনার বর্ণনা দেন ফাতিমা।

নিহত শিমুর বোন বলেন, রোববার সন্ধ্যায় আমার কাছে একটি ফোন আসে যে, আমার বোন রাইমা ইসলাম শিমুকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। তখন থেকেই শিমুর ফোন নাম্বারে বারবার কল দিই। নাম্বার বন্ধ পাচ্ছিলাম। পরে আমি আমার বোনের মেয়েকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করি—  তোমার আম্মু কোথায়? সে আমাকে বলে, মা সকালে একা বের হয়েছে এখনও বাসায় ফেরেননি।

ফাতিমা নিশা আরও বলেন, তার পর আমি আমার বোনের স্বামী সাখাওয়াত আলী নোবেল ভাইকে ফোন দিই। তাকে ফোন দিয়ে বলি, ভাইয়া আপু কোথায়? তার ফোন তো বন্ধ পাচ্ছি। তখন তিনি আমাকে বলেন, আমি তো বিষয়টি জানি না। সারাদিনে আমি তাকে ফোন দিইনি। তার নাম্বার যে বন্ধ সেটিও আমি জানি না। 

পর দিনই (সোমবার) শিমুর লাশ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন ফাতিমা। 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফাতিমা বলেন, আমার বোনকে কেউ হত্যা করে এভাবে বস্তাবন্দি অবস্থায় ফেলে রেখে যাবে আমরা এটি ভাবতেই পারছি না।   

শিমুর স্বামী নোবেলের ওপর তাদের সন্দেহ কতটুকু— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের ১৮ বছরের সংসার জীবন। নোবেল ভাই আমার বোনকে হত্যা করেছে, এটি আমরা ভাবতেই পারছি না। আমরা শুনেছি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য পুলিশ তাকে নিয়ে গেছে। 

মামলা করার বিষয়ে ফাতিমা নিশা বলেন, যেহেতু আমার বোনের লাশ  কেরানীগঞ্জ মডেল থানা এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে আমরা এখন সেখানে যাচ্ছি। এ বিষয়ে ওসির সঙ্গে কথা বলে ওই থানায় মামলা করার প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি।

শিমু হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক বিপ্লব হাসান বলেন, অভিনেত্রী শিমু নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্বামী নোবেল রোববার রাতে আমাদের কাছে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে গতকাল তার মরদেহ কেরানীগঞ্জ থেকে উদ্ধার হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। যেহেতু মরদেহটি কেরানীগঞ্জে উদ্ধার হয়েছে, সেখানে থানাতেই পরবর্তী অভিযোগ বা মামলা হবে। তবে এ বিষয়ে আমরাও কাজ করছি কেউ জড়িত থাকলে গ্রেফতার করার জন্য।

প্রসঙ্গত সোমবার সকাল ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জের হজরতপুর ব্রিজের কাছে অভিনেত্রী শিমুর লাশ উদ্ধার করে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। 

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার  ওসি মো. আবু সালাম মিয়া গণমাধ্যমের কাছে এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন— সকাল ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জ থেকে রাইমা ইসলাম শিমুর নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : অভিনেত্রী শিমু হত্যা