তাজিনের মৃত্যুতে তারকাদের আবেগঘন স্ট্যাটাস

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৩ মে ২০১৮, ২১:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

তাজিন আহমেদ
ফাইল ফটো

হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মঙ্গলবার না ফেরার দেশে চলে গেছেন টিভি পর্দার একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাজিন আহমেদ। (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৩ বছর।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন অঙ্গনের তারকারা। ফেসবুকে প্রিয় অভিনেত্রীকে নিয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন তারা।

অভিনেতা রওনক হাসান লিখেছেন, ‘অভিনেত্রী তাজিন আহমেদ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। (হার্ট ফেইলর থেকে ম্যাসিভ কার্ডিয়াক এটাক) ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।’

জাকিয়া বারী মম লিখেছেন,‘সত্যি ই তাজিন আপু…ভালো লাগা মুহূর্তগুলো সব সময় স্মৃতি হয়ে যায়।’

মাসুমা রহমান নাবিলা লিখেছেন, ‘ভালো থেকো তাজিন আপু’।

সোমনুর মনির কোনাল লিখেছেন, ‘ভালো থেক তাজিন আপু। এই পৃথিবী তোমাকে শান্তি দিতে পারেনি। অপারে বেহেশতের বাগান আল্লাহ তায়ালা তোমাকে যেন দেন। আমিন।’

অনিমেষ আইচ লিখেছেন, ‘মরে গেলেই আহা...উহু!! বেঁচে থাকতে কেউ পুছে না। ঈদ নাটক মানেই সব টাকা দিয়ে একটা মোশারফ করিম, জাহিদ হাসান, অপূর্ব এবং স্টার কাস্ট কিনতে হবে। মরে গিয়ে বেঁচে গেলেন তাজিন। একজন শিল্পির অপমৃত্যুর জন্য আমরাই দায়ী। সামনে অকালমৃত্যুর দীর্ঘ সারি।’

অনিমেষ আইচ আরও লিখেছেন, “খুব খুব খুব কষ্ট লাগছে। কান্না পাচ্ছে খুব। হার্ট এটাকে তাজিন আমাদের ছেড়ে চলে গেল বড় অসময়ে। মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে খুব। কারণ, দুনিয়ার স্বাভাবিক নিয়মে তার মরার বয়স হয়নি। আবার সে বড় কোনো রোগে আক্রান্তও ছিল না।

অভিনেত্রী তাজিন দুইভাবে আমার ঘনিষ্ঠ। প্রথমত আমি সাংবাদিক ও নাট্যকার হিসেবে ভালো সম্পর্ক হয়। সে আমার ছোট বোন হয়ে আমাকে শুধু 'দাদা... দাদা...' বলেই ডাকত। কোনো টিভিতে আমার লাইভ ইন্টারভিউ দেখতে পেলে তাজিন ফোন দিতই। আর মজার মজার প্রশ্ন করত। পরবর্তীতে তাজিন বিয়ে করেছিল আমার খুব কাছের ছোট ভাই রুমি রহমানকে। সে সুবাদে সে ছোট ভাইয়ের বউ হয়ে মিশে গিয়েছিল আমাদের সঙ্গে। খুব ভালো মনের তাজিন ছিল আমার মতো- খুব অভিমানী। কারো ওপর রাগ করলে তা পুষে না রেখে মুখের ওপর বলে দিত। আবার কিছুদিন পরে সেই মানুষকে মাফ করে দিয়ে আগের মতো আপন করে নিত। ভালো থাকিস বোন আমার।

আশনা হাবিব ভাবনা লিখেছেন, ‘একজন শিল্পীর অপমৃত্যুর জন্য আমরাই দায়ী। সামনে অকালমৃত্যুর দীর্ঘ সারি। আরআইপি তাজিন আহমেদ।’

১৯৭৫ সালের ৩০ জুলাই নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করেন তাজিন আহমেদ। তিনি বেড়ে উঠেছেন পাবনা জেলায়। ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন এ অভিনেত্রী। ম্যানেজমেন্টে স্নাতকোত্তর করেছেন তিনি।

দিলারা ডলি রচিত ও শেখ নিয়ামত আলী পরিচালিত ‘শেষ দেখা শেষ নয়’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তার অভিনয়যাত্রা শুরু হয়েছিল। নাটকটি ১৯৯৬ সালে বিটিভিতে প্রচার হয়। এরপর তিনি অসংখ্য নাটক-টেলিছবি দর্শকদের উপহার দিয়েছেন। হুমায়ূন আহমেদের নাটক ‘নীলচুড়ি’তে অভিনয় করেও বেশ আলোচিত হন। তার সর্বশেষ অভিনীত ধারাবাহিক নাটক ‘বিদেশি পাড়া’। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি মিডিয়া থেকে দূরে ছিলেন।

তাজিন আহমেদ আনন্দ ভুবন ম্যাগাজিনের কলামিস্টও ছিলেন তিনি। পরে মার্কেন্টাইল ব্যাংকে পাবলিক রিলেশন অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সঙ্গীতশিল্পী ও পরিচালক রুমি রহমানের সঙ্গেই সংসারজীবনে আবদ্ধ ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ জীবনে একাকী জীবন কাটছিল তার।

মায়ের হাত ধরেই অভিনয়ে আসেন তাজিন আহমেদ। মা দিলারা জলির প্রোডাকশন হাউস ছিল। তিনি দীর্ঘদিন থিয়েটারেও অভিনয় করেছেন। ‘নাট্যজন’ থিয়েটারের হয়ে বেশকিছু নাটকে তিনি অভিনয় করেন। এরপর ‘আরণ্যক’ নাট্যদলের হয়ে ‘ময়ূর সিংহাসন’ নাটকে কাজ করেছিলেন। এতে তিনি বলাকা চরিত্রে অভিনয় করেন। তার সর্বশেষ অভিনীত মঞ্চনাটক এটি।

অভিনয়ের বাইরে লেখালেখির কাজেও যুক্ত ছিলেন তাজিন। লিখেছেন একাধিক নাটক। আর নিয়মিত মিডিয়ায় সময় দিতে না পারলেও উপস্থাপনায় ছিলেন বেশ দাপুটে। এনটিভিতে প্রচারিত ‘টিফিনের ফাঁকে’ অনুষ্ঠানে টানা ১০ বছর উপস্থাপনা করেন তিনি। একাত্তর টিভিতেও ‘একাত্তরের সকালে’ হাজির হয়েছেন তিনি।

তাজিন আহমেদ রাজনৈতিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)’-এ যোগ দিয়েছিলেন। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির বিভাগীয় সম্পাদক (সাংস্কৃতিক) পদে দায়িত্বপালন করেছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকায় একা বসবাস করে আসছেন। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তার মেকাপ আর্টিস্টই তাকে দেখাশোনা করতেন। মূলত বিটিভিযুগীয় অভিনেত্রী ছিলেন তাজিন আহমেদ। ওই সময়ে বিটিভির দর্শকদের কাছে তুমুল জনপ্রিয় একটি নাম হয়ে উঠেন তিনি।

ঘটনাপ্রবাহ : তাজিন আহমেদ আর নেই

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter