‘শতবার জন্মালেও বাংলাদেশের ঋণ শোধ করতে পারব না’ (ভিডিও)
jugantor
‘শতবার জন্মালেও বাংলাদেশের ঋণ শোধ করতে পারব না’ (ভিডিও)

  শামীম হোসেন  

২৮ জুন ২০২২, ১৫:২৬:৪৬  |  অনলাইন সংস্করণ

আকাশ সেন একাধারে সঙ্গীত পরিচালক, গায়ক এবং সুরকার। দুই বাংলায় সমান জনপ্রিয় তিনি। কাজের সুবাদে অনেকবার বাংলাদেশে এলেও এবার তার আসার মূল কারণ শপিং। বাংলাদেশে তৈরি পোশাক তার ভীষণ প্রিয়। যুগান্তরকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশকে ঘিরে আরও অনেক ভালো লাগার কথা জানিয়েছেন আকাশ সেন।

যুগান্তর : এবার বাংলাদেশে আসার মূল কারণ?
আকাশ সেন : নমস্কার, আসসালামু আলাইকুম। এবার মূলত শপিং করতে এসেছি। গত দুই বছর তেমন কেনাকাটা করা হয়নি। আমার জামা-কাপড়ের ভাণ্ডার প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। জামা-কাপড় ও জুতা কেনা আমার এক ধরনের নেশার মতো। এর ফাঁকে একটা মিউজিক ভিডিওর লিপটেকও দেব।

যুগান্তর : বাংলাদেশের মানুষের কোন দিকগুলো আপনার বেশি ভালো লাগে?
আকাশ : আমার জন্ম মুরশিদাবাদের বহরমপুরে। রাজশাহীর খুব কাছে। কর্মভূমি প্রথমে কলকাতা। এরপর বাংলাদেশ। একজন শিল্পী হিসেবে এটার আমার জন্য বড় প্রাপ্তি। এজন্য আমার দর্শক-শ্রোতা এবং শ্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ। বিমানবন্দরে নামার পর ভাই-বন্ধুদের ফোন, তাদের আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করে। বাংলাদেশের পোশাক আমার খুবই পছন্দ। আমি শুধু বাংলাদেশের তৈরি পোশাকই ব্যবহার করি। বাংলাদেশের এই দুটি বিষয় আমাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে। বাংলাদেশকে আমার সেকেন্ড হোম বলে ছোট করব না। হয়তো বাংলাদেশের সঙ্গে আমার পূর্বজন্মে কোনো সম্পর্ক ছিল। জন্ম ওপার বাংলায় হলেও বাংলাদেশও আমার কর্মভূমি। আমি একশবার জন্ম নিলেও বাংলাদেশের এই ঋণ শোধ করতে পারব না।

যুগান্তর : বাংলাদেশের প্রিয় খাবার?
আকাশ :
বাংলাদেশের খাবারের কথা মনে হলে জিভে জল চলে আসে। পদ্মার ইলিশ নিয়ে আমার একটি গানও আছে। আমি মনে করি, ইলিশ খেলে শুধু রূপ নয়, মনটাও ঝকঝকে হয়ে যায়। আমার প্রিয় মাছ ইলিশ ও রুই। আর বাংলাদেশের ইলিশ আমি সব সময়ই খাই।

যুগান্তর : ঢাকার জ্যাম নিয়ে ...
আকাশ :
আমি খুব অল্পদিনের জন্য বাংলাদেশে আসি। ঢাকায় আসার পর এটা ধরেই নিই যে, এক-দুই ঘণ্টা আমার জ্যামের মধ্যে কাটবে। কিন্তু এখানকার মানুষ, ভক্ত ও বন্ধুদের ভালোবাসা সেই জ্যামের বিড়ম্বনা ভুলিয়ে দেয়।

যুগান্তর : ঢাকাই সিনেমার প্রিয় নায়ক-নায়িকা?
আকাশ :
প্রিয় নায়ক ওয়ান অ্যান্ড ওয়ানলি শাকিব খান। নায়িকাদের মধ্যে প্রথমেই মাহিয়া মাহিকে রাখব। এরপর পরীমণি, বিদ্যা সিনহা মিম। আসলে এরা প্রত্যেকেই আমার খুব পছন্দের।

যুগান্তর : সংগীতে হাতেখড়ি?
আকাশ :
মাত্র ১৩ বছর বয়সে আমার মায়ের বিয়ে হয়। আমার জন্মের সময় উনার বয়স ছিল ১৯ বছর। গানে আসার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমার মায়ের। মায়ের ঋণ কখনোই শোধ করা যায় না। চার-পাঁচ বছর বয়সে মা-বাবা কষ্ট করে আমাকে একটা হারমনিয়াম কিনে দিয়েছেলেন। ঝর্না দাস নামের একজন দিদিমনির কাছে আমার প্রথম গানের তালিম শুরু। কলেজ জীবনে গিটার ধরি। তখন থেকেই আমার নিজের গান আসা শুরু হয়। আমার প্রথম অ্যালবাম ‘সুইটি’। ২০০৮ সালে প্রখ্যাত অভিনেতা শতাব্দী রায় ফ্রেন্ডস নামে একটি ছবিতে আমাকে প্রথম গান করার সুযোগ করে দেন। ২০২৩ সালে আমার পেশাদার সংগীতের ২০ বছর পূর্ণ হবে।

যুগান্তর : বাংলাদেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?
আকাশ :
বাংলাদেশে প্রথম গান করার সুযোগ করে দেন সুরকার শ্রদ্ধেয় নাজির মাহমুদ স্যার। ‘তোমার ইচ্ছেগুলো’ শিরোনামে গানটির গীতিকার শরিফ আল-দিন। তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। এখানকার যাদের সঙ্গে কাজ করেছি; তাদের সবাই আমার প্রিয়। রবিউল ইসলাম জীবনের সঙ্গে কাজ করেছি। এফএ প্রীতম অত্যন্ত মেধাবী একজন সুরকার। তার সুরে ‘রিভেঞ্জ’ ছবিতে গান করেছি। অমীত চ্যাটার্জির বেশ কয়েকটি গান গেয়েছি। জসীম উদ্দিন আকাশ আমার খুব পছন্দের একজন মানুষ। এই মুহূর্তে যাদের নাম মনে করতে পারছি না দয়া করে ক্ষমা করবেন।

যুগান্তর : কোন বিষয়গুলো আপনাকে সফলতা এনে দিয়েছে?
আকাশ :
মানুষ আমাকে যেভাবে দেখেন, আমি ঠিক সেরকমই। ছোট থেকেই একটা বিষয় অনুসরণ করে আসছি, আমি কখনো শেকড় ভুলে যাই না। ক্যারিয়ারের শুরুতে অনেক সংগ্রাম করেছি। পকেটে টাকা ছিল না। কাজের জন্য অপেক্ষায় থাকতাম। সেই দিনগুলো সব সময় মনে রাখি। কখনো ভুলে যেতেও চাই না। বরং সেই দিনগুলো আমাকে অনুপ্রাণীত করে। আমি মানুষের কাছাকাছি থাকতে চাই। নিজেকে কেউ বড় মনে করলে মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ কমে যায়। মানুষ ছাড়া আমরা বাঁচতে পারি না। করোনাভাইরাস সেটা প্রমাণ করে দিয়েছে। আমি মানুষ থেকে দূরে থাকতে চাই না।

যুগান্তর : বাংলাদেশের গণমাধ্যম নিয়ে ...
আকাশ :
বাংলাদেশের মিডিয়ার কাছে আমি চিরঋণী। এখানকার মিডিয়ার ভাই-বন্ধুরা আমাকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসেন। সব সময় আমার পাশে থাকবেন। কোনো ভুলত্রুটি হলে আমাকে বলবেন। আমি আমার ভুল শুধরে নিতে পারি। আপনারা বাংলা গান বা সিনেমাকে যেভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরেন, সেটা আমাদের ওখানে খুব মিস করি। আমার সেই আক্ষেপটা বাংলাদেশে এলে পূরণ হয়ে যায়। বাংলাদেশের গণমাধ্যমের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ।

যুগান্তর : বাংলাদেশে আপনার দর্শক-শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলতেন?
আকাশ :
বাংলাদেশের দর্শক-শ্রোতাদের ভালোবাসা আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করে। আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন এভাবেই আপনাদের আনন্দ দিতে পারি। আমার মনের ব্যথা-কষ্ট কখনোই সামনে আনি না। সব সময় আমার সৃষ্টিকে আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই। সবাইকে ধন্যবাদ।

‘শতবার জন্মালেও বাংলাদেশের ঋণ শোধ করতে পারব না’ (ভিডিও)

 শামীম হোসেন 
২৮ জুন ২০২২, ০৩:২৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আকাশ সেন একাধারে সঙ্গীত পরিচালক, গায়ক এবং সুরকার। দুই বাংলায় সমান জনপ্রিয় তিনি। কাজের সুবাদে অনেকবার বাংলাদেশে এলেও এবার তার আসার মূল কারণ শপিং। বাংলাদেশে তৈরি  পোশাক তার ভীষণ প্রিয়। যুগান্তরকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশকে ঘিরে আরও অনেক ভালো লাগার কথা জানিয়েছেন আকাশ সেন।

যুগান্তর : এবার বাংলাদেশে আসার মূল কারণ?
আকাশ সেন : নমস্কার, আসসালামু আলাইকুম। এবার মূলত শপিং করতে এসেছি। গত দুই বছর তেমন কেনাকাটা করা হয়নি। আমার জামা-কাপড়ের ভাণ্ডার প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। জামা-কাপড় ও জুতা কেনা আমার এক ধরনের নেশার মতো। এর ফাঁকে একটা মিউজিক ভিডিওর লিপটেকও দেব।

যুগান্তর : বাংলাদেশের মানুষের কোন দিকগুলো আপনার বেশি ভালো লাগে?
আকাশ : আমার জন্ম মুরশিদাবাদের বহরমপুরে। রাজশাহীর খুব কাছে। কর্মভূমি প্রথমে কলকাতা। এরপর বাংলাদেশ। একজন শিল্পী হিসেবে এটার আমার জন্য বড় প্রাপ্তি। এজন্য আমার দর্শক-শ্রোতা এবং শ্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ। বিমানবন্দরে নামার পর ভাই-বন্ধুদের ফোন, তাদের আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করে। বাংলাদেশের পোশাক আমার খুবই পছন্দ। আমি শুধু বাংলাদেশের তৈরি পোশাকই ব্যবহার করি। বাংলাদেশের এই দুটি বিষয় আমাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে। বাংলাদেশকে আমার সেকেন্ড হোম বলে ছোট করব না। হয়তো বাংলাদেশের সঙ্গে আমার পূর্বজন্মে কোনো সম্পর্ক ছিল। জন্ম ওপার বাংলায় হলেও বাংলাদেশও আমার কর্মভূমি। আমি একশবার জন্ম নিলেও বাংলাদেশের এই ঋণ শোধ করতে পারব না।

যুগান্তর : বাংলাদেশের প্রিয় খাবার?
আকাশ :
বাংলাদেশের খাবারের কথা মনে হলে জিভে জল চলে আসে। পদ্মার ইলিশ নিয়ে আমার একটি গানও আছে। আমি মনে করি, ইলিশ খেলে শুধু রূপ নয়, মনটাও ঝকঝকে হয়ে যায়। আমার প্রিয় মাছ ইলিশ ও রুই। আর বাংলাদেশের ইলিশ আমি সব সময়ই খাই।

যুগান্তর : ঢাকার জ্যাম নিয়ে ...
আকাশ :
আমি খুব অল্পদিনের জন্য বাংলাদেশে আসি। ঢাকায় আসার পর এটা ধরেই নিই যে, এক-দুই ঘণ্টা আমার জ্যামের মধ্যে কাটবে। কিন্তু এখানকার মানুষ, ভক্ত ও বন্ধুদের ভালোবাসা সেই জ্যামের বিড়ম্বনা ভুলিয়ে দেয়।

যুগান্তর : ঢাকাই সিনেমার প্রিয় নায়ক-নায়িকা?
আকাশ :
প্রিয় নায়ক ওয়ান অ্যান্ড ওয়ানলি শাকিব খান। নায়িকাদের মধ্যে প্রথমেই মাহিয়া মাহিকে রাখব। এরপর পরীমণি, বিদ্যা সিনহা মিম। আসলে এরা প্রত্যেকেই আমার খুব পছন্দের।

যুগান্তর : সংগীতে হাতেখড়ি?
আকাশ :
মাত্র ১৩ বছর বয়সে আমার মায়ের বিয়ে হয়। আমার জন্মের সময় উনার বয়স ছিল ১৯ বছর। গানে আসার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমার মায়ের। মায়ের ঋণ কখনোই শোধ করা যায় না। চার-পাঁচ বছর বয়সে মা-বাবা কষ্ট করে আমাকে একটা হারমনিয়াম কিনে দিয়েছেলেন। ঝর্না দাস নামের একজন দিদিমনির কাছে আমার প্রথম গানের তালিম শুরু। কলেজ জীবনে গিটার ধরি। তখন থেকেই আমার নিজের গান আসা শুরু হয়। আমার প্রথম অ্যালবাম ‘সুইটি’। ২০০৮ সালে প্রখ্যাত অভিনেতা শতাব্দী রায় ফ্রেন্ডস নামে একটি ছবিতে আমাকে প্রথম গান করার সুযোগ করে দেন। ২০২৩ সালে আমার পেশাদার সংগীতের ২০ বছর পূর্ণ হবে।

যুগান্তর : বাংলাদেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?
আকাশ :
বাংলাদেশে প্রথম গান করার সুযোগ করে দেন সুরকার শ্রদ্ধেয় নাজির মাহমুদ স্যার। ‘তোমার ইচ্ছেগুলো’ শিরোনামে গানটির গীতিকার শরিফ আল-দিন। তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। এখানকার যাদের সঙ্গে কাজ করেছি; তাদের সবাই আমার প্রিয়। রবিউল ইসলাম জীবনের সঙ্গে কাজ করেছি। এফএ প্রীতম অত্যন্ত মেধাবী একজন সুরকার। তার সুরে ‘রিভেঞ্জ’ ছবিতে গান করেছি। অমীত চ্যাটার্জির বেশ কয়েকটি গান গেয়েছি। জসীম উদ্দিন আকাশ আমার খুব পছন্দের একজন মানুষ। এই মুহূর্তে যাদের নাম মনে করতে পারছি না দয়া করে ক্ষমা করবেন।

যুগান্তর : কোন বিষয়গুলো আপনাকে সফলতা এনে দিয়েছে?
আকাশ :
মানুষ আমাকে যেভাবে দেখেন, আমি ঠিক সেরকমই। ছোট থেকেই একটা বিষয় অনুসরণ করে আসছি, আমি কখনো শেকড় ভুলে যাই না। ক্যারিয়ারের শুরুতে অনেক সংগ্রাম করেছি। পকেটে টাকা ছিল না। কাজের জন্য অপেক্ষায় থাকতাম। সেই দিনগুলো সব সময় মনে রাখি। কখনো ভুলে যেতেও চাই না। বরং সেই দিনগুলো আমাকে অনুপ্রাণীত করে। আমি মানুষের কাছাকাছি থাকতে চাই। নিজেকে কেউ বড় মনে করলে মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ কমে যায়। মানুষ ছাড়া আমরা বাঁচতে পারি না। করোনাভাইরাস সেটা প্রমাণ করে দিয়েছে। আমি মানুষ থেকে দূরে থাকতে চাই না।

যুগান্তর : বাংলাদেশের গণমাধ্যম নিয়ে ...
আকাশ :
বাংলাদেশের মিডিয়ার কাছে আমি চিরঋণী। এখানকার মিডিয়ার ভাই-বন্ধুরা আমাকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসেন। সব সময় আমার পাশে থাকবেন। কোনো ভুলত্রুটি হলে আমাকে বলবেন। আমি আমার ভুল শুধরে নিতে পারি। আপনারা বাংলা গান বা সিনেমাকে যেভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরেন, সেটা আমাদের ওখানে খুব মিস করি। আমার সেই আক্ষেপটা বাংলাদেশে এলে পূরণ হয়ে যায়। বাংলাদেশের গণমাধ্যমের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ।

যুগান্তর : বাংলাদেশে আপনার দর্শক-শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলতেন?
আকাশ :
বাংলাদেশের দর্শক-শ্রোতাদের ভালোবাসা আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করে। আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন এভাবেই আপনাদের আনন্দ দিতে পারি। আমার মনের ব্যথা-কষ্ট কখনোই সামনে আনি না। সব সময় আমার সৃষ্টিকে আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই। সবাইকে ধন্যবাদ।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন