তিন বছর পর আসল ‘খনা’
jugantor
তিন বছর পর আসল ‘খনা’

  বিনোদন প্রতিবেদন  

১৯ আগস্ট ২০২২, ০৫:১৯:১৬  |  অনলাইন সংস্করণ

তিন বছর পর মঞ্চে এসেছে বটতলা নাট্যদলের দর্শকপ্রিয় প্রযোজনা ‘খনা’। সামিনা লুৎফা নিত্রার রচনায় নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন আলী হায়দার। এক বিদুষী ‘খনা’ যার অন্য নাম লীলাবতী।
তার গল্পটা অনেক পুরনো, কিংবদন্তির ঘেরাটোপে বন্দি।

তবু যেটুকুর তল খুঁজে পাওয়া যায়, তাতে বোধহয় যে তিনি এক বিদুষী জ্যোতিষী, স্বামী মিহিরও একই বৃত্তিধারী। শ্বশুর যশস্বী জ্যোতিষী বরাহ মিহির। পুত্রজায়ার যশ, খ্যাতি ও বিদ্যার প্রভাব দর্শনে বরাহের হীনমন্যতা ও ঈর্ষা।

শ্বশুরের নির্দেশে লীলাবতীর জিহ্বা কর্তন ও তার ‘খনা’ হয়ে ওঠার গল্প পেরিয়েছে প্রজন্মের সীমানা। খনার বচনের মাঝে টিকে থাকা শতবছরের আগের জল, মাটি, ফসল আর মানুষের গন্ধমাখা জ্ঞান আর সত্যটুকু কি সত্যি লীলাবতীর? নাকি এ সত্য-তথ্য সবই এ ভূ-খণ্ডের বৃষ্টি, পলি, আর জল হাওয়ার মিশে থাকা যুগান্তরের সামষ্টিক জ্ঞানের সংকলন?

লীলাবতী শুধুই কি একজন নারী বলে তার পরিণতি নির্মম, নাকি তিনি নারী হয়ে মিশেছিলেন চাষাভুষোর সনে, সেই তার কাল? পুরুষতন্ত্র না শ্রেণি কাঠামো নাকি উভয় দাঁড়ায় লীলাবতীর বিপ্রতীপে? মিহির কিংবা প্রাকৃত লোকালয় কারোর পরোয়া না করা জীবন ত্যাগী নেশার ঘোর তাকে নিয়ে যায় দিগন্তের ওপার। খনার সত্য শুধু থেকে যায় কৃষকের মুখে।

তবু প্রশ্ন থাকে, খনার সত্যই কি একক সত্য? নাকি আজকে নির্ভুল যা কাল তা হতে পারে অসত্য? শুধু সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর যে মৃত্যুনেশা তার সে নেশা কি এক রোখা জেদ?

খনা নিজেই নিজেকে করেন সম্মুখীন প্রশ্নের। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মো. আলী হায়দার, চন্দন পাল, ইভান রিয়াজ, শারমিন ইতি, তৌফিক হাসান, শেউতি শাহগুফতা, মিজানুর রহমান, হামিদুল হিল্লোল, পঙ্কজ মজুমদার, বাকিরুল ইসলাম, হুমায়ুন আজম রেওয়াজ, মুহাম্মদ সাইদ, সুমিত তেওয়ারী, হাফিজা আক্তার ঝুমা, ও কাজী রোকসানা রুমা।

নাটকটি ১৮ আগস্ট রাজধানীর বেইলি রোডের মহিলা সমিতি মিলনায়তনে সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হয়।

তিন বছর পর আসল ‘খনা’

 বিনোদন প্রতিবেদন 
১৯ আগস্ট ২০২২, ০৫:১৯ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

তিন বছর পর মঞ্চে এসেছে বটতলা নাট্যদলের দর্শকপ্রিয় প্রযোজনা ‘খনা’। সামিনা লুৎফা নিত্রার রচনায় নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন আলী হায়দার। এক বিদুষী ‘খনা’ যার অন্য নাম লীলাবতী। 
তার গল্পটা অনেক পুরনো, কিংবদন্তির ঘেরাটোপে বন্দি। 

তবু যেটুকুর তল খুঁজে পাওয়া যায়, তাতে বোধহয় যে তিনি এক বিদুষী জ্যোতিষী, স্বামী মিহিরও একই বৃত্তিধারী। শ্বশুর যশস্বী জ্যোতিষী বরাহ মিহির। পুত্রজায়ার যশ, খ্যাতি ও বিদ্যার প্রভাব দর্শনে বরাহের হীনমন্যতা ও ঈর্ষা। 

শ্বশুরের নির্দেশে লীলাবতীর জিহ্বা কর্তন ও তার ‘খনা’ হয়ে ওঠার গল্প পেরিয়েছে প্রজন্মের সীমানা। খনার বচনের মাঝে টিকে থাকা শতবছরের আগের জল, মাটি, ফসল আর মানুষের গন্ধমাখা জ্ঞান আর সত্যটুকু কি সত্যি লীলাবতীর? নাকি এ সত্য-তথ্য সবই এ ভূ-খণ্ডের বৃষ্টি, পলি, আর জল হাওয়ার মিশে থাকা যুগান্তরের সামষ্টিক জ্ঞানের সংকলন?
 
লীলাবতী শুধুই কি একজন নারী বলে তার পরিণতি নির্মম, নাকি তিনি নারী হয়ে মিশেছিলেন চাষাভুষোর সনে, সেই তার কাল? পুরুষতন্ত্র না শ্রেণি কাঠামো নাকি উভয় দাঁড়ায় লীলাবতীর বিপ্রতীপে? মিহির কিংবা প্রাকৃত লোকালয় কারোর পরোয়া না করা জীবন ত্যাগী নেশার ঘোর তাকে নিয়ে যায় দিগন্তের ওপার। খনার সত্য শুধু থেকে যায় কৃষকের মুখে। 

তবু প্রশ্ন থাকে, খনার সত্যই কি একক সত্য? নাকি আজকে নির্ভুল যা কাল তা হতে পারে অসত্য? শুধু সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর যে মৃত্যুনেশা তার সে নেশা কি এক রোখা জেদ? 

খনা নিজেই নিজেকে করেন সম্মুখীন প্রশ্নের। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মো. আলী হায়দার, চন্দন পাল, ইভান রিয়াজ, শারমিন ইতি, তৌফিক হাসান, শেউতি শাহগুফতা, মিজানুর রহমান, হামিদুল হিল্লোল, পঙ্কজ মজুমদার, বাকিরুল ইসলাম, হুমায়ুন আজম রেওয়াজ, মুহাম্মদ সাইদ, সুমিত তেওয়ারী, হাফিজা আক্তার ঝুমা, ও কাজী রোকসানা রুমা। 

নাটকটি ১৮ আগস্ট রাজধানীর বেইলি রোডের মহিলা সমিতি মিলনায়তনে সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন