টালিউড অভিনেত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, হত্যা না আত্মহত্যা!

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:৫৫ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

টালিউড অভিনেত্রী পায়েল চক্রবর্তী। ছবি: সংগৃহীত

এয়ারভিউ মোড়ের চার্চ রোডের কাছের একটি হোটেলে মিলল জনপ্রিয় টালিউড অভিনেত্রী পায়েল চক্রবর্তীর ঝুলন্ত দেহ। আজ বৃহস্পতিবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির একটি হোটেলের রুম থেকে এ অভিনেত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।

জানা গেছে, বুধবার রাতে হোটেলে চেক-ইন করেছিলেন পায়েল। ছিলেন হোটেলের ১৩ নম্বর ঘরে। পরের দিন সকালে গ্যাংটক যাবেন বলে লিখেছিলেন হোটেলের রেজিস্টারে। সেই কথা জানিয়ে সকাল সাতটায় ডেকে দিতেও বলেছিলেন হোটেল কর্মীদেরও।

সেই মতো বৃহস্পতিবার সকাল সাতটা থেকেই তাঁকে ডাকাডাকি শুরু করেন হোটেলের কর্মীরা। কিন্তু সকাল এগারোটা পর্যন্ত তাঁর দেখা না মেলায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন হোটেলের কর্মচারীরা। বারবার দরজা ধাক্কা দেওয়ার পরও কোনও সাড়া না মেলায় খবর দেওয়া হয় শিলিগুড়ি থানায়।

পায়েলের এ অপমৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবারসহ টালিউডপাড়ায়। এটি হত্যা না আত্মহত্যা সে বিষয়ে জল্পনা চলছে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই।

জানা গেছে,  অভিনেত্রী পায়েলের বাড়ি কলকাতার যাদবপুরে। মঙ্গলবার শিলিগুড়ি এসেছিলেন তিনি। কথা ছিল বুধবারই অভিনয়ের কাজে সিকিম যাওয়ার কথা।

তিনি বেশ কয়েকটি বাংলা ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন। যার মধ্যে জনপ্রিয় জড়োয়ার ঝুমকো। অভিনেত্রী পায়েল চক্রবর্তীকে দেখা গিয়েছিল ‘জয়কালী কলকাত্তাওয়ালী’, ‘গোয়েন্দা গিন্নি’ ধারাবাহিকের এক গল্পেও।  

পায়েলের মৃত দেহ। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আত্মহত্যা করেছেন এই টলি অভিনেত্রী। তবে কী কারণে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছে না শিলিগুড়ির পুলিশ।

তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, মানসিক অবসাদ থেকেই আত্মহত্যা করেছেন পায়েল। পায়েলের এমন রহস্যজনক মৃত্যুর ব্যাপারে তার পরিবারের কেউ এখনও কোনো মন্তব্য করেননি।

এদিকে আনন্দবাজার পত্রিকা জানাচ্ছে, গভীর রাত পর্যন্ত ফোনে চিৎকার করে কথা বলতে শোনা যায় পায়েলকে। এতটাই জোরে কথা বলছিলেন, যে হোটেল রুমের বাইরেও সেই আওয়াজ এসে পৌঁছচ্ছিল। তাঁর ফোনটি এখনও পাওয়া যায়নি। 

প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যার ঘটনা, কারণ ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। খতিয়ে দেখা হচ্ছে তার ফোনের কল ডিটেলস। কথা বলা হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও। তবে মৃত্যুর অন্য কোনও কারণ আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পরিবার সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, অভিনেত্রী দীর্ঘদিন ধরেই নাকি মানসিক চাপে ভুগছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে টলিউডে কাজ করা সত্ত্বেও পার্শ্ব চরিত্রেই দেখা যেত থাকে। এই নিয়ে মানসিক চাপও ছিল প্রবল।

অন্যদিকে স্বামী সুমিত চক্রবর্তীর সঙ্গে দু’বছর আগে বিবাহ-বিচ্ছেদও হয় এই অভিনেত্রীর। একটি ছেলেও রয়েছে অভিনেত্রীর। ঘটনার খবর পেয়ে শিলিগুড়ি পৌঁছেছেন পায়েল চক্রবর্তীর বাড়ির লোকজন। 

পায়েলের জীবনের আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে একটি সাক্ষাৎকার-