হাসান মতিউর রহমানের আলটিমেটাম
jugantor
হাসান মতিউর রহমানের আলটিমেটাম

  বিনোদন প্রতিবেদন  

০২ আগস্ট ২০২১, ০১:২১:২৮  |  অনলাইন সংস্করণ

হাসান মতিউর রহমানের আলটিমেটাম

গানের জগতের বিভিন্ন বিষয় প্রায়ই আলোচনায় আসে। বিশেষ অনিয়মগুলোই আলোচিত হয় বেশি। গত কয়েক বছর ধরে ইউটিউবকেন্দ্রিক গানের রমরমা ব্যবসা চলছে। এর জন্য অসংখ্য ইউটিউব চ্যানেলও সক্রিয় আছে। একজনের গান আরেকজন অনুমতি না নিয়েই ইউটিউবে আপলোড করে ব্যবসা করছে। এ নিয়ে ভুক্তভোগীসহ অনেকেই সোচ্চার হয়েছেন। কিন্তু সেই প্রবণতা এখনো বন্ধ হয়নি। আর এ অনিয়ম নিয়ে এবার আলিটিমেটাম দিয়েছেন জনপ্রিয় গীতিকার হাসান মতিউর রহমান।

তিনি এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন- কথা খুব ছোট কিন্তু কষ্ট অনেক বড়। দিনে দিনে জমতে জমতে বিরাট আকার ধারণ করেছে। এখন বলতেই হবে। না বললে অস্তিত্ব থাকবে না। বিষয়টি এই আমাদের সরলমনা শিল্পীদের সুযোগ নিয়ে কিছু কিছু চ্যানেল তাদের দিয়ে লাইভ অনুষ্ঠানের নামে জনপ্রিয় গানগুলো করিয়ে তাদের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করে দিব্বি ব্যবসা করে খাচ্ছে। এর নেপথ্যে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের কতিপয় অসৎ ব্যক্তি। এটা যে অন্যায় এবং অবৈধ তারা তা জেনেশুনেই করছে। ড্যাম কেয়ার ভাব দেখাচ্ছে। এদের লজ্জাবোধও নেই।

অনেক গায়ক-গায়িকাদের আমি এ অন্যায় কাজটা কেন করছেন জিজ্ঞেস করেছি। উনারা বলেছেন তারা এর কিছুই জানেন না। চ্যানেলগুলো লাইভের নামে গান করে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে ইউটিউবে আপলোড করে। এরা শিল্পীদের থেকেও অনুমতি নেয় না; যা হোক আমি উকিল নোটিশ না পাঠিয়ে প্রথমে সবাইকে অনুরোধ করছি আমার লেখা ও সুর করা গান যারা আমার লিখিত অনুমতি ছাড়া এ পর্যন্ত ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্লাটফর্মে তুলেছেন দয়া করে আগামী ৮ আগস্টের মধ্যে ডিলিট করে ফেলবেন। পরে মামলা হলে ঝামেলায় পড়বেন। ক্ষতিপূরণসহ আদায় করা হবে। আমি চাই না এ ব্যাপারে মামলা-মোকদ্দমা হোক। আপনি এবং আমি আদালতে দৌড়াদৌড়ি করি। এই বাটপাড়ি বেশিদিন চলতে পারে না। চলতে দেয়া হবে না। কেউ যদি ধৃষ্টতা দেখান তিনি কিন্তু উপযুক্ত জবাব পাবেন। একবার যদি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করি তাহলে হাজারবার পায়ে ধরলেও কিন্তু রেহাই পাওয়া যাবে না। আইন কিন্তু কঠিন। ঠেলায় পড়ে এখন চ্যানেল থেকে শিল্পীদের বলে দেয় আপনি শাহ আবদুল করিমের গান গাইয়েন না। কারণ ওনার ছেলে ধরেছে। আর শিল্পী ভাই ও বোনেরা, গান গাওয়ার আগে জেনে নিন এই গান তারা অন্য কোথাও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবে কিনা। যদি করে আমার গান আমার অনুমতি না নিয়ে আর গাইবেন না। গাইলে আমি আপনার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব। আরেকটি কথা, ভালো করে না জেনে একজনের গান আরেকজনের নামে চালিয়ে দেওয়াটিও গুরুতর অন্যায়। এ অধিকার আপনাদের নেই। শিওর না হলে গাইবেন না। ভুল বার্তা গেলে বিভ্রান্ত হতে হয়। গীতিকবিরা এখন আর অসহায় প্রাণী নয়। অনেক শক্তিশালী। মিডিয়া থেকে সব অনাচার দূর করতেই হবে। তা যেভাবেই হোক। সবাই ভালো থাকুন। সুন্দর ও সুস্থ থাকুন।

অন্যদিকে সব সময়ের মতো নতুন গান লেখার কাজে বেশ ব্যস্ততা যাচ্ছে এই গীতিকবির। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকাশ পাচ্ছে তার মমতাজের কণ্ঠে তার লেখা দুটি নতুন গান। ‘তুই কি আমার পর বন্ধু’ শিরোনামের গানটি সাউন্ডটেক থেকে এবং ‘তুমি যেদিন লাশ হবে’ গানটি ধ্রুব মিউজিক স্টেশন থেকে প্রকাশ হবে। দুটি গানেরই সুর করেছেন নাজির মাহমুদ। এছাড়া আরও তিনটি বড় প্রজেক্ট নিয়েও ব্যস্ততা আছে এই গীতিকবির। গানের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও সক্রিয় তিনি। আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন হাসান মতিউর রহমান।

হাসান মতিউর রহমানের আলটিমেটাম

 বিনোদন প্রতিবেদন 
০২ আগস্ট ২০২১, ০১:২১ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
হাসান মতিউর রহমানের আলটিমেটাম
হাসান মতিউর রহমান। ফাইল ছবি

গানের জগতের বিভিন্ন বিষয় প্রায়ই আলোচনায় আসে। বিশেষ অনিয়মগুলোই আলোচিত হয় বেশি। গত কয়েক বছর ধরে ইউটিউবকেন্দ্রিক গানের রমরমা ব্যবসা চলছে। এর জন্য অসংখ্য ইউটিউব চ্যানেলও সক্রিয় আছে। একজনের গান আরেকজন অনুমতি না নিয়েই ইউটিউবে আপলোড করে ব্যবসা করছে। এ নিয়ে ভুক্তভোগীসহ অনেকেই সোচ্চার হয়েছেন। কিন্তু সেই প্রবণতা এখনো বন্ধ হয়নি। আর এ অনিয়ম নিয়ে এবার আলিটিমেটাম দিয়েছেন জনপ্রিয় গীতিকার হাসান মতিউর রহমান। 

তিনি এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন- কথা খুব ছোট কিন্তু কষ্ট অনেক বড়। দিনে দিনে জমতে জমতে বিরাট আকার ধারণ করেছে। এখন বলতেই হবে। না বললে অস্তিত্ব থাকবে না। বিষয়টি এই আমাদের সরলমনা শিল্পীদের সুযোগ  নিয়ে কিছু কিছু চ্যানেল তাদের দিয়ে লাইভ অনুষ্ঠানের নামে জনপ্রিয় গানগুলো করিয়ে তাদের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করে দিব্বি ব্যবসা করে খাচ্ছে। এর নেপথ্যে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের কতিপয় অসৎ ব্যক্তি। এটা যে অন্যায় এবং অবৈধ তারা তা জেনেশুনেই করছে। ড্যাম কেয়ার ভাব দেখাচ্ছে।  এদের লজ্জাবোধও নেই।

অনেক গায়ক-গায়িকাদের আমি এ অন্যায় কাজটা কেন করছেন জিজ্ঞেস করেছি। উনারা বলেছেন তারা এর কিছুই জানেন না। চ্যানেলগুলো লাইভের নামে গান করে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে ইউটিউবে আপলোড করে। এরা শিল্পীদের থেকেও অনুমতি নেয় না; যা হোক আমি উকিল নোটিশ না পাঠিয়ে প্রথমে সবাইকে অনুরোধ করছি আমার লেখা ও সুর করা গান যারা আমার লিখিত অনুমতি ছাড়া এ পর্যন্ত ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্লাটফর্মে তুলেছেন দয়া করে আগামী ৮ আগস্টের মধ্যে ডিলিট করে ফেলবেন। পরে মামলা হলে ঝামেলায় পড়বেন। ক্ষতিপূরণসহ আদায় করা হবে। আমি চাই না এ ব্যাপারে  মামলা-মোকদ্দমা হোক। আপনি এবং আমি আদালতে দৌড়াদৌড়ি করি। এই বাটপাড়ি বেশিদিন চলতে পারে না। চলতে দেয়া হবে না। কেউ যদি ধৃষ্টতা  দেখান  তিনি কিন্তু উপযুক্ত জবাব পাবেন। একবার যদি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করি তাহলে হাজারবার পায়ে ধরলেও কিন্তু রেহাই পাওয়া যাবে না। আইন কিন্তু কঠিন। ঠেলায় পড়ে এখন চ্যানেল থেকে শিল্পীদের বলে দেয় আপনি শাহ আবদুল করিমের গান গাইয়েন না। কারণ ওনার ছেলে ধরেছে। আর শিল্পী ভাই ও বোনেরা, গান গাওয়ার আগে জেনে নিন এই গান তারা অন্য কোথাও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবে কিনা। যদি করে আমার গান আমার অনুমতি না নিয়ে আর গাইবেন না। গাইলে আমি আপনার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব। আরেকটি কথা, ভালো করে না জেনে একজনের গান আরেকজনের নামে চালিয়ে দেওয়াটিও গুরুতর অন্যায়। এ অধিকার আপনাদের নেই। শিওর না হলে গাইবেন না। ভুল বার্তা গেলে বিভ্রান্ত হতে হয়। গীতিকবিরা এখন আর অসহায় প্রাণী নয়। অনেক শক্তিশালী। মিডিয়া থেকে সব অনাচার দূর করতেই হবে। তা যেভাবেই হোক। সবাই ভালো থাকুন। সুন্দর ও সুস্থ থাকুন। 

অন্যদিকে সব সময়ের মতো নতুন গান লেখার কাজে বেশ ব্যস্ততা যাচ্ছে এই গীতিকবির। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকাশ পাচ্ছে তার মমতাজের কণ্ঠে তার লেখা দুটি নতুন গান। ‘তুই কি আমার পর বন্ধু’ শিরোনামের গানটি সাউন্ডটেক থেকে এবং ‘তুমি যেদিন লাশ হবে’ গানটি ধ্রুব মিউজিক স্টেশন থেকে প্রকাশ হবে। দুটি গানেরই সুর করেছেন নাজির মাহমুদ। এছাড়া আরও তিনটি বড় প্রজেক্ট নিয়েও ব্যস্ততা আছে এই গীতিকবির। গানের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও সক্রিয় তিনি। আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন হাসান মতিউর রহমান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন