ময়নার মা-বাবার একটি কল্পিত সংলাপ

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০১৮, ১৬:১৭ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

ময়নার বাপ শুনছ?
ময়নার বাপ: হ্যা বলো ময়নার মা।
- আমি না দুই দিন থেকে ভাত খেতে পারছি না।
ময়নার বাপ: ভাত খেতে না পারা কোনো সমস্যা না। সোমালিয়ার ৩০% মানুষ ভাত খেতে পারে না। তারা ভাতই পায় না। তোমার একজনের না খেতে পারা কোনো সমস্যাই না।
- কেন ভাত খেতে পারছি না জিজ্ঞেস করবে তো!
ময়নার বাপ: কেন গো?
- কারণ আমার খুব মাথা ঘোরাচ্ছে। বমি বমি লাগছে।
ময়নার বাপ: মাথা ঘোরানো এবং বমি বমি ভাব খুব বড় কোনো সমস্যা না। আমেরিকার নিউইয়র্কের মাউন্ডএভার হসপিটালে প্রতি ঘন্টায় ১৬ জন রোগী মাথা ঘোরানো এবং বমি ভাব নিয়ে ভর্তি হয়। তোমার একজনের মাথা ঘোরানো, বমি বমি ভাব কোনো ব্যাপার না।
- মাথা ঘোরানো এবং বমি বমি ভাব কেন হচ্ছে জিজ্ঞেস করবে না?
ময়নার বাপ: কেন হচ্ছে?
- কারণ আমি মা হতে চলেছি।
ময়নার বাপ: আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে। এতো সুখবর।
- তোমার আনন্দ হচ্ছে?
ময়নার বাপ: তো হবে না কেন? বাচ্চা হওয়া আনন্দের ব্যাপার।
- তুমি জানো তুমি অক্ষম পুরুষ। ডাক্তার বলে দিয়েছে তুমি কখনো বাবা হতে পারবে না। তোমার বউয়ের পেটে বাচ্চা এসেছে এটা জেনেও তোমার হাসি আসে কীভাবে? আনন্দ করো কীভাবে?
ময়নার বাপ: হাসব না কেন? এটা কোনো সমস্যাই না। ইউরোপের একটা দেশ আছে নরওয়ে। নরওয়ের ২৫% মানুষ জানেই না তাদের বউয়ের পেটের বাচ্চাটা কই থেকে আসল। এটা কোনো ব্যাপারই না এখন। অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা কম আছি এ ব্যাপারে।
- বাচ্চাটা কীভাবে আসল জানতে চাইবে না?
ময়নার বাপ: কীভাবে আসল?
- আমি ধর্ষিত হয়েছি কিছুদিন আগে। জানইতো। তুমিতো কিছুই করতে পারলা না এ ঘটনায়। শুধুই হাসছ।
ময়নার বাপ: হাহাহা। এটা কোনো সমস্যাই না। আমেরিকায় প্রতি ১৭ সেকেন্ডে একজন নারী ধর্ষিত হয়। ইংল্যান্ডে হয় প্রতি ১৭ মিনিটে একজন। তোমার একজনের ধর্ষিত হওয়া কোনো সমস্যাই না। এ দেশে এখনো অন্যান্য দেশের চেয়ে কম ঘটে এটা।
- তোমার বউ ধর্ষিত হয়েছে জেনেও তুমি হাসছ? ওরা আমাকে কেন ধর্ষণ করেছে জানতে চাইলে না যে?
ময়নার বাপ: কেন করেছে?
- কারণ তারা জানে ধর্ষণ করলেও কোনো বিচার হবে না। ধর্ষিতা বিচার পায়না এ দেশে।
ময়নার বাপ: হাহাহা। এটা কোনো সমস্যাই না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান চীনে যে গণধর্ষণ করেছিল তার বিচার কোনোদিনও হয়নি। তোমার একজনের ধর্ষণের বিচার হওয়া খুব জরুরি না। আমেরিকাতেও ধর্ষক ৩ মাসের মধ্যেই ছাড়া পেয়ে যায়। এ দেশে এখনো এটা কম হয়।
- তাও হাসি আসতেছে? ধর্ষণ শেষ করে ওরা কী বলেছে জানো?
ময়নার বাপ: কী বলেছে?
- ওরা বলেছে তোমার বাবাও নাকি তোমার মতোই অক্ষম ছিল। তোমার জন্ম হয়েছে তাদের বাপের মাধ্যমে। তোমার মাকেও এক সময় ধর্ষণ করা হয়েছিল। তুমি জারজ, বাস্টার্ড।
ময়নার বাপ: হাহাহা। এটাকে তো সমস্যাই বলা যায় না। ফিনল্যান্ডের ১৮%, অষ্ট্রিয়ার ২১%, সুইডেনের ১২%, রুমানিয়ার ১১%, নেদারল্যান্ডের ১৯% মানুষ জানেই না তাদের বাবা কে। পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী দেশ নরওয়ের ২৭% মানুষ জারজ। হাহাহাহাহা। আমার একজনের বাস্টার্ড হওয়া কোনো ব্যাপারই না। হাহাহাহা।
- উফ! আচ্ছা বাদ দাও। জানো! পাশের বাড়ির ফুটফুটে মেয়েটা রোড এক্সিডেন্টে মারা গেছে। কী মর্মান্তিক!
ময়নার বাপ: হাহাহা, এটা তেমন কোনো ঘটনাই নয়। পাশের দেশ ভারতে প্রতি মিনিটে ১৬ জন করে এমন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়।

অতপর ময়নার বাপের সঙ্গে ময়নার মাও হাসতে লাগল।

(সংগৃহীত)