প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ঘেরাওয়ের ঘোষণা
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতির অভিযোগে ঢাকায় অবস্থিত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল ও পুনরায় প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে রোববার (১১ জানুয়ারি) এ কর্মসূচি পালন করবেন তারা।
এর আগে, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা বাদে) একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি। পরীক্ষার কয়েকদিন আগে থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আর্থিক লেনদেন ও জালিয়াত চক্রের মাধ্যমে ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষা দিয়েছেন অসংখ্য চাকরিপ্রার্থী। হাতেনাতে ধরাও পড়েছেন শতাধিক পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার দিন লিখিত পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে ঠাকুরগাঁওয়ে ছয়জনকে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদের মধ্যে পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং একজনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে, বরগুনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার হলে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করার অভিযোগে যুবলীগ নেতার স্ত্রীসহ দুই পরীক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন, বরগুনা সরকারি কলেজ কেন্দ্রের ৩০২ নম্বর কক্ষের পরীক্ষার্থী, যুবলীগ নেতার স্ত্রী ইয়ামনি এবং আইডিয়াল কলেজ কেন্দ্রের ১০৭ নম্বর কক্ষের পরীক্ষার্থী রাসেল মিয়া।
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের অভিযোগে জামালপুরে চার পরীক্ষার্থীকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেলান্দহ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল আরা ও জামালপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হায়দার। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার টিকাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আমিনুর রহমান জাকির, ইসলামপুর উপজেলার সুবেরচর এলাকার বাসিন্দা আনিসুর রহমান, মাদারগঞ্জ উপজেলার তারতাপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাবিনা আক্তার ও সালমা আক্তার।
এছাড়াও সারাদেশে গাইবান্ধায় ৫৩ জন, নওগাঁয় ১৮, দিনাজপুরে ১৮, কুড়িগ্রামে ১৬ ও রংপুরে দুইজনসহ শতাধিক পরীক্ষার্থী জালিয়াতি করে ধরা পড়েছেন।
জালিয়াতি চক্র সক্রিয় থাকলেও পরীক্ষা সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের পরিচালক এ কে মোহম্মদ সামছুল আহসান গনমাধ্যমকে বলেন, কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এবার শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা হয়েছে। অতীতের যে কোনো বারের পরীক্ষার চেয়ে এবার পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। শিগগির এ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে।
প্রথম ধাপে (রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগ) ১০ হাজার ২১৯টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি। দ্বিতীয় ধাপে (ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ) ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১টি। তবে ঠিক কতজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন এবং কত পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত করে জানায়নি অধিদপ্তর।

