প্রিয় ক্যাম্পাসে স্মৃতিকাতর মিজানুর রহমান আজহারী
প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪০ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মিশরের কায়রোতে প্রবাসী বাংলাদেশি ছাত্রদের মাঝে এক স্মরণীয় ও আবেগঘন বিকেল উপহার দিয়েছেন প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ড. মিজানুর রহমান আজহারী।
তার মিশর আগমন উপলক্ষে ৩ ফেব্রুয়ারি কায়রোর ওয়াটার ক্লাবে বাংলাদেশি ছাত্রদের সংগঠন ইত্তেহাদ-এর উদ্যোগে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে। তিলাওয়াত পরিবেশন করেন মাওলানা শোয়াইব আল-আজহারী। এরপর অতিথিকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন ইত্তেহাদের সভাপতি নোমান আজহারী।
তিনি বলেন, ড. মিজানুর রহমান আজহারি ছাত্রদের কাছে কেবল একজন বক্তা নন, তিনি অনুপ্রেরণা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের এক জীবন্ত উদাহরণ।
স্বাগত বক্তব্যের পর ইত্তেহাদের পক্ষ থেকে ড. মিজানুর রহমান আজহারীর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।
এরপর মূল আলোচনায় ড. মিজানুর রহমান আজহারী তার মিশর জীবনের স্মৃতিচারণ করে আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, তিনি ২০০৮ সালে মিশরে আগমন করেন এবং আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস ‘বুঊস’-এ অবস্থান করতেন।
তিনি বলেন, আল-আজহারের হোস্টেল দুনিয়ার বুকে যেন এক টুকরো জান্নাত। ছাত্ররা ঘুম থেকে ওঠার আগেই সকালের নাস্তা প্রস্তুত থাকে, দুপুরে খাবারের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না, আর মাস শেষ হওয়ার আগেই মিনহা—স্কলারশিপের ভাতা অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যায়।
তিনি আরও বলেন, আজও তিনি তার মিশরের ছাত্রজীবন গভীরভাবে মিস করেন। কায়রো আন্তর্জাতিক বইমেলায় নিয়মিত অংশগ্রহণ ও বই সংগ্রহের স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, এখন ইচ্ছা থাকলেও সেই সুযোগ আর আগের মতো হয় না।
নিজের শিক্ষা জীবনের শিকড়ের কথা স্মরণ করে ড. আজহারী বলেন, দারুননাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রতি তার ভালোবাসা অনন্য। মাদ্রাসার অধ্যক্ষের সঙ্গে এক স্মৃতিময় আলাপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তিনি আমাকে বলেছিলেন—তুমি তো আমাকে বিপদে ফেলেছ, এখন সবাই আজহারী হতে চায়।”
বর্তমান প্রেক্ষাপটে মিশরে বাংলাদেশি ছাত্রদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এক সময় যেখানে আজহারী ছাত্রের সংখ্যা ছিল মাত্র তিনশত, বর্তমানে তা প্রায় পাঁচ হাজারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি স্কলারশিপ ব্যবস্থার উন্নতির কথা উল্লেখ করে বলেন, আগে যেখানে ভাতা ছিল ১০০ মিশরীয় পাউন্ড, এখন তা বেড়ে ১৫০০ পাউন্ডে উন্নীত হয়েছে।
ছাত্রদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি বলেন, “প্রিয় ছাত্র ভাইয়েরা, সময় ও সুযোগকে কাজে লাগাও। নিজেকে গড়ে তোলো। বর্তমান সময়ে দেশে দাওয়াতের ময়দান অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।”
একজন শিক্ষার্থীর সফলতার জন্য তিনটি মৌলিক গুণ অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন—বিনয়, সফর ও সবর। বিনয় মানুষকে উচ্চতায় পৌঁছায়, সফর চিন্তার পরিধি প্রসারিত করে, আর সবর লক্ষ্য অর্জনের শক্তি জোগায়।
আলোচনার শেষাংশে ড. মিজানুর রহমান আজহারী উপস্থিত সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন এবং আল্লাহর কাছে এই দাওয়াতি পথচলাকে কবুল করার আবেদন জানান।
অনুষ্ঠানটি শেষ হয় সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ, পারস্পরিক আলাপ ও আন্তরিক প্রার্থনার মধ্য দিয়ে। পুরো আয়োজনজুড়ে ছাত্রদের চোখে-মুখে ছিল প্রেরণা, গর্ব ও ভবিষ্যতের দায়িত্ববোধের দীপ্তি।
আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নাজাত কাফেলার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ
মিশর সফরকালীন অবস্থায় প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ এবং দারুননাজাত সিদ্দিকী কামিল মাদ্রাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থী ড. মিজানুর রহমান আজহারী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নাজাত কাফেলার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
৩ ফেব্রুয়ারি মিসরের রাজধানী কায়রোর আতলাস ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে নাজাত কাফেলা ফরেইন শাখার সম্মানিত আহ্বায়ক ড. মুহাম্মাদ শিহাব উদ্দিন আজহারী দারুননাজাত সিদ্দিকী কামিল মাদ্রাসার মুহতারাম অধ্যক্ষ হযরত মাওলানা আ.খ.ম. আবুবকর সিদ্দিক এবং নাজাত কাফেলা ফরেইন শাখার সম্মানিত সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ মাহবুবুর রহমান রাজাপুরী হুজুরের পক্ষ থেকে ড. আজহারীর নিকট শুভেচ্ছা ও সালাম পৌঁছে দেন।
এ সময় ড. মিজানুর রহমান আজহারী মুহতারাম অধ্যক্ষ মহোদয় ও রাজাপুরী হুজুরের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আনন্দঘন কণ্ঠে বলেন, “আজ থেকে আমি নিজেকে নাজাত কাফেলা ফরেইন শাখার একজন অংশ মনে করছি।” তার এই বক্তব্য উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ও অনুপ্রেরণার আবহ সৃষ্টি করে।
সাক্ষাৎকালে ড. আজহারী বলেন, আগামীকাল সকালে আমাকে সফরে থাকতে হবে, নতুবা আমি আরও দীর্ঘ সময় ধরে দারুননাজাতের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে কথা বলতাম। তার এই আন্তরিক বক্তব্য শিক্ষার্থীদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।
ড. আজহারীর সঙ্গে সরাসরি আলাপচারিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তার দাওয়াহ-দর্শন, শিক্ষাবোধ এবং ইসলামী মূল্যবোধ সম্পর্কে গভীরভাবে অবগত হওয়ার সুযোগ পান।
শিক্ষার্থীরা জানান, এই সাক্ষাৎ তাদের শিক্ষাজীবন ও নৈতিক বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং ইসলামী জ্ঞানচর্চায় আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।
লেখক: শিক্ষার্থী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো, মিশর

