Logo
Logo
×
   

পরবাস

তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ফ্রান্স, দাবানলে পুড়ছে বনাঞ্চল

Icon

হাসান ইলিয়াছ তানিম, প্যারিস (ফ্রান্স) থেকে

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১১:১৮ পিএম

তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ফ্রান্স, দাবানলে পুড়ছে বনাঞ্চল

চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৭ হাজারের বেশি দাবানলে ৮ হাজার ৭০০ হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে।

রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ফ্রান্সে পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। দীর্ঘস্থায়ী খরা, অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা এবং প্রবল বাতাসের কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে একের পর এক দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিও চাপের মুখে রয়েছে। ফরাসি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে দেশটিতে ২ হাজার ২৫টি অতিরিক্ত মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চূড়ান্ত বিশ্লেষণের পর এই সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।

ফরাসি সরকার জানিয়েছে, চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৭ হাজারের বেশি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৮ হাজার ৭০০ হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে। সাধারণত জুলাইয়ের শেষ দিকে দাবানলের মৌসুম তীব্র হলেও এবার তা আগেই শুরু হয়ে দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বসন্তের পর বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় বনাঞ্চল অত্যন্ত শুষ্ক হয়ে পড়েছে, যা আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলঘেঁষা অঞ্চলগুলো। দক্ষিণ ফ্রান্সের আউদ, পিরেনে-ওরিয়ঁতাল, বুশ-দ্যু-রোন এবং আশপাশের এলাকায় একাধিক বড় অগ্নিকাণ্ড এখনো সক্রিয় রয়েছে। শুধু আউদ এলাকাতেই প্রায় ৯০০ হেক্টরের বেশি বনভূমি ইতোমধ্যে পুড়ে গেছে। কিছু এলাকায় ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে কাজ করছেন প্রায় ২ হাজার দমকলকর্মী। তাদের সঙ্গে রয়েছে অগ্নিনির্বাপক বিমান, কানাডেয়ার উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টার। আগুনের ঝুঁকি থাকা এলাকা থেকে হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি জায়গায় আবাসিক এলাকা, গুদামঘর, শিল্পাঞ্চল ও পর্যটন ক্যাম্পসাইট আগুনের হুমকির মুখে পড়েছে। কিছু অঞ্চলে পরিবহণ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় সাময়িকভাবে সড়ক ও বিমান চলাচল সীমিত করা হয়েছে।

এদিকে তাপপ্রবাহের কারণে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে। হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা, শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত মৃত্যুর বড় অংশই ৪৫ বছরের বেশি বয়সিদের মধ্যে। আর ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্কদের ঝুঁকি সর্বোচ্চ। একই সময়ে বাড়িতে মৃত্যুর হার আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ৯১ শতাংশ বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের তথ্য অনুযায়ী, জুন ও জুলাইয়ের এই সময়ে ফ্রান্সের অনেক অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। রাতেও অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রির নিচে নামছে না। ফলে ‘ট্রপিক্যাল নাইট’ পরিস্থিতি তৈরি হয়ে মানুষের শরীরে দীর্ঘস্থায়ী তাপচাপ সৃষ্টি করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে তাপপ্রবাহ এখন আরও ঘন ঘন, দীর্ঘস্থায়ী এবং তীব্র হয়ে উঠছে। এর ফলে দাবানলের ঝুঁকিও বাড়ছে। একই সঙ্গে কৃষি, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ খাতে এর প্রভাব আরও গভীর হচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফরাসি সরকার জরুরি বৈঠক করে বনাঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রেখেছে। নাগরিকদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং দাবানলপ্রবণ এলাকায় আগুন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর সতর্ক করেছে, আগামী দিনগুলোতেও তাপমাত্রা উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে। ফলে দাবানলের ঝুঁকি অব্যাহত থাকবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .