হাইকমিশনের সহযোগিতায় অবশেষে দেশে ফিরছেন মর্তুজা

  আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া থেকে ২০ নভেম্বর ২০১৮, ২১:০৮ | অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশি হাইকমিশন ও প্রবাসী দানশীল ব্যক্তিদের সহযোগিতায় দেশে ফিরছেন মর্তুজা আলী
বাংলাদেশি হাইকমিশন ও প্রবাসী দানশীল ব্যক্তিদের সহযোগিতায় দেশে ফিরছেন মর্তুজা আলী।ছবি: যুগান্তর

অবশেষে মালয়েশিয়া থেকে মতিয়ার দেশে ফিরছেন মর্তুজা আলী ওরফে মতিয়ার। মালয়েশিয়ার বাংলাদেশি হাইকমিশন ও প্রবাসী দানশীল ব্যক্তিদের সহযোগিতায় তাকে দেশে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মর্তুজা আলী ওরফে মতিয়ার পরিবারের সুখের আশায় ধারদেনা করে ধাপে ধাপে ৬ লাখ টাকা দালালের হাতে তুলে দিয়ে সাগর পাড়ি দিয়ে স্বপ্নের দেশ মালয়েশিয়ায় যান।

সেখানে যাওয়ার পর দালাল তাকে বন্দি করে রাখে। পরিবারের কাছে টাকা দাবি করে। টাকা দিতে না পারায় পরিবারের সঙ্গে মতিয়ারের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরিবার ধরেই নিয়েছিল দালাল তাকে হত্যা করেছে। কিন্তু না নিরুপায় মতিয়ারকে অত্যাচার করে পঙ্গু করে রাস্তায় ফেলে দালাল। অতঃপর তাকে পাওয়া যায় ক্লাং হাসপাতালে।

হাসপাতাল তার পরিচয় এবং চিকিৎসা খরচের কথা উল্লেখ করে চিঠি দেয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে। ইতিমধ্যে তাকে সাবা বারনাম হাসপাতালে শিফট করে ক্লাং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আবারও চিঠি দেয় হাইকমিশনে। হাইকমিশন থেকে লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মি. সিলভা এবং ওয়েলফেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট মোকসেদ আলী হাসপাতালে গিয়ে দেখে আসেন।

কিন্তু মতিয়ার কথা বলতে পারেন না, বাড়ি কোথায় কিছু জানা সম্ভব না হওয়ায় তার নাগরিকত্ব নির্ণয়ে ঢাকায় চিঠি দেয় হাইকমিশন। তার পরিচয় শনাক্ত করতে সংবাদ ও সোশ্যাল মিডিয়াতেও মতিয়ারের ছবি প্রচার করা হয়।

সিলেট ও চট্টগ্রামের পরিবারের লোক হাসপাতালে গিয়ে শনাক্ত করে তাদের স্বজন এই মতিয়ার নয়। ফোন আসে পাবনার এসপির কাছ থেকে তিনি জানান মতিয়ারের পরিবারের লোকজন বাস করে পাবনার সাঁথিয়ায়। আবারও হাসপাতালে হাজির হয় হাইকমিশনের টিম।

শুরু হয় ভিডিও কল, তারা দেখে চিনতে পারে এবং শনাক্ত করার জন্য তার ডান হাতের আঙুল কাটার কথা বলে, যা হাসপাতাল বা হাইকমিশন কেউই আগে খেয়াল করেনি। কিন্তু তাদের দেয়া তথ্যমতে সব মিলে যায়। হাইকমিশন নিশ্চিত হয় মতিয়ারের আসল নাম মর্তুজা আলী। তার মেয়ে পপি জানান, মতিয়ার পরিবারের কষ্টের চিন্তায় অস্থির থাকতেন সবসময়। তাই দালালকে ৬ লাখ টাকা দিয়ে অনেকটা গোপনেই মালয়েশিয়া যান। কিন্তু সংসারে সুখ আসেনি। বরং বাবা হয়েছেন পঙ্গু।'

এবার পরিবারের সান্নিধ্যে যাওয়ার সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছে হাইকমিশন। হাইকমিশনের ওয়েলফেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট মোকসেদ আলি মতিয়ারকে ২২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার (বাড়িতে) স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিবেন বলে জানালেন হাইকমিশনের শ্রম শাখার প্রথম সচিব মো. হেদায়েতুল ইসলাম মণ্ডল।

এ দিকে গত কয়েক দিন ধরে ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পর মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী জন হিতৈষীরা অর্থ দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। গঠন করা হয়েছে মতিয়ার তহবিল ফান্ড।

মতিয়ারের স্বজন সাংবাদিক মোহাম্মদ আলী এ প্রতিবেদককে জানান, বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পর জনহিতৈষীরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। এরই মধ্যে মতিয়ারের স্পেশাল পাসের জন্য ৩ হাজার ১০০ রিঙ্গিত পরিশোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতাল ও বিমান টিকিটসহ যাবতীয় খরচ বহনের দায়িত্ব নিয়েছেন হাইকমিশন।

জনহিতৈষীদের দেয়া টাকা মতিয়ারের স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে বলে জানালেন সাংবাদিক মোহাম্মদ আলী।

হাইকমিশনের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মতিয়ারকে দেশে পাঠানোসহ তার এ অবস্থার দায়ী (ব্যক্তি) দালালের বিরুদ্ধে চলছে আইনি প্রক্রিয়া। এরই মধ্যে দালালের নামসহ দেশে গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলর অতিরিক্ত সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম জানান, বিদেশে অবৈধ পথে আসা পরিহার না করলে মতিয়ারের মতো বিপদে পড়তে হয়।

তিনি বলেন, হাইকমিশন থেকে অবৈধ পথে মালয়েশিয়ায় না আসার জন্য জনসচেতনতামূলক সভা সেমিনার করা হয়েছে এবং অব্যাহত আছে। সচেতন করার পরে ও আমাদের দেশের নাগরিকরা দালালের প্ররোচনায় অবৈধ পথে মালয়েশিয়া আসছেন। এসেই মতিয়ারের মতো বিপদে পড়েন তখন কিছু করার থাকে না।

শ্রম কাউন্সিলর বলেন, মতিয়ারের এ অবস্থার দায়ী ব্যক্তিকে ধরতে ইতিমধ্যে কাজ চলছে।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×