ধুমপান এবং জনসচেতনতা

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

  মো. শরীফ উদ্দিন, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে

সেদিন সকালে বাসা থেকে বাহির হলাম আমার হাতের ইশারায় রিক্সাটা থেমে গেল৷ রিক্সা চালকের বয়স প্রায় ৬০।

রিক্সা থামাতে থামাতে হাতের জ্বলন্ত সিগারেটটা প্রথমে তিনি লুকালেন, তারপর আড়াল করে ফেলে দিলেন৷ 

আমি ভাড়া দিয়ে সামনে পা বাড়ালাম। এমন সময় রিক্সাচালক আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, বেয়াদবি নেবেন না স্যার৷ সব সময় খাই না৷ শুধু মাঝে মাঝে দু'একটা খাই৷

একথা শুনতে না শুনতে ১৮/২০ বছরের একটা স্মার্ট ছেলে সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে বলল―এই রিক্সা কলেজে যাবি, চল। আমি হাঁ করে তাকিয়ে রইলাম, সে এমন একটা ভাব নিয়ে সিগারেটের ধূয়া উপরের দিকে ছাড়লো, দেখলো সে সিগারেটের ধূয়া কতদূর উপরে যায়।

আমি গেলাম ব্যাংকে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার জন্য, এখানেও ম্যানেজার সিগারেট খাচ্ছে। এমন অবস্থা দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেল। আমি বাসায় চলে আসলাম। 
বিকেলে এলাকার মসজিদে আসর নামাজ শেষ করে পাশের চায়ের দোকানে বসলাম। দোকানেরে ভেতর প্রায় ২৫/৩০জন আমরা বুট, মুড়ি, পেয়াজু খাচ্ছি।

এমন সময় চোখে চশমা পরা একটা ছেলে এসে দোকানদারকে বলতেছে, এই একটা সিগারেট দে। আমরা সবাই হাঁ করে তাকিয়ে রইলাম। ছেলেটি সিগারেট ধরালো। আমি বল্লাম এই ছেলে এখানে আসো? তোমার নাম কি? বাড়ী কোথায়? আমরা এতোগুলো মানুষ এখানে তোমার শ্রদ্ধাবোধ কিছু নাই, তুমি সিগারেট খাচ্ছো? এতো অল্প বয়সে সিগারেট খাচ্ছো কেন? ছেলে বললো আমার নাম তানসেন বাম পাশের এটা আমার বাড়ী। সিগারেট খাচ্ছি কি হয়েছে! আমি এখন ইন্টারে পড়ি।

কারো বাপের টাকায়তো সিগারেট খাইনা। এই ছেলে তুমি আমাকে চেনো? ছেলেঃ না। এখানে প্রায় সবাই তোমার বাপ, দাদার বয়সের। তুমি কি জানো! তোমার বাবাকে সিগারেট খাওয়ার অপরাধে কান ধরে উঠবস করতে হয়েছিল? এরা সবাই জানে। আজ যদি বীর-মুক্তিযোদ্ধা আবুছায়েদ চেয়ারম্যান থাকতো তোমাকেও তাই করতে হতো। মানির মান আল্লাহ রাখে।

হাটতে হাটতে গিয়ে বসলাম সাংবাদিক গিয়াস উদ্দিন রনি সাহেবের অফিসে, ওনিও একটু আড়ালে গিয়ে সিগারেট খাচ্ছেন। আমাকে বলেন কিছু মনে করবেন না। মাঝে মধ্যে দু'একটা খাই। 

আমি বলিঃ সচেতন নাগরিক হয়ে আপনি ধুমপান করছেন কেন?
সাংবাদিক রনিঃ চলুন আমার সঙ্গে আপনাকে আজ দেখাবো। নিয়ে গেলেন চর কাঁকড়া একাডেমী উচ্চ বিদ্যালয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন সিগারেট খাচ্ছেন। রনি ভাই বললেন স্কুলের অফিস কক্ষে আপনি ধুমপান করেন?
শিক্ষকঃ আমার ভুল হয়েগেছে।
স্কুলের বিরতির সময় মাঠের এক কোনে কয়েকজন ছাত্র জড়ো হয়ে ধুমপান করতেছে। আমি আর কি বলবো আমার বাকশক্তি বন্ধ হয়েগেলো।

কলেজের অফিসে শিক্ষক সিগারেট খাচ্ছেন, মাঠের কোনায় বসে জোগায় জোড়ায় ছাত্র-ছাত্রীরা হাতে হাত রেখে শপথ নিচ্ছে আবার কিছু ছাত্র-ছাত্রী কয়েকজন জড়ো হয়ে আড্ডা দিচ্ছে আর সিগারেট খাচ্ছে। 

হাসপাতালের ডা: গোলাম মাওলা সাহেব বলতেছেন রুগিকে সিগারেট খাওয়া বন্ধ করতে হবে, না করলে আপনার ক্যান্সার হবে। অথচ ডাঃ সাহেব নিজে সিগারেট খাচ্ছেন। 

প্রকাশ্যে ধুমপান করলে ৫০০টাকা জরিমানা। ভাবলাম থানায় গিয়ে নালিশ করে আসি। ওয়াও একি, থানায় ঢোকার আগে চোখে পড়লো, এক কোনে পুলিশ সিগারেট খাচ্ছে। বাহিরে চলে আসতে দেখা হলো উকিল শাহীন সাহেবের সঙ্গে তার হাতেও সিগারেট।
মনে মনে ভাবলাম, মনের মধ্যে একটা ভাবনা আসলো নিশ্চয়ই এইটা রাজনৈতিক স্লোগান! না...তাহলে এটা কি? ‘সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ, ধুমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতি কর’ এটা কি নিছক শ্লোগান।

সম্মানিত পাঠক, আপনার সন্তানদেরকে ধুমপান থেকে মুক্ত রাখতে, আপনি কি সচেতন? পরিবার, সমাজ, দেশ যারা পরিচালনা করেন সবাই সচেতন হওয়ার মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা দরকার।